রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডের কাঁটাবনে একটি বহুতল ভবনের ১২ তলার দুটি ফ্ল্যাটে অগ্নিকা-ে দগ্ধ হয়ে দুজন নিহত হয়েছেন। গত শুক্রবার রাত ১টার দিকে এলিফ্যান্ট রোডের ১৪ তলা বিশিষ্ট আল-বারাকা টাওয়ারের ১২ তলায় এই অগ্নিকা-ের ঘটনা ঘটে। অগ্নিকা-ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর আবদুল্লাহ আল নোমানের ব্যক্তিগত ’ল চেম্বারের কাগজপত্র পুড়ে গেছে বলে তিনি জানিয়েছেন। নিহতরা হলেনÑ ওই চেম্বারে থাকা দুই কর্মী।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স নিয়ন্ত্রণ কক্ষের কর্মকর্তা মো. শিহাব সরকার জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ৬টি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে রাত ৩টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ভোর ৫টা ৪০ মিনিটে আগুন সম্পূর্ণভাবে নিভানো হয়। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ভবনটি থেকে দুজনকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতরা হলেনÑ কিশোরগঞ্জ জেলার বাবুল মিয়ার ছেলে মো. জনি (২৪) এবং বগুড়ার কাহালু উপজেলার সেলিম সরকারের ছেলে আব্দুস সালাম (২০)। নিহত জনি ব্যারিস্টার মোয়াজ্জেমের সহকারী (ক্লার্ক) এবং সালাম আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর আবদুল্লাহ আল নোমানের সহকারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
দগ্ধদের হাসপাতালে নিয়ে আসা মো. নাজমুল সরোয়ার জানান, রাত ১টার দিকে আগুন লাগার পর ভবনের ওপরের তলাগুলো ধোঁয়ায় ভরে যায়। ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফারুক চিকিৎসকের বরাত দিয়ে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মরদেহ ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গে রাখা হয়েছে। তবে অগ্নিকা-ের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
আগুন লাগার সময়ের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন প্রসিকিউটর আবদুল্লাহ আল নোমান। তার অভিযোগ, কোনো কারণে তার চেম্বারে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রসিকিউটর আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, ‘১৪ তলা ভবনটির ১২ তলায় চারটি অ্যাপার্টমেন্টের তিনটিতে চেম্বার এবং একটিতে বাসা। এর মধ্যে ডি-১-এ তার চেম্বার। সেখানে লাগা আগুনে তার ৮০ লাখ টাকার মতো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে’।
প্রসিকিউটর আবদুল্লাহ আল নোমান আরও বলেন, ‘চেম্বারের দাপ্তরিক সহকারী মো. আবদুস সালাম গতকাল রাত ১২টা ৪৭ মিনিটে ফোন করে আগুন লাগার খবর জানান। কিন্তু ১২টা ২৭ মিনিটের পর থেকে তার চেম্বারের আউটডোরে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরার রেকর্ড নেই। ১২টা ২৭ মিনিট থেকে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ ‘নো রেকর্ড’ দেখাচ্ছে। হয় সিসিটিভি ক্যামেরা পুড়ে গেছে, নয়তো আগুন দেওয়ার আগে কেউ সিসিটিভি ক্যামেরার মেমোরি কার্ড সরিয়ে ফেলেছে বলে অভিযোগ করেন প্রসিকিউটর’।
বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট বা কোনো দুর্ঘটনা থেকে আগুন লাগেনি বলে মনে করেন প্রসিকিউটর আবদুল্লাহ আল নোমান। চেম্বারে আগুন লাগার যৌক্তিক কারণ নেই বলেও জানান প্রসিকিউটর। তার চেম্বারে রান্না হয় না। কর্মচারীরা ধূমপানও করেন না। কয়েলও জ্বালানো হয় না। রাতে এসিও চলত না। আগুনের সূত্রপাত প্রধান দরজা থেকে। প্রধান দরজায় আগুন ধরার কারণে কর্মচারীরা বের হতে পারেননি। দুজনই মারা গেছেন।
এ বিষয়ে আবদুল্লাহ আল নোমান জানান, কর্মচারি আবদুস সালাম তাকে ফোন দিয়ে বলেন, ‘স্যার, আমাকে বাঁচান। চেম্বারে আগুন ধরছে, আমি তো বের হতে পারতেছি না।’ শুধু এ কথাই বলতে পেরেছেন আবদুস সালাম। তারপর আর ফোন ধরেননি। সঙ্গে সঙ্গে ৯৯৯ নম্বরে তিনি ফোন দেন। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার কাজে ফায়ার সার্ভিস দেরি করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
প্রসিকিউটরের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নিউমার্কেট থানার ওসি মোহাম্মদ আইয়ুব হোসেন বলেন, ‘আগুনের সূত্রপাতের কারণ এখনই বলা যাচ্ছে না। ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকেও এখনো কিছু বলা হয়নি। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হবে। এ ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীর মতামতও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে’।
আগুন নেভাতে দেরি করার অভিযোগের বিষয়ে ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাহজাহান শিকদার বলেন, ‘আইন অনুযায়ী বহুতল ভবনের নিজস্ব অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকতে হয়। কিন্তু কাঁটাবনের ওই ভবনে নিজস্ব কোনো ব্যবস্থা ছিল না। ফায়ার সার্ভিসের নিজস্ব পাইপ দিয়ে অনেক নিচ থেকে পানি নিয়ে ১৩ তলার ওপরে আগুন নেভানোর কাজ করতে হয়েছে। এতে সময় বেশি লেগেছে’।

