জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৮তম সিনেট অধিবেশনে ৮০১ কোটি ৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা বাজেট অনুমোদন করা হয়েছে। পাশাপাশি গত অর্থবছরের ৬৬৪ কোটি ৮ লাখ ৪১ হাজার টাকা সংশোধিত বাজেটও সর্বসম্মতভাবে অনুমোদিত হয়েছে। গতকাল শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের গাজীপুর ক্যাম্পাসের সিনেট হলে এই অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর ও সিনেট চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ। অধিবেশনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মূল বাজেট এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট উপস্থাপন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. এটিএম জাফরুল আযম।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের মানোন্নয়নে গৃহীত বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরে উপাচার্য বলেন, বিশ্ব আজ এক অভূতপূর্ব রূপান্তরের যুগ অতিক্রম করছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, চতুর্থ শিল্পবিপ্লব, জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার এই যুগে বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব কেবল ডিগ্রি প্রদান নয়, বরং এমন মানবসম্পদ গড়ে তোলা, যারা পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে সক্ষম। আমরা বিশ্বাস করি ভবিষ্যতের বাংলাদেশ গড়ে উঠবে এমন প্রজন্মের হাত ধরে, যারা কেবল তথ্যের ধারক নয়, বরং জ্ঞান সৃষ্টিকারী; যারা চাকরি প্রার্থী নয়, কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী; যারা পরিবর্তনের শিকার নয়, বরং পরিবর্তনের নেতৃত্বদানকারী’।
অভিভাষণে সিনেট চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘২০০৪ খ্রিষ্টাব্দে মনিরুজ্জামান মিয়া কমিশন, এম এ বারী কমিশনের মাধ্যমে যাবতীয় সুপারিশ গ্রহণের মাধ্যমে গ্রামীণ পর্যায়ে কলেজভিত্তিক উচ্চ শিক্ষায় জন-অংশগ্রহণ, গবেষণায় সুযোগ বৃদ্ধি, পরীক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন ও স্থায়ী শিক্ষা কমিশন গঠনের সুপারিশ করে। এসব সুপারিশের কোনোটিই আলোর মুখ দেখেনি। আমরা মনে করি, প্রচলিত কারিকুলামে ব্যাবহারিক ও কর্মমুখী শিক্ষাকে প্রাধান্য দিয়ে ঢেলে সাজাতে হবে। দেশ-বিদেশের বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে বিভিন্ন কমিটি দিয়ে শিক্ষার ভিশন ও মিশন ঠিক করতে হবে’।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে কলেজ র্যাঙ্কিং, মডেল কলেজ নির্বাচন, শতবর্ষী কলেজ উন্নয়ন, অধ্যক্ষ সম্মেলন ও শিক্ষাব্যবস্থায় সুশাসন নিশ্চিতে বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানান উপাচার্য।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের মূল বাজেটে রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে ৬১৭ কোটি ১৩ লক্ষ ৭৩ হাজার টাকা। ফলে ঘাটতি বাজেট ১৮৩ কোটি ৯০ লাখ ৮৭ হাজার টাকা। আর ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে রাজস্ব আয় ৬২৫ কোটি ২ লাখ ৭৭ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ঘাটতি রয়েছে ৩৯ কোটি ৫ লাখ ৬৪ হাজার টাকা।
সিনেট চেয়ারম্যানের অভিভাষণের ওপর আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন সিনেট সদস্যগণ। তারা নানা পরামর্শ দেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসনের উদ্যোগ বাস্তবায়নে পাশে থাকার আশ্বাস দেন। সিনেট অধিবেশনের শুরুতে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা হয় এবং পরে দেশের বিশিষ্ট নাগরিক, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব উত্থাপন এবং তা সর্বসম্মতভাবে অনুমোদিত হয়। তাদের স্মরণে সব সদস্য এক মিনিট নীরবতা পালন করেন।
অধিবেশনে সিনেট সদস্য ও পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এবং সংসদ সদস্য ইমরান আহমেদ চৌধুরী, ওয়ারেস আলী মামুন, আবুল হোসেন খান ও জি এম সিরাজ উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ড. এ আই মাহবুব উদ্দিন আহমেদ, বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক উপস্থিত ছিলেন। অনলাইনে যুক্ত ছিলেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক এবং বিভাগীয় কমিশনারবৃন্দ। সিনেট অধিবেশনে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর মো. লুৎফর রহমান ও প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, পিআইবি মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফসহ ৭০ জন সিনেট সদস্য উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য, আমন্ত্রিত অতিথি, সব ডিন, রেজিস্ট্রার, শিক্ষক ও বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন।

