ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই, ২০২৬

জোর করে নয়, শিশুকে সবজি খেতে অভ্যস্ত করুন কৌশলে

রূপালী ডেস্ক
প্রকাশিত: জুলাই ২, ২০২৬, ০৬:২৩ এএম

শিশুদের পর্যাপ্ত পরিমাণে শাকসবজি খাওয়ানো অধিকাংশ মা-বাবার জন্যই একটি বড় চ্যালেঞ্জ। শৈশব থেকেই মিষ্টি খাবারের প্রতি সহজাত আকর্ষণের কারণে ব্রকলি বা পালং শাকের মতো পুষ্টিকর সবজি দেখলেই অনেক শিশু মুখ ফিরিয়ে নেয়। তবে পুষ্টিবিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলেছেন, সুষম খাদ্যের অভাব শিশুর চিন্তাশক্তি, মনোযোগ ও আচরণের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং দীর্ঘ মেয়াদে স্থূলতার ঝুঁকি বাড়ায়। এই সমস্যার সমাধানে গবেষকরা জোরজবরদস্তির পরিবর্তে প্রতিদিনের অভ্যাসে কিছু সহজ ও বিজ্ঞানসম্মত পরিবর্তনের পরামর্শ দিয়েছেন।

যুক্তরাজ্যের লিডস ইউনিভার্সিটির গবেষকদের মতে, শিশুকে সবজি খাওয়ানোর অভ্যাস গড়ে তোলার সবচেয়ে উপযুক্ত সময় হলো তার প্রাক-স্কুল বা পাঁচ বছর বয়স হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত। এই বয়সে একটি নতুন খাবার শিশুর খাদ্যতালিকায় স্থায়ী করতে ৫ থেকে ১৫ বার পর্যন্ত তা ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে সামনে আনা প্রয়োজন। এ ছাড়া, মূল খাবারের শুরুতেÑ যখন শিশুর ক্ষুধা সবচেয়ে বেশি থাকেÑ তখন সবজি পরিবেশন করলে তা খাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়। সকালের নাশতায় অন্য খাবারের সঙ্গে সবজি লুকিয়ে দেওয়াও একটি কার্যকর কৌশল হতে পারে।

পাশাপাশি, খাবারের প্লেটে উচ্চ ক্যালরিযুক্ত উপাদানের অনুপাত কমিয়ে সবজি ও ফলের পরিমাণ ৫০ শতাংশ বাড়িয়ে দিলে শিশুরা অজান্তেই বেশি সবজি গ্রহণ করে। আরেকটি বড় বিষয় হলো পরিবেশন ও উপস্থাপন। সবজি বা ফলমূল সুন্দর কোনো নকশায় বা খেলনার আকারে কেটে দিলে তা শিশুদের কাছে দ্রুত গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠে। গবেষকরা আরও জানান, মা-বাবার নিজস্ব খাদ্যাভ্যাসও শিশুর ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। পরিবারে একসঙ্গে বসে পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার রেওয়াজ থাকলে শিশুরা অনায়াসেই সেই অভ্যাসে অভ্যস্ত হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের খাবার নিয়ে কোনো ধরনের মানসিক চাপ না দিয়ে একে আনন্দময় করে তোলা প্রয়োজন। রান্নার সময় শিশুকে সঙ্গে রাখা কিংবা সবজি খাওয়ার জন্য কোনো পুরস্কারের প্রলোভন না দেখিয়ে সেটিকে খেলার ছলে স্পর্শ করা, ঘ্রাণ নেওয়া বা চেনার স্বাধীনতা দিলে শিশুর নতুন খাবারের প্রতি ভয় বা অনীহা অনেকটাই কেটে যায়। সূত্র : বিবিসি