× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn
‘৮৮ ভিত্তি’ ধানের বীজে সমস্যা

ধর্মপাশায় ফলনে বিপর্যয় কৃষকের মাথায় হাত

ধর্মপাশা (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: এপ্রিল ২১, ২০২৬, ০১:২১ এএম

ধর্মপাশায় ফলনে বিপর্যয়  কৃষকের মাথায় হাত

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলায় চলতি মৌসুমে ‘৮৮ ভিত্তি’ ধানের বীজে সমস্যার কারণে ফলনে মারাত্মক বিঘœ ঘটেছে। এর সঙ্গে ফাল্গুন-চৈত্র মাসের অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতা মিলিয়ে হাওরাঞ্চলের কৃষকরা চরম বিপাকে পড়েছেন। অনেকেই তাদের একমাত্র ফসল ঘরে তুলতে পারবেন কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তায় রয়েছেন।

গতকাল সোমবার সকাল থেকে উপজেলার বিভিন্ন হাওর ঘুরে দেখা যায়, অতিবৃষ্টির কারণে জমিতে পানি জমে রয়েছে। অনেক খেত পানিতে তলিয়ে গেছে। জমির পাশ দিয়ে হাঁটলে পচা ধানের গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। যেসব জমি আংশিক পানির ওপর ভাসমান রয়েছে, সেখানেও দেখা গেছে ধানের অস্বাভাবিক অবস্থা। ‘৮৮ ভিত্তি’ ধানের বীজে সমস্যার কারণে তিন ভাগের এক ভাগ ধান পেকে গেলেও বাকি দুই ভাগ কাঁচা রয়ে গেছে। ফলে কৃষকের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ধান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

জমিতে পানি থাকায় হার্ভেস্টার মেশিন দিয়ে ধান কাটা সম্ভব হচ্ছে না। আবার শ্রমিক সংকটও তীব্র। দৈনিক ১৫০০ থেকে ১৬০০ টাকা মজুরি দিয়েও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। এতে কৃষকের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। হাওরবাসী জানায়, বছরে একমাত্র ফসলও এবার ঘরে তোলা কঠিন হয়ে পড়েছে।

উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কৃষক ও ধান ব্যবসায়ী মঞ্জুরুল হক বলেন, ‘কৃষি অফিসের পরামর্শে ৮৮ ভিত্তি ধানের বীজ ব্যবহার করেছি। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে একই জমিতে দুই-তিন স্তরের ধান হয়েছে। এতে শ্রমিক দিয়ে ধান কাটা যাচ্ছে না। জলাবদ্ধতায় অনেক ফসল পানির নিচে। আমার মতো শত শত কৃষকের একই অবস্থা। আমাদের এলাকায় প্রায় ৯০ শতাংশ বর্গাচাষি। তাদের অবস্থা আরও ভয়াবহ। বীজের কারণেই এই বিপর্যয় হয়েছে। আমরা তদন্ত করে এর সমাধান চাই।’

বর্গাচাষি জানু মিয়া বলেন, ‘৮৮ ভিত্তি ধানের বীজ লাগানোর পর দেখা গেছে কিছু ধান পেকে গেছে, আবার কিছু এখনো বাড়ছে। মনে হয় ৮৮-এর সঙ্গে ৯২ ধানের বীজ মিশে গেছে। এ কারণে ঠিকমতো ধান কাটাও সম্ভব হচ্ছে না। এতে অর্ধেক ফসলও ঘরে তোলা কঠিন হয়ে পড়বে।’

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আসয়াদ বিন খলিল রাহাত জানান, এ ধরনের অভিযোগ তিনি পেয়েছেন এবং মাঠপর্যায়ে পরিদর্শন করে এর সত্যতা মিলেছে। তিনি বলেন, ‘৮৮ ভিত্তি ধানের বীজের সঙ্গে ৯২ ধানের বীজ মিশে যাওয়ার কারণেই এ সমস্যা তৈরি হয়েছে। ৮৮ ধান আগে পেকে যায়, কিন্তু ৯২ ধান দেরিতে পাকে। ফলে একই জমিতে এক অংশ পাকা ও অন্য অংশ কাঁচা থাকছে। এতে কৃষক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।’

তিনি আরও জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত এবং সংশ্লিষ্ট ছবি ও তথ্য উপপরিচালকের কাছে পাঠানো হয়েছে। তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বাস পাওয়া গেছে।

কৃষকদের দাবি, দ্রুত তদন্ত করে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ ও ভবিষ্যতে এ ধরনের সমস্যা এড়াতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হোক।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!