× UCB Sticker Card
শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

সিলেট ব্যুরো

প্রকাশিত: জুন ১০, ২০২৬, ০৫:৩৩ এএম

সিলেটের বাজার

সবজিতে আগুন, মুরগিতে স্বস্তি

সিলেট ব্যুরো

প্রকাশিত: জুন ১০, ২০২৬, ০৫:৩৩ এএম

সবজিতে আগুন, মুরগিতে স্বস্তি

পবিত্র ঈদুল আজহার রেশ কাটতে না কাটতে সিলেট নগরীর কাঁচাবাজারগুলোতে দেখা দিয়েছে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি। সাধারণত উৎসব-পরবর্তী সময়ে মানুষের আনাগোনা কম থাকায় নিত্যপণ্যের চাহিদা ও দাম দুটোই কিছুটা শিথিল থাকে। কিন্তু সিলেটের বন্দরবাজার, আম্বরখানা ও সোবহানীঘাটসহ প্রধান প্রধান পাইকারি ও খুচরা বাজারে ঘটছে ঠিক উল্টোটা। ক্রেতা-বিক্রেতার উপস্থিতি কম থাকা সত্ত্বেও শাকসবজির দাম আকাশচুম্বী, যা সাধারণ ভোক্তাদের ক্ষোভ ও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র দেখা গেছে মুরগির বাজারে। ঈদের পর মাংসের চাহিদা একেবারে তলানিতে নামায় ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত কমেছে।

গতকাল মঙ্গলবার সকালে নগরীর বেশ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, সাধারণ ক্রেতাদের ভিড় নেই বললেই চলে, অনেক দোকান এখনো বন্ধ। কিন্তু এই মন্দাভাবের মধ্যেও প্রতিটি গ্রীষ্মকালীন সবজি বিক্রি হচ্ছে চড়ামূল্যে। ঈদের আগে যে কাঁচামরিচ ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে, তা এখন ২০০ থেকে ২৫০ টাকায় ঠেকেছে। একইভাবে ঈদের আগে ৮০ টাকা কেজিতে পাওয়া টমেটো এখন বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১৩০ টাকায়। ৬০ টাকা কেজির লম্বা বেগুন ৯০ টাকা। শসা, ঝিঙা ও কাঁচা পেঁপের মতো সাধারণ সবজি, যা ঈদের আগে ৫০ থেকে ৬০ টাকা ছিল, তা এখন ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ঈদের আগে যে লেবু ২০ থেকে ৩০ টাকা হালিতে বিক্রি হতো, তা এখন ৪০ থেকে ৫০ টাকা।

সবজির এই অস্বাভাবিক দামের পেছনে খুচরা বিক্রেতারা ‘সরবরাহ সংকট’ এবং আড়তদারদের বাড়তি দামের কথা বলছেন। তাদের দাবি, ঈদের ছুটির কারণে উত্তরবঙ্গসহ দেশের দূর-দূরান্ত থেকে কাঁচামালবাহী ট্রাক সিলেটে কম আসছে। তবে সাধারণ ভোক্তা এবং বাজার বিশ্লেষকদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা বলছে অন্য কথা। সিলেটে স্থানীয়ভাবে সবজির উৎপাদন দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় বেশ কম। ফলে সিলেটকে সব সময়ই কুষ্টিয়া, যশোর ও বগুড়ার মতো দূরবর্তী জেলার সরবরাহের ওপর নির্ভর করতে হয়। এই কাঠামোগত দুর্বলতাকেই স্থানীয় আড়তদার ও মধ্যস্বত্বভোগীদের সিন্ডিকেট সব সময় হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে। ঈদের ছুটিতে প্রশাসনের বাজার নজরদারি ঢিলেঢালা থাকায় ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়িয়েছেন।

এদিকে ব্যবসায়ীরা জানান, বাজারের এই অস্থিরতার পেছনে সাম্প্রতিক বৈরী আবহাওয়া এবং সিলেটের সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতিও বড় অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের অতিবৃষ্টির পূর্বাভাস এবং নদ-নদীর পানি বৃদ্ধির খবরে চাষি ও পাইকাররা আগাম সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। অনেক নিচু অঞ্চলের সবজিক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কায় সরবরাহব্যবস্থা কিছুটা বিঘিœত হচ্ছে, আর এই মনস্তাত্ত্বিক সুযোগটিকে কাজে লাগিয়ে মধ্যস্বত্বভোগীরা দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সোবহানীঘাটের সবজির আড়তদার জয়নুল মিয়া বলেন, সরবরাহ আগের তুলনায় কম। ঝড়-বৃষ্টিও হচ্ছে। এ কারণে দাম খানিকটা বেশিই বলা চলে। তবে আমরা আশা করছি, আগামী সপ্তাহ থেকে দাম কমতে পারে।

সবজির বাজারে যখন আগুন, তখন মাংসের বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। ঈদের আগে বাজারে মাংসের বাড়তি চাহিদার কারণে ব্রয়লার মুরগি ১৬৫ থেকে ১৮০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩৪০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়। কিন্তু ঈদ-পরবর্তী সময়ের চিত্র উল্টো। বাজারে ব্রয়লার মুরগি কেজিতে ১০-১৫ টাকা কমে ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকায় এবং সোনালি মুরগি কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা কমে ৩২০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়। ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদের পর প্রায় প্রতিটি ঘরেই কোরবানির মাংসের পর্যাপ্ত মজুত থাকায় মুরগির চাহিদা নেই বললেই চলে। লোকসান এড়াতে খামারি ও পাইকাররা দাম কমাতে বাধ্য হয়েছেন। আম্বরখানার মুরগি ব্যবসায়ী শাহিন আহমেদ বলেন, স্বস্তির বাজারে ক্রেতাকে কিছুটা কম দামে মুরগি দেওয়া যাচ্ছে ফার্মে মুরগির দাম কম বলে। গরমে আর না-ও বাড়তে পারে। একজন ফার্ম ব্যবসায়ী জানান, মুরগির বাচ্চার দামের ওপর কিছুটা নির্ভর করে বাজার। যখন বেশি দামে বাচ্চা কিনতে হয়, তখন বিক্রিও করতে হয় পুঁজি বাঁচিয়ে।

মুরগির বাজার খানিকটা স্বস্তি দিলেও কমসংখ্যক ক্রেতা নিয়ে জমে থাকা সবজির বাজারে আকাশচুম্বী দাম কোনোভাবেই যৌক্তিক নয় বলে মনে করছেন সচেতন সিলেটবাসী। স্থানীয়দের দাবি, ঈদের আমেজ কাটিয়ে দ্রুতই জেলা প্রশাসন ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে বাজার মনিটরিং ও মাঠ পর্যায়ের টহল জোরদার করা হোক, যাতে কোনো সিন্ডিকেট কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করতে না পারে।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!