জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেত্রী মনিরা শারমিনকে নিয়ে ‘বিস্ফোরক’ মন্তব্য করেছেন গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদ সদস্য ও গণমাধ্যম সমন্বয়ক আবু হানিফ। তিনি বলেছেন, কথিত আছে মনিরা শারমিন এক ছাত্রলীগ নেতাকে বিয়ে করে সরকারি চাকরি নিয়েছিলেন। গতকাল শনিবার রাতে এক পোস্ট এমন দাবি করেন তিনি। এ দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নিজেকে অবিবাহিত বলে দাবি করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেত্রী মনিরা শারমিন। তিনি বলেছেন, এখনো বিয়েই করিনি, গণঅধিকারের কিছু নেতা গুজব ছড়াচ্ছেন।
এর আগে আবু হানিফ বলেন, মনিরা শারমিন আমাদের সঙ্গে ২০১৮ সালে কিছুদিন আন্দোলন সংগ্রামে ছিলেন। এরপর ক্যারিয়ার মুখ্য হয়ে ওঠে তার কাছে। কথিত আছে, ছাত্রলীগ নেতাকে বিয়ে করে সরকারি চাকরি নিয়েছিলেন মনিরা শারমিন। এরপর আর অন্যায়-অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে দেখা যায়নি। জুলাই অভ্যুত্থানের শেষ দিকে এসে অনেকটা হাজিরা দিয়েই বড় নেত্রী বনে গেছেন। তার চেয়ে নুসরাত তাবাসসুমদের ভূমিকা হাজার গুণ বেশি। হাসিনার পতন না হলে মনিরা শারমিনরা এখনো আরামে সরকারি চাকরি করতেন। ফ্যাসিবাদের আচড়ও তাদের গায়ে লাগত না। তিনি পোস্টে লেখেন, নুরুল হক নুর ১৯ সালে বলেছিলেন, শেখ হাসিনার চেহারায় মায়ের প্রতিচ্ছবি দেখা যায়। অবশ্য এর পরের দিনই মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলনে হাসিনাকে স্বৈরাচার বলেছিলেন। এমনকি অসংখ্যবার হাসিনার পতন চেয়ে রাজপথে আন্দোলন করেছেন। যার ফলে বারবার হামলার শিকার হয়েছেন নুরুল হক নুরসহ গণঅধিকার পরিষদের অসংখ্য নেতাকর্মী। সবশেষ জুলাই আন্দোলনের সময়ও নুরুল হক নুর রিমান্ডে ছিলেন। হাসিনার পতন না হলে নুরের কতদিন জেলে থাকা লাগত বা আদৌ মুক্ত হতো কি না তা বলা কঠিন।
আবু হানিফ আরও লেখেন, নুরুল হক নুরের যখন আর কোনো দোষ খুঁজে না পায়, তখনই ওই এক গান বারবার বাজায় এই মনিরা শারমিনরা। অথচ সারা বাংলাদেশের জনগণ জানে, এই গণঅভ্যুত্থানের উদ্যোক্তা সংগঠন গণঅধিকার পরিষদ ও নুরুল হক নুর। ক্রেডিট নেওয়ার অনেক উপায় আছে। কিন্তু নুরের অবদানকে অস্বীকার করে নিজেদের মহান করার কোনো সুযোগ নাই।
এর আগে এনসিপি নেত্রী মনিরা শারমিন ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে লিখেন, ‘নুরুল হক নুর, আমার সহযোদ্ধা যতবার বলেন, জুলাই আন্দোলনের ছাত্রদের তারা তৈরি করেছেন, ততবার আমার মনে পড়ে পুরোনো দিনের কথা। যখন নুরকে আমরা নেতা বানাইছিলাম। কিন্তু তিনি আম্মা ডাকছিলেন হাসিনারে।
এদিকে আবু হানিফের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে মনিরা বলেন, ডাকসুর সাবেক ভিপি ও বর্তমান প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর জুলাই গণঅভ্যুত্থানের নেতাদের নিয়ে বারবার তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যপূর্ণ বক্তব্য দিয়ে আসছেন। এর প্রতিবাদে আমি একটি ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়েছিলাম। কারণ ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনে আমরা একসঙ্গে আন্দোলন করেছি এবং পরবর্তীতে ২০২২ সাল পর্যন্ত ধারাবাহিক আন্দোলনের অভিজ্ঞতা থেকে আমি মনে করি, সে সময়ের নুরুল হক নুরসহ শীর্ষ নেতৃত্ব আমাদের আশাবাদী করলেও তাদের আপসকামী রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে তরুণদের রাজনৈতিক আকাক্সক্ষার পূর্ণ প্রতিফলন ঘটেনি।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন