খ্যাতনামা মেডিসিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহর ‘আজীবন প্রফেসর ইমেরিটাস’ পদ বাতিলের বিষয়ে অস্বস্তিতে রয়েছে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয় (বিএমইউ) কর্তৃপক্ষ। গতকাল শনিবার বিশ^বিদ্যালয়ের বাজেট নিয়ে ১০০তম সিন্ডিকেট সভায় এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে গেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এদিন সারা বছরের ব্যয় নির্বাহে ১ হাজার ৪০ কোটি টাকার বাজেট অনুমোদন হয়েছে সিন্ডিকেট সভায়।
গতকাল শনিবার বাজেট নিয়ে ১০০তম সিন্ডিকেট সভা ছিল বিশ্ববিদ্যালয়টির। এদিন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) ট্রেজারার অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতার বলেন, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত পরিচালন ও উন্নয়ন বাজেট অনুষ্ঠিত ১০০তম সিন্ডিকেট সভায় ২৯তম বাজেট অধিবেশনের মাধ্যমে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে ৬৩৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন থেকে ১৩৬ কোটি ২৮ লাখ ৭ হাজার টাকা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আয় থেকে ১৬৩ কোটি টাকাসহ মোট ১০৩৯ কোটি ৫৪ লাখ ২৬ হাজার টাকার প্রস্তাবিত বাজেটে পাস হয়। বাজেটে ১০৫ কোটি ৪৬ লাখ ১৯ হাজার টাকা ঘাটতি বাজেট পরিলক্ষিত হয়; যা পরে সংশোধিত বাজেটে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চাহিদার মাধ্যমে সংকলন করা হবে।
তিনি বলেন, এবারের বাজেটের প্রতিপাদ্য বিষয় হলোÑ ‘আগামীর বাংলাদেশ যেন হয় সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ’। চিকিৎসা হবে প্রয়োজনের ভিত্তিতে, সামর্থ্যরে ভিত্তিতে নয়। একটি সুস্থ ও সমৃদ্ধ জাতি গঠনে চিকিৎসাসেবা এবং গবেষণাকে সর্বাধিক অগ্রাধিকার দিয়ে বাস্তবসম্মত, উন্নয়নমুখী ও জনকল্যাণকেন্দ্রিক এবং অর্থনৈতিক বাস্তবতার নিরিখে স্বাস্থ্য খাতের ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জ ও আধুনিক চিকিৎসা শিক্ষার পরবর্তী চাহিদা সামনে রেখে কস্ট কন্ট্রোল ও কস্ট রিডাকশন ব্যয়নীতি অনুসরণের মাধ্যমে এই বাজেট তৈরির পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। শিক্ষা ও একাডেমিক উন্নয়নে পাঠ্যক্রম আধুনিকায়ন; ডিজিটাল ক্লাসরুম ও ই-লার্নিং গবেষণার অনুদান বৃদ্ধি, আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামাদির সংযোজন, ইলেকট্রনিক মেডিকেল রেকর্ড চালসহ বিনা মূল্যে ওষুধ দিতে অতিরিক্ত টাকা বরাদ্দের গুরুত্ব দিয়ে মানবিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে এই বাজেট বলেও এ সময় জানানো হয়।
জানা যায়, বিএমইউর ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য বরাদ্দকৃত মোট ১ হাজার ৩৯ কোটি ৫৪ লাখ ২৬ হাজার টাকার প্রস্তাবিত বাজেটে ১০৫ কোটি ৪৬ লাখ ১৯ হাজার টাকার ঘাটতি রয়েছে। এদিন দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডা. মিলন হলে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতার ও পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) খন্দকার শরিফুল হাসান রতন বাজেটের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটের অর্থের উৎসের মধ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে ৬৩৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) থেকে ১৩৬ কোটি ২৮ লাখ ৭ হাজার টাকা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আয় থেকে ১৩৬ কোটি টাকা ধরা হয়েছে।
বিনা মূল্যে ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামে বড় বরাদ্দ : এবারের বাজেটে রোগীদের সেবার মান বাড়াতে বিনা মূল্যে ওষুধ বিতরণে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। বহির্বিভাগ ও অন্তঃবিভাগের রোগীদের বিনা মূল্যে ওষুধ দেওয়ার জন্য ২০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা গত অর্থবছরে ছিল ১২ কোটি টাকা এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ছিল মাত্র ৩ কোটি টাকা। হাইপারটেনশন ও ডায়াবেটিক রোগীদের প্রয়োজনীয় ওষুধ সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া আইসিইউ-এর জন্য জরুরি ইনজেকশন মেরোপেনাম, ইনডোর রোগীদের স্যালাইন এবং ওরাল অ্যান্টিবায়োটিকও বিনা মূল্যে দেওয়া হবে।
এদিকে বাজেট নিয়ে প্রশ্নোত্তর শেষে অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহর আজীবন প্রফেসর ইমেরিটাস বাতিল এবং সম্প্রতি মারা যাওয়া চিকিৎসকের বিষয়ে জানতে চাইলে তারা উত্তর দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এসব জবাব প্রশাসনের কাছ থেকে জেনে নিতে বলেন। অথচ উপাচার্য ছাড়া প্রশাসনের সবাই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। এ সময় সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন, এই প্রথম বাজেট সিন্ডিকেটের পর সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্য নেই। এর আগে এমনটি হয়নি। তিনি কি সাংবাদিকদের প্রশ্ন এড়িয়ে চলতেই এই কৌশল নিয়েছেন? এর সদুত্তর দিতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তারা বলেন, আজকে তারা শুধুই বাজেট ইস্যুতে কথা বলবেন।

