ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটিতে বড় ধরনের রদবদল আনা হয়েছে। দলের নতুন মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান। একই সঙ্গে চারজন যুগ্ম মহাসচিব, চারজন সহকারী মহাসচিব এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। দীর্ঘ ১৭ বছর মহাসচিবের দায়িত্ব পালনকারী অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুস আহমদকে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পরিষদ প্রেসিডিয়ামের সদস্য করা হয়েছে। গতকাল শনিবার রাজধানীর বিজয়নগরস্থ ফারস হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টসে অনুষ্ঠিত ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার বিশেষ বৈঠকে নতুন কমিটির ঘোষণা দেন দলের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (চরমোনাই পীর)।
নির্বাচনোত্তর কার্যক্রম পর্যালোচনা, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণে নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই বিশেষ শূরা অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ২০২৫-২৬ সাংগঠনিক কার্যক্রম পর্যালোচনা এবং দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সভাপতির বক্তব্যে চরমোনাই পীর বলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ গতানুগতিক কোনো রাজনৈতিক সংগঠন নয়; বরং শরিয়াহর পূর্ণ অনুসরণ ও বাস্তবায়নই দলের প্রধান লক্ষ্য। শরিয়াহ ও ইসলামকে প্রাধান্য দিয়েই দল রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণ করে। সময় থেকে শিক্ষা নিয়ে দলকে আরও সুসংহত করে আগামীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত হতে হবে। দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর ধারাবাহিক ব্যর্থতায় জাতির প্রত্যাশা পূরণের দায়িত্ব ইসলামী আন্দোলনের ওপর আরও বেড়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
দলের মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুস আহমদের উদ্বোধনী বক্তব্যের মাধ্যমে বৈঠক শুরু হয়। পরে যুগ্ম মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ বিগত সেশনের সার্বিক প্রতিবেদন, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ ইফতেখার তারিক সাংগঠনিক প্রতিবেদন এবং সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান রাজনৈতিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। প্রতিবেদন উপস্থাপনের পর শূরা সদস্যদের পরামর্শক্রমে নতুন কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়।

