× UCB Sticker Card
সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রাসেল আহমদ, সাংবাদিক ও কলামিস্ট

প্রকাশিত: জুন ১৫, ২০২৬, ০৬:১৩ এএম

বাংলাদেশে ভূমিকম্প : বাড়ছে সংখ্যা ও আশংকা, প্রয়োজন প্রস্তুতি এবং সচেতনতা

রাসেল আহমদ, সাংবাদিক ও কলামিস্ট

প্রকাশিত: জুন ১৫, ২০২৬, ০৬:১৩ এএম

বাংলাদেশে ভূমিকম্প : বাড়ছে সংখ্যা ও আশংকা, প্রয়োজন প্রস্তুতি এবং সচেতনতা

গত ৮ জুন ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে, যার উৎপত্তিস্থল ছিল ভুটানে।

ফ্রান্সভিত্তিক ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ সংস্থা ইএমএসসির তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৬। ২০২৬ সালে বাংলাদেশে এ পর্যন্ত মোট ১২টি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে।

গত ২০২৫ সালে বাংলাদেশে ২ মাত্রার বেশি তীব্রতার প্রায় ১৩৫টি ছোট-বড় ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে, যার মধ্যে ৫-এর বেশি মাত্রার ১টি এবং ৪ থেকে ৫ মাত্রার ১৪টি উল্লেখযোগ্য।

২০২৪ সালের পর থেকে বাংলাদেশে ভূমিকম্পের হার অস্বাভাবিক রকম বেড়েছে। বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণাকেন্দ্রের হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশে ২০২১ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ২১৭টি ভূমিকম্প রেকর্ড হয়েছে।

২০১৭ সালে বাংলাদেশে এবং কাছাকাছি এলাকায় ২৮টি ভূমিকম্প হয়। ২০২৩ সালে এর সংখ্যা ছিল ৪১টি। ২০২৪ সালে তা বেড়ে হয় ৫৪। ২০২৫ সালে  আরও বেড়ে হয়েছে ১৩৫টি।

বহুদিন ধরেই বিশাল এক ভূমিকম্পের ঝুঁকির কথা বলা হচ্ছিল দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার ব-দ্বীপ বাংলাদেশে। কিন্তু এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা কিংবা এর পরবর্তী ব্যবস্থাপনার জন্য দেশের সক্ষমতা অত্যন্ত সীমিত। বাংলাদেশে কাছাকাছি সময়ে ৯ মাত্রার দুইটি ভূমিকম্পও হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। বারবার এ নিয়ে আলোচনা হলেও বাস্তবে প্রস্তুতির তেমন কোনো অগ্রগতি নেই।

বাংলাদেশসহ পার্শ্ববর্তী দেশে অল্প সময়ে একাধিক ভূমিকম্প বাংলাদেশের জন্য শঙ্কার বিষয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, বাংলাদেশে ১৯১৮ সালে সর্বশেষ বেশি মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছিল। বেশি মাত্রার ভূমিকম্প একটি নির্দিষ্ট সময়ের পর আবারও ফিরে আসে। ফলে গত ১০০ বছরে বড় ভূমিকম্প না হওয়ায় সেটি আবারও ফিরে আসতে পারে। দেশে ৫ থেকে ৭ মাত্রার ভূমিকম্প হলে ঢাকাসহ চট্টগ্রাম, সিলেট অঞ্চলে ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ভূতাত্ত্বিক দিক থেকে ঢাকার চেয়ে চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চল বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। তবে অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও ভবন নির্মাণের কারণে ৫ থেকে ৭ মাত্রার ভূমিকম্প হলেই বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে ঢাকা। আমাদের উচিত ছিল ভূমিকম্প সহনশীল দালানকোঠা তৈরি করা। যেমনটা করে বিদেশিরা সুফল পাচ্ছে।’

ভূমিকম্পের মতো বড় দুর্যোগের জন্য বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, মিয়ানমার অ্যাক্টিভ অঞ্চল হওয়ায় ছোট ছোট ভূমিকম্প হয় বলে মনে করেন আবহাওয়াবিদ মো. রুবাঈয়্যাৎ কবীর। তিনি বলেন, ‘স্বাভাবিকভাবে দক্ষিণ ও উত্তরাঞ্চল হচ্ছে ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল। এখানে প্রায় সময়ই ছোট ছোট ভূমিকম্প হয়। তবে বড় ভূমিকম্পের আশঙ্কা আমরা করছি। এর কারণ বাংলাদেশ ও এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে ১৯১৮ সালের পর আর বড় ধরনের ভূমিকম্প হয়নি। বেশি মাত্রার ভূমিকম্প একটি সময় পর ফিরে আসে। যার কারণে এ অঞ্চলও সে ঝুঁকিতে আছে।’

ভূতত্ত্ববিদগণের মতে, বাংলাদেশের ভেতরে ও বাইরে টেকটোনিকে বড় ফল্ট আছে। মূলত তিনটি বড় প্লেটের সংযোগস্থলে বাংলাদেশ অবস্থিত। সেগুলো হলোÑ

ইন্ডিয়ান প্লেট : বাংলাদেশের বৃহৎ অংশ এই প্লেটের পূর্ব-উত্তর অংশে। উত্তরে ইউরেশিয়ান প্লেট এবং পূর্বে বার্মা প্লেটের সঙ্গে সংঘর্ষ ঘটায়।

ইউরেশিয়ান প্লেট : হিমালয় অঞ্চলের ওপরে, বাংলাদেশের উত্তরে। ইন্ডিয়ান প্লেটের সঙ্গে সংঘর্ষে হিমালয় ও উত্তরাঞ্চলের ভূকম্পের উৎস সৃষ্টি করে।

বার্মা প্লেট : বাংলাদেশের পূর্বদিকে মিয়ানমার অঞ্চলে এর অবস্থান। এখানেই সবচেয়ে বিপজ্জনক ইন্দো-বার্মা মেগাথ্রাস্ট রয়েছে।

বাংলাদেশের প্রধান সক্রিয় ফল্টসমূহ:

দেশের ভেতরে ও সীমান্ত বরাবর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফল্টগুলো হলো-

১. ডাউকি ফল্ট : এর অবস্থান সিলেটে মেঘালয়ের পাদদেশ। এর প্রকৃতি হলো বড় থ্রাস্ট ফল্ট। বড় ঝুঁকি হলো রিখটার স্কেলে ৭-৮ পর্যন্ত বড় ভূমিকম্পের সম্ভাবনা। এর প্রভাবিত জেলাগুলো হলোÑ সিলেট, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা ও মৌলভীবাজার।

২. মধুপুর বা মধবপুর ফল্ট : এটির অবস্থান টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ-গাজীপুর অঞ্চলের পশ্চিমে। এর ঝুঁকি হলোÑ এম ৬.৫-৭ মাত্রার ভূমিকম্প ঢাকায় শক্তভাবে অনুভূত হবে। প্রভাবিত জেলাগুলো হলোÑ টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, শেরপুর, গাজীপুর, কিশোরগঞ্জ ও ঢাকা।

৩. চট্টগ্রাম ফোল্ড বেল্ট ফল্টসমূহ : অবস্থান পার্বত্য চট্টগ্রাম ও চট্টগ্রাম অঞ্চল। এর ধরন হলো বহু সক্রিয় ফল্ট-ক্রাস্টাল কম্প্রেশন। আর প্রভাবিত জেলাগুলো হলো চট্টগ্রাম, বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও কক্সবাজার।

৪. ইন্দো-বার্মা মেগাথ্রাস্ট : বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের পূর্বে এটির অবস্থান। ধরন হলো বড় সাবডাকশন ফল্টÑ এশিয়ার সবচেয়ে বিপজ্জনকগুলোর একটি। এর ঝুঁকি হলোÑ এম ৮.৫-এর বেশি হওয়ার সম্ভাবনা। প্রভাবিত জেলাগুলো হলোÑ কক্সবাজার, বান্দরবান, চট্টগ্রাম, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া।

৫. শিলং প্লাটো সীমান্ত ফল্ট : এটির অবস্থান ভারতের শিলং-মেঘালয়ের উচ্চভূমি। ঝুঁকি হলোÑ ১৮৯৭ সালের মতো বড় ভূমিকম্প পুনরাবৃত্তির সম্ভাবনা। প্রভাবিত জেলা হলো সিলেট, নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ ও ময়মনসিংহ।

৬. তিস্তা লাইনামেন্ট, প্লায়া-গঙ্গা লাইনামেন্ট : এটির অবস্থান উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে, ঝুঁকিও তুলনামূলক কম। প্রভাবিত জেলা হলো রংপুর, দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁও।

বাংলাদেশের ইতিহাসে বড় ভূমিকম্প পরিসংখ্যান ও তুলনা:

২০২৫ সালের ২১ নভেম্বরের ভূমিকম্পের আগেও ঢাকা ও এর আশপাশে ভূমিকম্পের ঘটনা ঘটেছে, তবে মাত্রা ছিল কম। এর মধ্যে ২০১২ সালের ১৮ মার্চ ৪.৫ মাত্রা, ২০০৮ সালের ২৬ জুলাই ৪.৮ মাত্রা এবং ২০০১ সালের ১৯ ডিসেম্বর ৪.৫ মাত্রার ভূমিকম্প হয়। ওই ঘটনাগুলোতে বড় ধরনের হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। এরমধ্যে ২০১১ সালের ২৬ নভেম্বর চট্টগ্রামে ৬.২ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছিল।

ঐতিহাসিকভাবেও এ অঞ্চল বেশকিছু বড় ভূমিকম্পের সাক্ষী। প্রাচীন নথিভুক্ত ভূমিকম্প (১৫০০-এর দশক থেকে ১৮০০-এর দশক);

১৫৪৮ সালের ভূমিকম্প:

বর্তমান বাংলাদেশের ভূখ-ে নথিভুক্ত প্রথম প্রধান ভূমিকম্প এটি। এই ভূমিকম্পে এখনকার চট্টগ্রাম ও সিলেটের কিছু অংশে ফাটল সৃষ্টি হয়। ঐতিহাসিক বিবরণ অনুযায়ী, ফাটলগুলো থেকে দুর্গন্ধযুক্ত কাদা-জল নির্গত হয়েছিল। তবে কোনো হতাহতের খবর নথিবদ্ধ নেই।

১৬৪২ সালের ভূমিকম্প:

একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প সিলেট জেলায় অনেক ভবন ও কাঠামোর ক্ষতি করে। পূর্বের ঘটনার মতো এক্ষেত্রেও কোনো মানব হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

১৭৬২ সালের মহাবিপর্যয় (এপ্রিল):

এই অঞ্চলের ইতিহাসে অন্যতম মারাত্মক ভূমিকম্প এটি। ‘ইস্টার্ন বেঙ্গল ডিস্ট্রিক্ট গেজেটিয়ার চট্টগ্রাম’ (১৯০৮) অনুসারে, চট্টগ্রামজুড়ে মাটির ফাটল থেকে বিপুল পরিমাণ কাদা-জল বেরিয়ে আসে।

নথিতে ‘পরদাবান’ নামক একটি এলাকায় একটি বড় নদী শুকিয়ে যাওয়ার বিবরণও রয়েছে। ‘বাকার চানাক’ নামের একটি এলাকার প্রায় ২০০ জন মানুষ তাদের গৃহপালিত পশুসহ সাগরে তলিয়ে গিয়েছিল বলে জানা যায়। বলা হয়, এই ভূমিকম্পের ফলে সীতাকু- পাহাড়ের দুটি আগ্নেয়গিরির মতো মুখ তৈরি হয়েছিল।

১৮৬৫ সালের শীতকালীন ভূমিকম্প:

‘ইস্টার্ন বেঙ্গল ডিস্ট্রিক্ট গেজেটিয়ার চট্টগ্রাম’ (১৯১২) এ এই ভূমিকম্পের বিবরণ পাওয়া যায়। সীতাকু-ের একটি পাহাড়ে ফাটল থেকে বালি ও কাদা নির্গত হয়েছিল। আর কোনো গুরুতর ক্ষতির কথা জানা যায় না।

১৮৮৫ সালের বেঙ্গল ভূমিকম্প (প্রায় ৭ মাত্রার):

১৮৮৫ সালে মানিকগঞ্জে আঘাত হানা এই ভূমিকম্পটি ‘বেঙ্গল ভূমিকম্প’ নামে পরিচিত। এর সম্ভাব্য উপকেন্দ্র ছিল সাটুরিয়ার কোদালিয়ায়, যা ঢাকা থেকে প্রায় ১৭০ কিলোমিটার দূরে।

এই কম্পনটি বিহার, সিকিম, মণিপুর এবং মিয়ানমার পর্যন্ত অনুভূত হয়েছিল। ঢাকা, ময়মনসিংহ, শেরপুর, পাবনা এবং সিরাজগঞ্জের ভবন ও কাঠামোগুলোর ক্ষতি হয়েছিল, তবে সঠিক হতাহতের সংখ্যা জানা যায়নি।

১৮৯৭ সালের মহা-ভূমিকম্প (গ্রেট ইন্ডিয়ান আর্থকোয়েক):

এই অঞ্চলের সবচেয়ে বিধ্বংসী ভূমিকম্পগুলির মধ্যে একটি হলোÑ ১৮৯৭ সালের ১২ জুনের ঘটনা, যা ‘গ্রেট ইন্ডিয়ান আর্থকোয়েক’ নামে পরিচিত। এর মাত্রা প্রায় ৮ অনুমান করা হয়। সম্ভবত এর উপকেন্দ্র ছিল আসামের চেরাপুঞ্জির কাছে।

বিংশ শতাব্দীর ভূমিকম্পসমূহ (১৯১৮ সালের শ্রীমঙ্গল ভূমিকম্প):

প্রায় ৭.৬ মাত্রার এই ভূমিকম্পটি শ্রীমঙ্গলে আঘাত হানে। এটি মিয়ানমার এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলোতেও অনুভূত হয়েছিল। শ্রীমঙ্গলের বহু ভবন ধসে পড়েছিল।

১৯৫০ সালের আসাম ভূমিকম্প:

এই শতাব্দীর অন্যতম শক্তিশালী ভূমিকম্প (মাত্রা ৮.৭) ছিল ১৫ আগস্টের ‘আসাম ভূমিকম্প’। এটি বাংলাদেশের বহু অংশে অনুভূত হলেও, দেশের অভ্যন্তরে বড় ধরনের কোনো ক্ষতি করেনি।

১৯৯৭ সালের চট্টগ্রাম ভূমিকম্প:

১৯৯৭ সালের ২১ নভেম্বর ৬ মাত্রার একটি ভূমিকম্প চট্টগ্রামে আঘাত হানে, যার ফলে বিভিন্ন অবকাঠামোতে ফাটল দেখা দেয়।

১৯৯৯ সালের মহেশখালী ভূমিকম্প:

বাংলাদেশে বিংশ শতাব্দীর শেষ উল্লেখযোগ্য ভূমিকম্পটি ঘটেছিল ১৯৯৯ সালের জুলাই মাসে মহেশখালী উপজেলায়। এর উপকেন্দ্র ছিল দ্বীপটিতে এবং ৫.২ মাত্রার এই কম্পনে বহু ঘরবাড়ির ক্ষতি হয়।

২০১৬ সালে কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় আরও একটি ৪০০ কিলোমিটার বিস্তৃত গোপন ভূ-চ্যুতি (ফল্ট) শনাক্ত করা হয়েছে। নতুন এই ফাটলরেখার জন্ম ৫ কোটি ৬০ লাখ বছর আগে এবং এটি মায়োসিন যুগে প্রায় ২ কোটি ৩০ লাখ বছর নিষ্ক্রিয় ছিল। প্রায় ৫৬ লাখ বছর আগে ভারতীয় ও ইউরেশিয়ান প্লেটের চাপের ফলে এটি আবার সক্রিয় হয়েছে। এই ফল্টের এক অংশে উচ্চ মাত্রার ভূমিকম্পের ঝুঁকি রয়েছে। যার কারণে বাংলাদেশে আরও একটি ৯ মাত্রার ভূমিকম্প হতে পারে।

বাংলাদেশ ভূমিকম্প ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর তালিকায় শীর্ষে রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বারবার সতর্ক করছেন যে ১০০ বছরের ব্যবধানে বড় ভূমিকম্পের ঝুঁকি থেকে যায়। তাই ১৮৯৭ সালের ১২ জুন শিলং প্লেটের ৮.৭ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর বাংলাদেশের জন্য বড় ধরনের ভূমিকম্প এখন শুধু সম্ভাবনা নয়, বরং সময়ের ব্যাপার।

ভূমিকম্প সম্পর্কে পূর্বাভাস দেওয়া যায় না কখনোই, আমরা আশা করতে পারি, যেন বড় ভূমিকম্প আমাদের না দেখতে হয়। তবে ভূমিকম্প হলে ভয় না পেয়ে করণীয়গুলো করতে হবে। জাপান বা ক্যালিফোর্নিয়ার মতো ভূমিকম্প প্রবণ অঞ্চলগুলোতে ব্যাপক জনসচেতনতা, জরুরি মহড়া এবং কার্যকর দুর্যোগ মোকাবিলা ব্যবস্থা থাকলেও বাংলাদেশের ব্যাপক ঘাটতি রয়েছে, এটি জোরদার করতে হবে।  এবং ভবিষ্যৎ বিপর্যয় এড়াতে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের দ্রুত মূল্যায়ন ও সংস্কার এবং নতুন ভবন নির্মাণে কঠোরভাবে বিল্ডিং কোড মেনে চলার কোনো বিকল্প নেই।

মনে রাখতে হবে, প্রকৃতির শক্তি আমাদের নিয়ন্ত্রণে না থাকলেও, আমাদের প্রস্তুতি ও সচেতনতা সম্পূর্ণ আমাদের হাতের মধ্যেই।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!