আজ ৮ মার্চ, আন্তর্জাতিক নারী দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য অধিকার, ন্যায়বিচার, উদ্যোগ সব নারীর জন্য হোক। নারী দিবস উপলক্ষে নিজের ভাবনা জানিয়েছেন শোবিজের চারজন প্রতিষ্ঠিত তারকা। লিখেছেন এম তারেক
নার্গিস আক্তার
নির্মাতা ও চিত্রনাট্যকার
আমার চারটি সিনেমা সর্বমোট ১৭টি ক্যাটাগরিতে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছে। প্রাপ্তি সে হিসেবে অনেক। এটি বলতে পারি আমার ব্যাকগ্রাউন্ড অনুযায়ী মূল্যায়িত হইনি। এর একটি কারণ প্রযোজকদের অধিকাংশই পুরুষ। নারীরাও যে বাণিজ্যিক সিনেমা নির্মাণ করতে পারেন সে বিশ্বাস এখনো গড়ে ওঠেনি। পরিবেশ-পরিস্থিতির তেমন পরিবর্তন হয়নি। অতীতে যেমন ছিল এখনো তাই আছে। একজন নারীকে সফল হতে গেলে সংগ্রাম করতে হয়। আরেকটি বিষয় চোখে পড়ে। চলচ্চিত্রে শিক্ষার অভাব। যদি শিক্ষাটা ঠিকমতো থাকত তা হলে অনেক ভালো কাজ হতো।
মৌটুসী বিশ্বাস
অভিনেত্রী
আমরা নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে অনেক কথা বলি। প্রচুর কাজ করি। কিন্তু পরিবারের পুরুষের প্রতি সচেতন নই। নিজের ভালোর জন্য কাজ করছি, অথচ পরিবারের ছেলেটি কী করছে সে বিষয়ে খোঁজ রাখছি না। তাকে শাসন করছি না। সে কাউকে অসম্মান করছে কিনা সে ব্যাপারে জানার চেষ্টা করছি না। শিক্ষা শুধু প্রতিষ্ঠান দিতে পারে না। পরিবারেরও দায় আছে। পরিবারের মা ও বোন যারা আছেন তারা এ ব্যাপারে সচেতন থাকলে ধীরে ধীরে সমাজ পাল্টাবে। অপরাধমূলক কার্যক্রম কমে আসবে। ঘর থেকে শিক্ষা ও শাসন সমানতালে চললে সমাজ বদলাবে। নারী দিবসে এটিই আমার প্রত্যাশা।
শ্রাবণী ফেরদৌস
নির্মাতা
নারীর স্বাধীনতা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যেন পুরুষের সঙ্গে সমানতালে কাজ করতে পারে কোনো প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই। এখনো নারী তার কাজের জায়গায় নিরাপদ নয়। তাকে নারী নয়, মানুষ হিসেবে বিবেচনা করলে প্রতিবন্ধকতা অনেকাংশে কমে যায়। একজন মানুষ হিসেবে এটিই চাই নারী তার কাজের পূর্ণ স্বাধীনতা পাক।
পূজা সেনগুপ্ত
নৃত্যশিল্পী ও নৃত্যপরিচালক
আমি যে অঙ্গনে কাজ করি সেখানে নারীরা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। আমি নিজেকে কখনো একজন নারী হিসেবে ভাবিনি। আমরা নারীর ক্ষমতায়নের কর্মসূচির মাধ্যমে মূলত নিরাপদ ভবিষ্যতের জন্য কাজ করছি। মেয়েরা এখনো অনেক ক্ষেত্রে পিছিয়ে আছে। যার দায় নারীর নয়, সমাজের ও রাষ্ট্রের। নারী দিবস সেদিনই পূর্ণতা পাবে যেদিন আলাদা করে উদযাপন করতে হবে না।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন