বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার আমবাগানগুলোতে গাছে গাছে দেখা দিয়েছে আমের মুকুল। মাঘের হাওয়ায় সবুজ পাতার ফাঁকে দোল খাচ্ছে মুকুল, চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে ম ম গন্ধ। আগাম মুকুলে চাষিদের মনে জেগেছে বাম্পার ফলনের আশা।
চাষিরা জানান, গত বছরের তুলনায় এ বছর নতুন পাতা গজিয়েছে কম। বিগত মৌসুমে অতিবৃষ্টির কারণে উদ্ভিদের শাখার অগ্রভাগে কার্বনের পরিমাণ কমে গিয়ে নতুন পাতা বেশি দেখা গিয়েছিল। তবে এবার নতুন পাতার পরিমাণ কম এবং সঠিক সময়েই অধিকাংশ গাছে মুকুল এসেছে। পূর্ব আলোহালী গ্রামের প্রায় ৮০ শতাংশ আমগাছে এরই মধ্যে মুকুল এসেছে। আগামী দুই-এক সপ্তাহের মধ্যে সব গাছে মুকুল আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গোবিন্দপুর খেহালী উত্তরপাড়া গ্রামের আমচাষি আব্দুল মান্নান জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জের খাসেরহাট এলাকায় একটি আমবাগান দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে তিনি তিন শতক উঁচু জমিতে ৫৫টি আমগাছ রোপণ করেন। তিন বছরেই প্রায় প্রতিটি গাছ মুকুলে ভরে গেছে। তিনি বলেন, মুকুলে পোকা দমন ও ফলন ভালো রাখতে কীটনাশক ও ভিটামিন স্প্রে করা হয়েছে। পাশাপাশি গাছের গোড়ায় জৈব সার প্রয়োগ ও সেচ দেওয়া হয়েছে।
আলতাফনগরের মৌকুড়ি গ্রামের চাষি জাহিদুল ইসলাম বলেন, আগাছা পরিষ্কার করে সার ও ভিটামিন প্রয়োগের পাশাপাশি আগাম কীটনাশক স্প্রে করা হচ্ছে। এতে হপার পোকা ও রোগবালাই কমবে এবং মুকুলের ক্ষতি হবে না।
এ এলাকায় খিরসা, ফজলি, আশি^না, গোপালভোগ, আম্রপালি ও বারি-৪সহ বিভিন্ন জাতের আম চাষ হয়ে থাকে। তবে আকাশে মাঝেমধ্যে মেঘ জমা ও সম্ভাব্য শিলাবৃষ্টি নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করছেন চাষিরা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ উপজেলায় ৯০ হেক্টর জমিতে আম চাষ হচ্ছে। কৃষি অফিসের উপসহকারী সেলিম রেজা বলেন, মুকুল আসার ৩০ থেকে ৪৫ দিন আগে সেচ বন্ধ রাখতে হবে। মুকুল ১০ থেকে ১৫ শতাংশ ফোটা অবস্থায় এবং গুটি মটর দানার মতো হলে সালফারজাতীয় ছত্রাকনাশক ও ইমিডাক্লোপ্রিড গ্রুপের কীটনাশক স্প্রে করলে হপার পোকার আক্রমণ কমবে।
তিনি আরও বলেন, পুষ্টির অভাব ও রোগের কারণে মুকুল ঝরে যেতে পারে। বছরে দুইবার সুষম মাত্রায় সার প্রয়োগ করা প্রয়োজন। পাঁচ বছর বা তার নিচের বয়সি গাছে নির্দিষ্ট পরিমাণ জৈব সার, ইউরিয়া, টিএসপি, এমওপি, জিপসাম ও বোরন সার রিং পদ্ধতিতে প্রয়োগ করে পরে সেচ দিতে হবে। তিন ধাপে কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক স্প্রে করলে মুকুল ঝরা কমানো সম্ভব।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল আবেদীন বলেন, মুকুলের সঠিক পরিচর্যায় সময়মতো ছত্রাকনাশক ও কীটনাশক স্প্রে জরুরি। বর্তমানে সাইপারমেথ্রিন অথবা ল্যামডা সাইহ্যালোথ্রিন গ্রুপের ওষুধ ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ফলন ভালো হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

