সুনামগঞ্জ জেলার সীমান্তবর্তী মধ্যনগর উপজেলার বংশীকুন্ডা উত্তর ইউনিয়নে ভারত থেকে আমদানি করা কয়লা ও পাথর পরিবহনে ব্যবহৃত ডিস্ট্রিক্ট গাড়ি ও ড্রামট্রাক চলাচল বন্ধের দাবি তুলেছেন এলাকাবাসী। দীর্ঘদিন ধরে এসব ভারী যানবাহনের বেপরোয়া চলাচলে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তাহিরপুর উপজেলার বাগলী শুল্ক স্টেশন থেকে প্রতিদিন শতাধিক কয়লা ও পাথরবোঝাই ট্রাক বংশীকুন্ডা উত্তর ইউনিয়নের মহিষখলা বাজারের ওপর দিয়ে চলাচল করছে। বাজার এলাকা ও ঘনবসতিপূর্ণ গ্রাম অতিক্রম করে এসব ভারী যানবাহন দিন-রাত অবিরাম চলাচল করায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন অন্তত ১৫টি গ্রামের বাসিন্দারা।
সীমান্তঘেঁষা এ এলাকায় গভীর রাতে শতাধিক কয়লা ও পাথরবোঝাই ট্রাক চলাচল করায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল। তাদের মতে, এসব ট্রাকের যথাযথ তদারকি না থাকলে অবৈধ পণ্য পরিবহনের ঝুঁকি থেকে যায়। প্রশাসনের নজরদারি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
বর্তমানে মহিষখলা-বাঙ্গালভিটা সড়কের নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। এ অবস্থায় দিনের বেলায় ভারী যানবাহন চলাচল করলে সড়কে প্রচুর ধুলাবালির সৃষ্টি হচ্ছে। এতে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, পথচারী ও ব্যবসায়ীরা মারাত্মক ভোগান্তিতে পড়ছেন। ধুলার কারণে অনেকেই শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
অন্যদিকে গভীর রাতে একাধিক ট্রাক একত্রে চলাচলকালে উচ্চৈঃস্বরে হর্ন বাজানোয় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় বিঘœ ঘটছে। রাতের নীরবতা ভেঙে বিকট শব্দে ট্রাক চলাচল করায় শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিরা ঘুমাতে পারছেন না। স্থানীয়দের ভাষ্য, দিনে ধুলা, রাতে শব্দ, দুই দিক থেকেই আমরা অতিষ্ঠ।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, নির্মাণাধীন সড়কে অতিরিক্ত ভারী যানবাহন চলাচলে রাস্তার স্থায়িত্ব নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। দ্রুত সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হলে সরকারের উন্নয়ন ব্যয় বাড়বে এবং জনদুর্ভোগ দীর্ঘস্থায়ী হবে। এ ছাড়া সরু সড়কে অতিরিক্ত ট্রাক চলাচলে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বংশীকুন্ডা উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নুর নবী তালুকদার বলেন, মহিষখলা বাজার ও আশপাশের গ্রাম দিয়ে দিন-রাত কয়লা ও পাথরবোঝাই ডিস্ট্রিক্ট গাড়ি ও ড্রামট্রাক চলাচল করায় সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে রয়েছে। আমরা চাই সড়ক নির্মাণকাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত ভারী যানবাহনের চলাচলে নিয়ন্ত্রণ আরোপ হোক এবং রাতের বেলায় হর্ন বাজানো বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক। জনদুর্ভোগ কমাতে প্রশাসনের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছি।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উজ্জ্বল রায় বলেন, সীমান্তসংলগ্ন সড়কে ভারী যানবাহন চলাচল নিয়ে এলাকাবাসীর অভিযোগ আমরা গুরুত্বসহকারে দেখছি। ধুলাবালি ও শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং রাতের নিরাপত্তা জোরদারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

