ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

২ কি.মি. সড়কে দুর্ভোগে পাঁচ গ্রামের মানুষ

আগৈলঝাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: এপ্রিল ২৭, ২০২৬, ০৮:০০ এএম

বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার রাজিহার ইউনিয়নের রাংতা থেকে চেংগুটিয়া পর্যন্ত প্রায় ২ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়কের বেহাল অবস্থায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন অন্তত পাঁচ গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ। দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে সড়কটি এখন খানাখন্দ, কাদা ও জলাবদ্ধতায় ভরে গিয়ে যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কের অধিকাংশ জায়গায় পিচ উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও পানি জমে আছে, কোথাও কাদার স্তূপ। এতে পথচারী ও যানবাহন চালকদের প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। এই সড়ক দিয়ে চেংগুটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রাংতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, চেংগুটিয়া আলিয়া মাদ্রাসা, ভাংগা মাদ্রাসা, রাংতা মাদ্রাসা, আগৈলঝাড়া সরকারি কলেজ ও গৌরনদী সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা যাতায়াত করে। পাশাপাশি আগৈলঝাড়া ও গৌরনদী উপজেলা সদরে যেতে এলাকাবাসীর একমাত্র ভরসা এই সড়ক।

চেংগুটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শিরিন সুলতানা বলেন, ‘শিশু শিক্ষার্থীদের এই রাস্তায় চলাচলে মারাত্মক অসুবিধা হচ্ছে। প্রায়ই তারা হোঁচট খেয়ে ছোট-বড় দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে।’ স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিনই সড়কটিতে ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ও ভ্যান প্রায়ই খাদে পড়ে উল্টে যায়, এতে যাত্রীরা আহত হচ্ছেন।

চেংগুটিয়া গ্রামের বাসিন্দা বোরহান উদ্দিন তালুকদার বলেন, ‘এই সড়ক দিয়ে পাঁচ গ্রামের মানুষ চলাচল করে। বর্ষায় হাঁটাও কষ্টকর হয়ে পড়ে। অনেক সময় কাদা মাড়িয়ে বাজারে গিয়ে তবেই যানবাহনে উঠতে হয়।’ ইজিবাইক চালক ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘খানাখন্দ আর কাদার কারণে গাড়ির কন্ট্রোল বক্স ও মোটর বারবার নষ্ট হচ্ছে। এতে বড় ধরনের ক্ষতি হচ্ছে। এ ছাড়া কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির অবৈধ পুকুর খননের কারণেও সড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’ স্থানীয় বাসিন্দা রুহুল আমিন আকন্দ দ্রুত সড়কটি পাকা করার দাবি জানিয়ে বলেন, ‘এভাবে আর চলতে পারে না। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ভোগান্তি আরও বাড়বে।’

এ বিষয়ে আগৈলঝাড়া উপজেলার নির্বাহী প্রকৌশলী রবীন্দ্র চক্রবর্তী বলেন, সড়কটির বিষয়ে তাদের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। তবে দ্রুত সরেজমিনে পরিদর্শন করা হবে এবং আগামী বছরের জুনে মেরামতের পরিকল্পনা রয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত সংস্কার না করলে সড়কটি স্থায়ী জনদুর্ভোগের উৎসে পরিণত হবে।