কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলায় সাগরের জোয়ারের পানি এখন আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্ষা মৌসুম এলেই দ্বীপের উপকূলবর্তী হাজারো পরিবার ভিটামাটি হারানোর শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন। অকার্যকর জিও ব্যাগ ও ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ সাগরের ভাঙন ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়ায় দিন দিন বাড়ছে দুর্ভোগ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত কয়েক বছরে সাগরের ভাঙনে যে পরিমাণ বসতভিটা বিলীন হয়েছে, বাস্তবচিত্র সরকারি হিসাবের চেয়েও ভয়াবহ। একসময় সচ্ছল অনেক পরিবার এখন অন্যের জমিতে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বছর উপজেলার আলী আকবর ডেইল ও বড়ঘোপ ইউনিয়নের মুস্তফা, বদর উদ্দিন, মো. বাবুল, আব্দুল গফুর, জাহাঙ্গীর আলম, ফরিদ আলম, গোলাম মোস্তফা ও মোক্তার আহমেদসহ অনেক পরিবার সাগরের ভাঙনে বসতভিটা হারিয়েছেন। চলতি বর্ষায়ও একই এলাকার আব্দুল কাদের, আব্দুস শুকুর, রুবেল, জসিম উদ্দিন, নুরুল হোছাইন, আমির হোছাইন, আবুল হোছাইন ও শাহাবুদ্দিনসহ শতাধিক পরিবার নতুন করে ভাঙনের ঝুঁঁকিতে রয়েছে। শুধু আলী আকবর ডেইল ও বড়ঘোপ নয়, উপজেলার উত্তর ধূরুং, দক্ষিণ ধূরুং, কৈয়ারবিল ও লেমশীখালী ইউনিয়নের উপকূলীয় এলাকাগুলোতেও একই পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সাগরের ভাঙনে সর্বস্ব হারানো মোস্তফা বেগম (৬০) কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘সাগর আমার সব কেড়ে নিয়েছে। এখন পরিবার নিয়ে অন্যের আশ্রয়ে আছি। নিজের কোনো ঘর নেই, কোনো ঠিকানা নেই। এভাবে আর কত দিন কাটাতে হবে জানি না।’
তিনি দ্রুত সরকারি সহায়তা এবং নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করার দাবি জানান।
আরেক ভুক্তভোগী আব্বাস উদ্দিন বলেন, ‘দুই বছর আগে একবার বসতভিটা হারিয়েছিলাম। অনেক কষ্টে আবার সংসার গুছিয়েছিলাম। কিন্তু সাগরের ভাঙনে এবারও শেষ সম্বলটুকু হারাতে হলো। এখন আত্মীয়ের বাড়িতে মানবেতর জীবন কাটছে।’
বড়ঘোপ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আ ন ম শহিদ উদ্দিন ছোটন বলেন, ‘ইতিমধ্যে সাগরের গ্রাসে ১৫ থেকে ২০টি বসতবাড়ি বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ দেওয়ার কথা থাকলেও কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। দ্রুত জিও ব্যাগ সরবরাহ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘শুধু জিও ব্যাগ দিয়ে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। দ্বীপ রক্ষায় টেকসই ও স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ এখন সময়ের দাবি। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বড়ঘোপ ও আলী আকবর ডেইলের আরও অনেক এলাকা সাগরগর্ভে হারিয়ে যেতে পারে।’
এদিকে সাগরের ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন কুতুবদিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মিজানুর রহমান এবং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাকিব উল আলম।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, ‘বেড়িবাঁধ ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেছি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে (পাউবো) জানানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।’

