মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে সরকারি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত একমাত্র ব্যায়ামাগারটি এখন অযতœ-অবহেলায় ধ্বংসের পথে। একসময় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, তাদের পরিবারের সদস্য এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের শরীরচর্চার অন্যতম কেন্দ্র ছিল ‘হরিরামপুর ফিটনেস সেন্টার’। বর্তমানে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় এটি প্রায় পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। নষ্ট হচ্ছে মূল্যবান যন্ত্রপাতি, এরই মধ্যে কয়েকটি দামি সরঞ্জামের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।
অভিযোগ রয়েছে, ব্যায়ামাগারের সদস্যদের কাছ থেকে ফি বাবদ অর্থ আদায় করা হলেও সেই অর্থের হিসাবও পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে সরকারি অর্থ ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের তৃতীয় তলায় ‘হরিরামপুর ফিটনেস সেন্টার’ নামে এ ব্যায়ামাগারটি প্রতিষ্ঠা করেন তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহরিয়ার রহমান। ২০২২-২৩ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা, কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তার ব্যক্তিগত অনুদান এবং ইউএনওর উদ্যোগের অর্থ মিলিয়ে প্রায় ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা ব্যয়ে এটি গড়ে তোলা হয়।
ব্যায়ামাগারের জন্য দুটি ট্রেডমিল, দুটি স্টেশনারি বাইক, দুটি রোয়িং মেশিন, দুটি ওয়েট বেঞ্চ, একটি ল্যাট পুলডাউন মেশিন, একটি চেস্ট প্রেস মেশিন, আটটি ডাম্বেল, একটি বক্সিং ব্যাগ, দুটি টামি ট্রিমারসহ বিভিন্ন ধরনের শরীরচর্চার সরঞ্জাম কেনা হয়।
২০২৩ সালের ২১ জুন তৎকালীন জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ আব্দুল লতিফ ফিটনেস সেন্টারটির উদ্বোধন করেন। নারী ও পুরুষের জন্য আলাদা সময়ে শরীরচর্চার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। সদস্য ফি নির্ধারণ করা হয়েছিল এক হাজার টাকা এবং রক্ষণাবেক্ষণের জন্য একজন কেয়ারটেকারও নিয়োগ দেওয়া হয়।
সরেজমিন দেখা যায়, বর্তমানে ব্যায়ামাগারে মাত্র পাঁচটি যন্ত্রপাতি পড়ে আছে। এর মধ্যে রয়েছে একটি ট্রেডমিল, একটি ওয়েট বেঞ্চ, দুটি সিট-আপ বেঞ্চ এবং একটি ল্যাট পুলডাউন সংবলিত মাল্টি জিম মেশিন। দীর্ঘদিন ব্যবহারের অভাবে এসব যন্ত্রপাতিতে ধুলোর আস্তরণ জমেছে এবং কয়েকটি স্থানে মরিচাও ধরেছে। তবে কেনা অন্যান্য মূল্যবান যন্ত্রপাতির কোনো হদিস পাওয়া যায়নি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সরকারি দুই কর্মকর্তা বলেন, ‘সুস্থ থাকার জন্য নিয়মিত শরীরচর্চা প্রয়োজন। ব্যায়ামাগারটি চালু থাকলে কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ স্থানীয় মানুষ উপকৃত হতেন। কিন্তু অবহেলার কারণে একটি ভালো উদ্যোগ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।’
এডিপির প্রকল্প হওয়ায় ব্যায়ামাগারের ক্রয়সংক্রান্ত তথ্য জানতে উপজেলা এলজিইডি কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হলে উপজেলা প্রকৌশলী মো. শাহীনুজ্জামান বলেন, ‘ফিটনেস সেন্টার সংক্রান্ত কোনো তথ্য বা ফাইল আমাদের দপ্তরে নেই। এখানে এমন একটি ব্যায়ামাগার আছে, সেটিও আপনার মাধ্যমেই প্রথম জানতে পারলাম। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে।’
সার্বিক বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফাহিজা বীসরাত হোসেন বলেন, ‘কতগুলো যন্ত্রপাতি কেনা হয়েছিল, বর্তমানে কতগুলো রয়েছে এবং পরিচালনা কমিটিতে কারা ছিলেনÑ এসব বিষয় খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ স্থানীয়দের দাবি, সরকারি অর্থে তৈরি এই ফিটনেস সেন্টারটি দ্রুত সংস্কার করে পুনরায় চালু করা হলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর পাশাপাশি সাধারণ মানুষও উপকৃত হবেন।

