নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি-চাটখিল ফোরলেন সড়কের কাজ শেষ না হতেই সড়কের পাশের সরকারি জায়গা দখলের অভিযোগে সংবাদ প্রকাশের পর বিএনপির দুই নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে জেলা বিএনপি।
সোমবার (২০ জুলাই) জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুব আলমগীর আলো এবং সদস্য সচিব হারুনুর রশিদ আজাদের স্বাক্ষরিত পৃথক নোটিশে সোনাইমুড়ি উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনির হোসেন ভূঁইয়া ও সোনাইমুড়ি পৌরসভা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলমগীর হোসেন সিম্পুকে শোকজ করা হয়।
নোটিশে বলা হয়, বিভিন্ন অনিয়ম এবং দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার মাধ্যমে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুস্পষ্ট অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কেন তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তার লিখিত জবাব নোটিশ পাওয়ার সাত দিনের মধ্যে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে জেলা বিএনপির কাছে জমা দিতে হবে। অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জানা গেছে, গত ৯ জুলাই দিবাগত রাতে মনির হোসেন ভূঁইয়া ও আলমগীর হোসেন সিম্পুর নেতৃত্বে পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক রুবেল ভূঁইয়া, পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সোহেল ভূঁইয়া এবং যুবদল নেতা মোজাম্মেল হোসেন অপুসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সোনাইমুড়ি-চাটখিল-রামগঞ্জ সড়কের শিমুলিয়া কলেজ পুকুরপাড় থেকে একটি কালভার্ট পর্যন্ত প্রায় ৩০০ ফুট সরকারি জায়গা টিনের বেড়া দিয়ে দখল করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
এ ঘটনার প্রতিবাদে ১১ জুলাই স্থানীয় বাসিন্দারা সোনাইমুড়ি-চাটখিল সড়কে মানববন্ধন করেন। পরে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এলে ১২ জুলাই জেলা প্রশাসকের নির্দেশে উপজেলা প্রশাসন এবং সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের যৌথ অভিযানে সরকারি জায়গা থেকে অবৈধ দখল উচ্ছেদ করা হয়।
এদিকে, অভিযুক্ত দুই বিএনপি নেতার পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবক দল ও যুবদলের সংশ্লিষ্ট নেতাদের বিরুদ্ধেও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়ে দল থেকে বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুব আলমগীর আলো বলেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান চাঁদাবাজি, দখল ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন। দলের কেউ এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সেই ধারাবাহিকতায় সোনাইমুড়িতে সরকারি জায়গা দখলের অভিযোগে এই দুই নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

