ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬

রেলের পুকুর ইজারা অনিয়মের অভিযোগ

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুলাই ২১, ২০২৬, ০৩:৩৭ এএম

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া রেলওয়ে স্টেশনসংলগ্ন পশ্চিমাঞ্চলের জলাশয় ও একাধিক পুকুর ইজারা প্রদানে অনিয়মের অভিযোগে গঠিত তদন্ত কমিটি দুই মাস পার হলেও কার্যকর তদন্ত শুরু করতে পারেনি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা না পড়ায় বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উল্লাপাড়া (আরএস) এলাকার বাসিন্দাদের পক্ষে আল আমিন বাংলাদেশ রেলওয়ের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগে রেলওয়ের কর্মকর্তা বক্কারের বিরুদ্ধে পুকুর ইজারা প্রদানে অনিয়মের অভিযোগ তুলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৭ মে বাংলাদেশ রেলওয়ের রেল ভবন থেকে উপ-পরিচালক (ভূ-সম্পত্তি) আধরার হোসেনের স্বাক্ষরিত এক স্মারকের মাধ্যমে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে বাংলাদেশ রেলওয়ে, রাজশাহীর নির্বাহী প্রকৌশলী (প্ল্যানিং অ্যান্ড ডিজাইন-পশ্চিম) বীরবল ম-লকে আহ্বায়ক, বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা (সদর), রাজশাহীকে সদস্যসচিব এবং রেল ভবন, ঢাকার সহকারী পরিচালককে (ভূ-সম্পত্তি) সদস্য করা হয়। কমিটিকে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে সরেজমিন তদন্ত করে সুস্পষ্ট মতামত ও সুপারিশসহ প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হলেও ৬০ দিনেরও বেশি সময় অতিবাহিত হয়েছে। তবে এখনো সরেজমিন তদন্তই শুরু হয়নি।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের উপ-পরিচালক (ভূ-সম্পত্তি) আধরার হোসেন বলেন, এখনো তদন্ত প্রতিবেদন জমা পড়েনি। এ বিষয়ে জানতে তদন্ত কমিটির আহ্বায়কের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন তিনি।

তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক বীরবল ম-ল বলেন, এখনো সরেজমিন তদন্ত করা হয়নি। নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন দাখিল না হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আগামী সপ্তাহে তদন্তে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তা বক্কার দাবি করেন, প্রচলিত নিয়ম অনুসরণ করেই পুকুরগুলো ইজারা দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সিরাজগঞ্জে বাংলাদেশ রেলওয়ের আওতায় মোট ১২টি পুকুর রয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি টেন্ডারের মাধ্যমে ইজারা দেওয়া হলেও বাকি সাতটি পুকুর টেন্ডার ছাড়াই ইজারা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, স্বাধীনতার পর এই প্রথম এতসংখ্যক পুকুর টেন্ডার ছাড়াই ইজারা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া একজনের ভোগদখলে থাকা সম্পত্তি অন্য ব্যক্তির নামে ইজারা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পুরো ইজারা প্রক্রিয়ায় রেলওয়ের একাধিক কর্মকর্তার যোগসাজশ থাকতে পারে। তাই দ্রুত নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।