যমুনা নদীর তীব্র স্রোত ও অব্যাহত ভাঙনের কারণে টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার শাখারিয়া এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল-তারাকান্দি-ভূঞাপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের একাংশ ধসে পড়েছে। এতে সড়কটিতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো যাত্রী। ভাঙন অব্যাহত থাকায় গুরুত্বপূর্ণ এই আঞ্চলিক সড়কের যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। গতকাল সোমবার সরেজমিনে শাখারিয়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধানে জরুরি ভিত্তিতে নদীতে জিওব্যাগ ফেলা হচ্ছে। পাশাপাশি নদীর স্রোতের আঘাত কমাতে সড়কের পাশের বড় বড় গাছ কেটে নদীতে ফেলা হচ্ছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, এসব ব্যবস্থা সাময়িক। স্থায়ী নদীতীর সংরক্ষণ বাঁধ নির্মাণ ছাড়া এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় টাঙ্গাইল-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। সড়কের একাংশ ধসে পড়ায় যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাক, অ্যাম্বুলেন্সসহ সব ধরনের যানবাহন বিকল্প সড়ক ব্যবহার করছে। এতে অনেক যানবাহনকে প্রায় ১০ কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরে গন্তব্যে যেতে হচ্ছে। ফলে সময় ও পরিবহন ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি জনদুর্ভোগও চরম আকার ধারণ করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা সালিম আহমেদ বলেন, কয়েক দিন ধরে যমুনার তীব্র স্রোতে প্রতিনিয়ত নদীভাঙন বাড়ছে। দ্রুত টেকসই ব্যবস্থা নেওয়া না হলে মহাসড়কের আরও বড় অংশ নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে, যা এ অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রতিবছর জিওব্যাগ ফেলে সাময়িকভাবে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করা হলেও স্থায়ী নদীশাসনের উদ্যোগ না থাকায় একই সংকট বারবার ফিরে আসে। তাই তারা দ্রুত একটি টেকসই নদীতীর সংরক্ষণ বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক রফিকুল ইসলাম বলেন, কার্যকর নদীশাসনের ব্যবস্থা না হলে ভবিষ্যতে যমুনা নদীর প্রবাহে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটতে পারে। একটি স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা গেলে সড়ক ও নদীপাড়ের মানুষ নিরাপদে বসবাস করতে পারবেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাঈন উদ্দীন বলেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের কাজ চলছে। শুষ্ক মৌসুমে প্রয়োজনীয় স্থায়ী সংস্কার ও নদীতীর সংরক্ষণকাজ বাস্তবায়ন করা গেলে সড়কটি নিরাপদ রাখা সম্ভব হবে বলে তিনি জানান।

