নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী-চাটখিল ফোরলেন সড়কের পাশে সরকারি জায়গা দখলের অভিযোগে সোনাইমুড়ী উপজেলা বিএনপির দুই নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে জেলা বিএনপি। গতকাল সোমবার জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুব আলমগীর আলো ও সদস্য সচিব হারুনুর রশিদ আজাদ স্বাক্ষরিত পৃথক নোটিশে সোনাইমুড়ী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনির হোসেন ভূঁইয়া এবং সোনাইমুড়ী পৌরসভা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলমগীর হোসেন সিম্পুকে সাত দিনের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে। নোটিশে বলা হয়, বিভিন্ন অনিয়ম এবং দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার মাধ্যমে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগের বিষয়ে কেন তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা লিখিতভাবে জানাতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে জেলা বিএনপির কাছে জবাব দাখিল না করলে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়।
জানা গেছে, গত ৯ জুলাই দিবাগত রাতে মনির হোসেন ভূঁইয়া ও আলমগীর হোসেন সিম্পুর নেতৃত্বে অর্ধশতাধিক লোক সোনাইমুড়ী-চাটখিল-রামগঞ্জ সড়কের শিমুলিয়া কলেজ পুকুরপাড় থেকে কালভার্ট পর্যন্ত প্রায় ৩০০ ফুট সরকারি জায়গা টিনের বেড়া দিয়ে দখল করে নেয় বলে অভিযোগ ওঠে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, এ ঘটনায় পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক রুবেল ভূঁইয়া, পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সোহেল ভূঁইয়া এবং যুবদল নেতা মোজাম্মেল হোসেন অপুর নামও উঠে আসে। ঘটনার প্রতিবাদে ১১ জুলাই স্থানীয় বাসিন্দারা সোনাইমুড়ী-চাটখিল সড়কে মানববন্ধন করেন। পরে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এলে ১২ জুলাই জেলা প্রশাসকের নির্দেশে উপজেলা প্রশাসন ও সড়ক ও জনপথ বিভাগের যৌথ অভিযানে ওই অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। এদিকে অভিযুক্ত বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়ে বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুব আলমগীর আলো বলেন, ‘দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান চাঁদাবাজি, দখল ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছেন। দলের কোনো নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় সরকারি জায়গা দখলের অভিযোগে সোনাইমুড়ীর দুই নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।’

