ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬

মার্কিন সেনা নিহতের ঘটনায় ইরানকে কঠিন মূল্য দিতে হবে: ট্রাম্প

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুলাই ২১, ২০২৬, ০৭:৩৪ এএম
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, মার্কিন সেনাদের প্রাণহানির জন্য ইরানকে কঠোর মূল্য দিতে হবে। চলমান উত্তেজনার মধ্যে একাধিক মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার ঘটনার পর সোমবার তিনি এ ধরনের সতর্কবার্তা দেন। যুক্তরাষ্ট্রের তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারিতে সংঘাত শুরু হওয়ার পর এখন পর্যন্ত ১৭ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলায় দুইজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া আরও একজন সেনার দেহাবশেষ শনাক্তের প্রক্রিয়া চলছে।

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, প্রতিবার কোনো মার্কিন সেনাকে হত্যা করা হলে তার জন্য ইরানকে বহুগুণ মূল্য দিতে হবে। তিনি আরও জানান, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান ড্যানিয়েল কেইনের কাছে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে মার্চ মাসে কুয়েতের পোর্ট শুয়াইবায় অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ড্রোন হামলায় ছয় মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার দাবি জানিয়েছে ওয়াশিংটন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের হিসাব অনুযায়ী, চলমান সংঘাতে প্রায় ৪৩০ জন সেনা আহত হয়েছেন। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, নিহত সেনাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ডেলাওয়্যারের ডোভার এয়ার ফোর্স বেসে আয়োজিত মর্যাদাপূর্ণ হস্তান্তর অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তবে পেন্টাগনকে কী ধরনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু প্রকাশ করা হয়নি।

রয়টার্সকে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, জর্ডানে প্রাণঘাতী হামলার আগেই মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত যুদ্ধবিমান ও আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী ট্যাঙ্কার মোতায়েন শুরু করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। এদিকে মার্চ পর্যন্ত ন্যাশনাল কাউন্টারটেররিজম সেন্টারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা জো কেন্ট সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলা আরও বড় ধরনের সংঘাতের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে।

এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ব্যাপক প্রাণহানির আগে মার্কিন সেনাদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া এবং উত্তেজনা বৃদ্ধির এই চক্র থেকে বেরিয়ে আসা প্রয়োজন। এর আগে ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র, সেতু, খার্গ দ্বীপের তেল স্থাপনা এবং ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক-সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোকে সম্ভাব্য সামরিক লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। রয়টার্সের সূত্রের দাবি, হরমুজ প্রণালী সচল রাখার কৌশলের অংশ হিসেবে সাম্প্রতিক মার্কিন হামলাগুলো ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সক্ষমতাকে দুর্বল করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ধারণা, ভবিষ্যতে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর আগে এসব সক্ষমতা ক্ষয় করা প্রয়োজন।