ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন, ২০২৬

বগুড়ার দুপচাঁচিয়া

সাইনবোর্ডেই সীমাবদ্ধ সড়ক আইন

উজ্জ্বল চক্রবর্ত্তী শিশির, দুপচাঁচিয়া
প্রকাশিত: জুন ৫, ২০২৬, ০৬:২৭ এএম

মহাসড়কের পাশে টাঙানো সতর্কতামূলক বিলবোর্ডে স্পষ্ট লেখাÑ অনুমোদন ছাড়া সড়কের নিয়ন্ত্রণরেখার মধ্যে কোনো স্থাপনা নির্মাণ, হাট-বাজার বসানো বা দখল করা নিষিদ্ধ। কিন্তু বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো। বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলায় আইন কেবল সাইনবোর্ডেই সীমাবদ্ধ থাকায় সড়কগুলো এখন দখল, অব্যবস্থাপনা আর দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার আঞ্চলিক ও মহাসড়কের দুই পাশে যত্রতত্র ফেলে রাখা হয়েছে বালু, খোয়া, ইট ও খড়। কোথাও সড়কের ওপরই বসছে অস্থায়ী হাট-বাজার, আবার কোথাও গড়ে উঠেছে স্থায়ী দোকানপাট ও অবৈধ স্থাপনা। এতে সড়ক সংকুচিত হয়ে যান চলাচলে মারাত্মক বিঘœ ঘটছে এবং বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা।

বিশেষ করে বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়কের চৌমুহনী বাজার, সাহারপুকুর বাজার ও মুরাইল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সড়কের দুই পাশে অবৈধ দখলের কারণে প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনের ব্যস্ত সময়ে এসব এলাকায় দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। রাতে কিংবা কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ায় সড়কের পাশে রাখা বালু ও ইটের স্তূপ দূর থেকে বোঝা যায় না, ফলে মোটরসাইকেলসহ ছোট যানবাহনের চালকেরা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) নির্দেশনা অনুযায়ী, অধিগ্রহণকৃত জমির প্রান্তসীমা থেকে ৩৩ ফুটের মধ্যে কোনো স্থাপনা নির্মাণ নিষিদ্ধ। কিন্তু এই নির্দেশনা কার্যকর না থাকায় স্থানীয় প্রভাবশালী ও ব্যবসায়ীরা নির্বিঘেœ দখল চালিয়ে যাচ্ছেন।

মোটরসাইকেলচালক আমিনুল ইসলাম বলেন, সড়কের ওপর খড়, ইট বা বালু রাখার কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনার পরিস্থিতি তৈরি হয়। ব্রেক করতে গিয়ে অনেক সময় চালকরা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা আরিফুর রহমান বলেন, রাস্তা দিয়ে চলাই এখন দায় হয়ে গেছে। একদিকে বড় বড় ট্রাক চলে, আর অন্যদিকে রাস্তার অর্ধেকটা দখল করে রাখা হয়েছে ইট, বালু আর খড় দিয়ে। বিশেষ করে রাতে যখন বাইক নিয়ে ফিরি, তখন বালুর স্তূপগুলো চোখে পড়ে না, হঠাৎ সামনে চলে এলে হার্ডব্রেক করা ছাড়া উপায় থাকে না। বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগেই কি প্রশাসনের টনক নড়বে না? শুধু সাইনবোর্ড লাগিয়ে লাভ কী যদি দখলদারদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থাই না নেওয়া হয়?

নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) দুপচাঁচিয়া উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক তৌফিকুল আলম তৌফিক বলেন, শুধু সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দায়িত্ব শেষ করলে চলবে না। দুপচাঁচিয়া থেকে তালোড়া পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে অবৈধ দখলের কারণে রাস্তা অনেক সংকুচিত হয়ে গেছে। এখানে দ্রুত উচ্ছেদ অভিযান ও আইনের কঠোর প্রয়োগ প্রয়োজন।

স্থানীয়রা বলছেন, সড়ক নিরাপদ রাখতে শুধু প্রচারমূলক কার্যক্রম নয়, বরং দৃশ্যমান উচ্ছেদ অভিযান ও কঠোর নজরদারি চালাতে হবে।

এ বিষয়ে বগুড়া সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাশেদুল হক বলেন, জনসচেতনতা বাড়াতে নিয়মিত বিলবোর্ড টাঙানো হয়। তবে অনেকেই সড়কের জমিকে নিজেদের সম্পত্তি মনে করে ব্যবহার করছেন। খুব দ্রুত অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।