ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা পৌর শহরের কদমতলী মোড় এলাকায় শাহপুর ও আড়াইবাড়ী গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে হজযাত্রীর হারিয়ে যাওয়া লাগেজ নিয়ে সৃষ্ট বিরোধে দফায় দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল শনিবার সকাল থেকে চলা চার ঘণ্টাব্যাপী এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শাহপুর গ্রামের এক বৃদ্ধা এ বছর হজ পালনের জন্য সৌদি আরবে যান, যেখানে তার একটি লাগেজ হারিয়ে যায়। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এ বিষয়ে খোঁজ নিতে তিনি আড়াইবাড়ী গ্রামের মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন পরিচালিত ‘কসবা হজ কাফেলা’ ট্রাভেল এজেন্সিতে যান। ট্রাভেল এজেন্সি কর্তৃপক্ষ লাগেজের দায়ভার নিতে অস্বীকৃতি জানালে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগবিত-া ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার রেশ ধরে শুক্রবার থেকেই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার সকালে শাহপুর ও আড়াইবাড়ী গ্রামের শত শত মানুষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষ চলাকালে এলাকাটি রণক্ষেত্রে পরিণত হয়; ধাওয়া-পালটাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় কদমতলী মোড়সহ আশপাশের এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং কয়েকটি দোকানপাট ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কসবা থানার পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন কয়েক রাউন্ড রাবার বুলেট ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। তবে সংঘর্ষের তীব্রতা এতটাই ছিল যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দীর্ঘ সময় হিমশিম খেতে হয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে।
আহতদের মধ্যে অনেককে কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর ও কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।
কসবা থানার ওসি নাজনিন সুলতানা জানান, পূর্ববিরোধের জের ধরেই এই অনাকাক্সিক্ষত সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে এবং এলাকাটিতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে বলে জানা গেছে।

