× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

নিজস্ব প্রতিবেদক, চাঁদপুর

প্রকাশিত: জুন ১৮, ২০২৬, ০৬:৩০ এএম

১২ বছর পর সড়ক সংস্কার কাজের শুরুতেই অনিয়ম

নিজস্ব প্রতিবেদক, চাঁদপুর

প্রকাশিত: জুন ১৮, ২০২৬, ০৬:৩০ এএম

১২ বছর পর সড়ক সংস্কার  কাজের শুরুতেই অনিয়ম

চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার পরানপুর-বলশিদ-বাদিয়া গ্রামীণ পাকা সড়কের সংস্কার কাজ শুরু হয়েছে দীর্ঘ ১২ বছর পর। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটির সংস্কার ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরলেও কাজের মান, নির্মাণসামগ্রী এবং সড়কের প্রস্থ কমে যাওয়ার অভিযোগে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নি¤œমানের ইট-পাথর ব্যবহার করা হচ্ছে এবং আগের তুলনায় সড়কটি সরু করে নির্মাণ করা হচ্ছে। এ ছাড়া এসব অনিয়মের বিষয়ে প্রতিবাদ করায় উপজেলা প্রকৌশলীর পক্ষ থেকে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন কয়েকজন বাসিন্দা। সম্প্রতি সরেজমিনে শাহরাস্তির ওই এলাকায় গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা, যানচালক ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শাহরাস্তি রেলস্টেশন সংলগ্ন পরানপুর-বলশিদ-বাদিয়া সড়কটি এলাকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগমাধ্যম। এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন শত শত মানুষ যাতায়াত করেন। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয় এবং বর্ষা মৌসুমে চলাচল দুর্ভোগে পরিণত হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৪ সালের পর থেকে সড়কটির বড় ধরনের কোনো সংস্কার হয়নি। দীর্ঘদিন অবহেলার পর বর্তমানে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) রেল স্টেশন রোড সংলগ্ন পূর্ব থেকে পশ্চিমে প্রায় এক কিলোমিটার অংশ সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আলমগীর হোসেন অভিযোগ করে বলেন, ‘আগে এই সড়কের প্রস্থ ছিল ১০ ফুট। কিন্তু বর্তমানে সংস্কারের সময় সাড়ে ৮ ফুট করা হচ্ছে। এতে যান চলাচলে সমস্যা হবে। এ ছাড়া কাজে পুরোনো ও নি¤œমানের ইট ব্যবহার করা হচ্ছে। কার্পেটিংয়ের জন্য আনা পাথরের মান নিয়েও সন্দেহ রয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এসব বিষয়ে আমরা প্রতিবাদ করলে উপজেলা প্রকৌশলী কাজ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেন। পরে জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে বিষয়টি জানাতে গেলে আমাদের কথা গুরুত্ব দিয়ে শোনা হয়নি।’

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, সড়কটি সঠিকভাবে নির্মাণের দাবি জানিয়ে তারা উপজেলা প্রকৌশলীর কাছে গিয়েছিলেন। তবে তাদের অভিযোগ, প্রকৌশলী বিষয়টি সমাধানের পরিবর্তে দাপ্তরিক নিয়মের কথা বলে তাদের ফিরিয়ে দেন। এই সড়কে নিয়মিত ইজিবাইক চালান মো. জুবায়ের। তিনি বলেন, ‘সংস্কারের নামে সড়কটি সরু করা হচ্ছে। আগে যেভাবে দুটি গাড়ি চলাচল করত, এখন সেটি সম্ভব হবে না। একটি অটোরিকশা এলে অন্যটিকে অপেক্ষা করতে হবে। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়বে।’

এদিকে কাজের তদারকির দায়িত্বে থাকা এলজিইডির উপ-সহকারী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সড়কটির প্রস্তাবনায় ১৮ ফুট প্রস্থ রাখা হয়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় মানুষের চলাচলে সমস্যা হচ্ছিল, তাই দ্রুত সংস্কার করা হচ্ছে।’ তিনি জানান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে ওমর ফারুক কাজটি করছেন। প্রায় এক কিলোমিটার সড়ক সংস্কারে ব্যয় ধরা হয়েছে ৭৪ লাখ টাকা।

ঠিকাদার ওমর ফারুকের কাছে কাজের মান নিয়ে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সিডিউলে যেভাবে কাজের নির্দেশনা দেওয়া আছে, সেভাবেই কাজ করছি। এর বাইরে আমার কিছু বলার নেই।’

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে শাহরাস্তি উপজেলা প্রকৌশলী মো. মইনুল ইসলামের কার্যালয়ে গেলে তিনি কথা বলার জন্য সময় নেন। এ সময়ের মধ্যে তিনি ঠিকাদারকে তার কার্যালয়ে ডেকে নেন। পরে তিনি বলেন, ‘কাজ শুরুর সময় স্থানীয়দের আপত্তির কারণে ২৫ দিন কাজ বন্ধ রাখা হয়েছিল। আগামী ২৫ জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।’

স্থানীয়দের অভিযোগ প্রসঙ্গে উপজেলা প্রকৌশলী বলেন, ‘সড়ক সরু করার অভিযোগ সঠিক নয়। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সড়কের ওপরের অংশ কিছুটা প্রশস্ত হয়ে গিয়েছিল। এখন নকশা অনুযায়ী কাজ করা হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, কাজের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়ম ও মান বজায় রাখা হচ্ছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর শুরু হওয়া এই সড়কের সংস্কার যেন টেকসই ও মানসম্মত হয়। এ জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত তদারকি প্রয়োজন।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!