দেশব্যাপী ফিটনেসবিহীন ও অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে সরকারি কঠোর অবস্থানের মধ্যেই ঢাকার ধামরাই সরকারি কলেজে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য চালু করা হয়েছে দুটি মেয়াদোত্তীর্ণ বাস। বাস দুটির ফিটনেস সনদ ও ট্যাক্স টোকেনের মেয়াদ প্রায় তিন বছর আগেই শেষ হয়ে গেছে। এ ঘটনায় কলেজ কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতা নিয়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, কলেজ প্রতিষ্ঠার ৫৪ বছর পর শিক্ষার্থীদের যাতায়াত সুবিধার জন্য বিআরটিসি থেকে ‘বংশাই’ ও ‘তারুণ্য’ নামে দুটি বাস চলাচলের উদ্যোগ নেওয়া হয়। গতকাল বুধবার দুপুরে স্থানীয় সংসদ সদস্য (এমপি) তমিজ উদ্দিন বাস দুটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন। কিন্তু বিআরটিএ-এর তথ্য অনুযায়ী, ‘ঢাকা মেট্রো-ব-১৫-৬২৩৬’ বাসটির ফিটনেস ও ট্যাক্স টোকেনের মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০২৩ সালের এপ্রিলে এবং ‘ঢাকা মেট্রো-ব-১৫-৬২৭৭’ বাসটির মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে। অথচ শিক্ষার্থী পরিবহনের জন্য ৩৪টি শর্ত সংবলিত একটি কমিটি গঠন করা হলেও বাস নির্বাচনের ক্ষেত্রে কোনো নিয়মই মানা হয়নি।
বাস দুটির চালকরা জানান, দীর্ঘদিন অচল থাকার পর সেগুলো শুধু বাহ্যিকভাবে সংস্কার ও রঙ করে চলাচলের উপযোগী করা হয়েছে।
শিক্ষার্থীরা জানায়, তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এমন বাসে যাতায়াত করতে চায় না। মৃদুল নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমরা আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং বৈধ কাগজপত্রসহ নিরাপদ ও মানসম্মত পরিবহন ব্যবস্থা চাই।’ আফছানা আক্তার নামে আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘শত শত শিক্ষার্থীর নিরাপত্তার সাথে সংশ্লিষ্ট এমন বিষয়ে কর্তৃপক্ষের আরও সচেতন হওয়া উচিত ছিল। কেবল রং করলেই কোনো যানবাহন নিরাপদ হয়ে যায় না।’
সংশ্লিষ্টদের মতে, সড়ক পরিবহন আইন অনুযায়ী বৈধ ফিটনেস ছাড়া কোনো যানবাহন সড়কে চলতে পারে না। সেখানে সরকারি একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কীভাবে নিয়মবহির্ভূতভাবে এই বাসগুলো শিক্ষার্থীদের জন্য চালু করল, তা নিয়ে জনমনে বড় ধরনের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এখন শিক্ষার্থীদের দাবি, দ্রুত বাসগুলোর কাগজপত্র হালনাগাদ করে একটি নিরাপদ যাতায়াত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হোক।
কলেজের পরিবহন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক মো. শফিউল্লাহ বলেন, যদি এমন হয়ে থাকে, তবে আমরা অবশ্যই তা মেনে নেব না। বিআরটিএ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করব।
অন্যদিকে, কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. ইফতেখার আলী বলেন, ‘আমরা তো কল্পনাও করতে পারিনি যে বিআরটিসির মতো সরকারি প্রতিষ্ঠান আমাদের ফিটনেসবিহীন গাড়ি দেবে। যেহেতু বিষয়টি সামনে এসেছে, আমরা এখন তাদের অনুরোধ করব শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করতে।’

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন