× UCB Sticker Card
শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রাস্তা সংস্কারে উপড়ে ফেলা হলো তালগাছ

উল্লাপাড়া (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জুন ২০, ২০২৬, ০২:১২ এএম

রাস্তা সংস্কারে উপড়ে  ফেলা হলো তালগাছ

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার কয়ড়া ইউনিয়নে কাঁচা রাস্তা সংস্কারের কাজ করতে গিয়ে প্রায় ২০টি সরকারি তালগাছ উপড়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, রাস্তার পাশে থাকা ফসলি জমি থেকে সহজে মাটি কাটার সুবিধার্থে ভেকু মেশিন ব্যবহার করে গাছগুলো অপসারণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

জানা গেছে, বজ্রপাত নিয়ন্ত্রণ ও পরিবেশ সুরক্ষার উদ্দেশ্যে প্রায় ১০ থেকে ১২ বছর আগে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে কয়ড়া খামারপাড়া থেকে হোরগাঁতী পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কের পাশে তালগাছগুলো রোপণ করা হয়েছিল। বর্তমানে কয়ড়া ইউনিয়ন পরিষদের অধীনে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (টিআইসি) মাধ্যমে সড়কটির সংস্কার ও উন্নয়নকাজ চলছে। বৃহস্পতিবার বিকেল ও শুক্রবার সকালে কাজ চলাকালে গাছগুলো উপড়ে ফেলা হয়। প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন স্থানীয় ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. আমিরুল ইসলাম।

স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, ভেকু মেশিন দিয়ে রাস্তার পাশের কৃষিজমি থেকে মাটি কাটার সুবিধার্থে তালগাছগুলো সরিয়ে ফেলা হয়েছে। একই সঙ্গে পাশের কয়েকটি ফসলি জমিতে গভীর গর্ত করে সেখান থেকে মাটি তুলে সড়কে ফেলা হচ্ছে। এতে জমির মালিকরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিক এরশাদ আলী, আব্দুল মমিন ও ইউসুব আলী জানান, বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতে লাগানো তালগাছগুলো এলাকার মানুষের নিরাপত্তার প্রতীক ছিল। কোনো ধরনের পূর্বঘোষণা বা অনুমতি ছাড়াই গাছগুলো উপড়ে ফেলায় তারা হতাশ। পাশাপাশি জমি কেটে নেওয়ায় কৃষিকাজও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

এ বিষয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ও ৩ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মো. আমিরুল ইসলাম বলেন, তিনি পদাধিকারবলে সভাপতি হলেও কাজের বাস্তব তদারকিতে ছিলেন না। তার দাবি, কমিটির সদস্য এবং কয়ড়া ইউনিয়ন জামায়াতের বায়তুলমাল সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক কাজ পরিচালনা করছিলেন এবং গাছ অপসারণের সিদ্ধান্তও তার পক্ষ থেকেই নেওয়া হয়ে থাকতে পারে।

তবে আবু বকর সিদ্দিক বলেন, তিনি সরাসরি কাজের সঙ্গে যুক্ত নন, কেবল তদারকি করেছেন। স্থানীয় জনগণের সুবিধার কথা বিবেচনা করে গাছগুলো অপসারণ করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। কাজ শেষে নতুন করে তালগাছ রোপণ করা হবে বলেও জানান। তবে গাছ অপসারণের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কোনো উত্তর দিতে পারেননি।

কয়ড়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন বলেন, তিনি সম্প্রতি দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। প্রকল্পটি আগের সময়ের হওয়ায় বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানেন না। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করা হবে।

উল্লাপাড়া বন বিভাগের কর্মকর্তা দেওয়ান শহিদুজ্জামান বলেন, বন বিভাগের অনুমতি ছাড়া সরকারি জায়গা থেকে কোনো গাছ কাটার বিধান নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান ভূঁইয়া জানান, বজ্রপাত নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির আওতায় তার দপ্তরের উদ্যোগেই প্রায় এক যুগ আগে তালগাছগুলো রোপণ করা হয়েছিল। সরকারি এসব গাছ কোনোভাবেই উপড়ে ফেলার সুযোগ নেই। অভিযোগের বিষয়ে দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, উন্নয়নকাজের নামে পরিবেশ ও সরকারি সম্পদ ধ্বংসের ঘটনা গ্রহণযোগ্য নয়। গাছ উচ্ছেদের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পুনরায় বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!