পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় সরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ২০২৫ শিক্ষাবর্ষের নতুন বই, পুরোনো পাঠ্যবই ও খাতাসহ একটি ট্রাক জব্দ করেছে স্থানীয় প্রশাসন। গত শুক্রবার দুপুরে পৌর শহরের উত্তর মিঠাখালী এলাকায় মেসার্স হান্নান এন্টারপ্রাইজ নামক একটি ভাঙারি দোকানের সামনে থেকে বইভর্তি ট্রাকটি জব্দ করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উত্তর মিঠাখালী এলাকায় বগুড়া ট্রান্সপোর্টের একটি ট্রাকে সরকারি বইগুলো ওঠানোর সময় এলাকাবাসীর সন্দেহ হয়। পরে খবর পেয়ে মঠবাড়িয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুদীপ্ত দেবনাথ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বইসহ ট্রাকটি জব্দ করেন।
ভাঙারি দোকানের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ উল্লাহ জানান, তারা বিভিন্ন ফেরিওয়ালার কাছ থেকে দীর্ঘদিন ধরে পুরোনো কাগজ ও লোহা সংগ্রহ করছেন। তবে এবারের বইগুলোর উৎস হিসেবে জাকারিয়া নামে এক ফেরিওয়ালার নাম উল্লেখ করেন তিনি। আটক ফেরিওয়ালা জাকারিয়া জানান, প্রায় এক সপ্তাহ আগে মঠবাড়িয়া সরকারি হাতেম আলী বালিকা বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আকতার হোসেনের কাছ থেকে ২০২৫ শিক্ষাবর্ষের নতুন বইসহ মোট ৫৮৭ কেজি সরকারি বই ও খাতা কয়েক হাজার টাকায় কিনেছেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে সরকারি হাতেম আলী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আকতার হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে প্রশাসনের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, কয়েকজন শিক্ষককে সঙ্গে নিয়ে কিছু পুরোনো বই মাত্র ৩ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি করেছেন।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি সম্পদ বেচাকেনার এই ঘটনায় প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বহীনতা এবং দুর্নীতির বিষয়টি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুদীপ্ত দেবনাথ জানান, জব্দ করা বইসহ ট্রাকটি বর্তমানে থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। বিষয়টি মোবাইল কোর্টের আওতাভুক্ত নয়। তাই আজ (রোববার) অফিস চলাকালীন উপজেলা পুরাতন বই বিক্রি কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। তারাই এ বিষয়ে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আকলিমা আক্তার বলেন, বিদ্যালয়ে চাহিদা অনুযায়ী বই বরাদ্দ দেওয়া হয়, তাই অতিরিক্ত বই থাকার কথা নয়। আর যদি অতিরিক্ত বই থেকে থাকে, তবে তা নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করতে হয়। প্রধান শিক্ষক বই বিক্রির বিষয়ে আমাকে কিছুই জানাননি। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

