ভোলার লালমোহন উপজেলার তেঁতুলিয়া নদীর ভাঙনে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে ফরাজগঞ্জ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গাইমারা এলাকার জনজীবন। দীর্ঘদিনের জরাজীর্ণ ও অরক্ষিত বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে জোয়ারের পানি প্রবেশ করায় করতোয়া আবাসনের ১৪০টি পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে। বর্ষা মৌসুমের এই সময়ে বাঁধের ভাঙা অংশ দিয়ে পানি প্রবেশ করায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্থানীয়দের।
সরেজমিন দেখা গেছে, গাইমারা এলাকায় তেঁতুলিয়া নদীর পাড় ঘেঁষে প্রায় ২ কিলোমিটার দীর্ঘ বেড়িবাঁধের অধিকাংশ অংশ ইতিমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বাঁধের দুটি স্থান সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হওয়ায় জোয়ারের পানি অবাধে লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে। এতে আবাসনের বাসিন্দাদের বসতঘরগুলো জলমগ্ন হয়ে পড়েছে।
আবাসনের বাসিন্দা মানিক, নাজমা ও রহিমা বেগম জানান, বছরের পর বছর তারা চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। বাড়ি-ঘরের চাল ভাঙা থাকায় বৃষ্টির পানি পড়ার পাশাপাশি এখন জোয়ারের লোনা পানি ঘরে ঢুকে যাচ্ছে। তারা বলেন, শুকনো মৌসুমে কোনোমতে টিকে থাকলেও বর্ষা মৌসুমে আমাদের অবস্থা অবর্ণনীয়। জোয়ারের সময় পানি টইটম্বুর হয়ে যায়, তখন সন্তানদের নিয়ে আতঙ্কে ঘরে বসে থাকি।
ভুক্তভোগী বাসিন্দা মাসুদ, বজলু ও আব্বাস ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বর্ষার এই ভরা মৌসুমে বাঁধ মেরামত না করা হলে পুরো এলাকা তেঁতুলিয়া নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। আমরা চাই, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) অবহেলা ও উদাসীনতার কারণেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, প্রতিবছর বর্ষা ও দুর্যোগ মৌসুমে নামকাওয়াস্তে কিছু জিও ব্যাগ ফেলেই মোটা অঙ্কের টাকা খরচ দেখানো হয়, যা বর্ষা মৌসুম শেষ হওয়ার আগেই নদীগর্ভে তলিয়ে যায়। তারা স্থায়ী ও টেকসই বাঁধ নির্মাণের জোর দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে লালমোহন পাউবোর উপবিভাগীয় প্রকৌশলীর কার্যালয়ে গেলে কোনো কর্মকর্তাকে পাওয়া যায়নি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আহসান আহমেদ খানসহ ওই অফিসের কর্মকর্তারা লালমোহনে অফিস না করে চরফ্যাশন পানি উন্নয়ন বোর্ড-২-এর কার্যালয় থেকে দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। ফলে স্থানীয় পর্যায়ে সেবা পেতে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে ভুক্তভোগীদের।
ভোলা পাউবোর বোর্ড-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসফাউদদৌলা জানান, আমরা লালমোহনের তেঁতুলিয়া নদীর পাড়ের ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ এলাকাটি পরিদর্শন করেছি। খুব দ্রুতই এর স্থায়ী সমাধানে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

