ঢাকা শুক্রবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৫

জোয়ার এলেই ডুবে যায় বিদ্যালয় মাঠ

নলছিটি (ঝালকাঠি) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: আগস্ট ২৯, ২০২৫, ০৭:৫৯ এএম
বিদ্যালয়

মাত্র চার কক্ষবিশিষ্ট একটি একতলা ভবনে ৮১ জন শিক্ষার্থীর বিদ্যালয়টির পাঠদানসহ যাবতীয় কার্যক্রম। এর মধ্যে একটি কক্ষ শিক্ষকদের বসার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। বাকি তিনটিতে চলছে পাঁচটি শ্রেণির শিশুদের পাঠদান। কোনো ধরনের জটিলতা ছাড়া বিদ্যালয়টিতে এ অবস্থা চলছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষকরা।

ঝালকাঠির নলছিটি  উপজেলার নাচনমহল  ইউনিয়নে ৮১নং ভবানীপুর  সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবস্থান। দ্রুত সমস্যা সমাধান করে বিদ্যালয়টিকে আধুনিক ও মানসম্পন্ন একটি বিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তোলার দাবি শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক ও এলাকাবাসীর।

বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক আফজাল আকন বলেন, এ এলাকার এই একটিমাত্র সরকারি বিদ্যালয়। এর দুরবস্থা চোখে না দেখলে বোঝার উপায় নেই। ওখানে শিক্ষার উপযুক্ত পরিবেশে অনেক ঘাটতি আছে।

আরেক অভিভাবক ভবানীপুর  গ্রামের জালাল হোসেন ডাকুয়া বলেন, উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ের বাউন্ডারি ওয়াল আছে, সুন্দর ভবন আছে, সুন্দর খেলার মাঠ আছে কিন্তু এ বিদ্যালয়টি অবহেলিত রয়ে গেছে।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৯৪৩ সালে ৩৩ শতাংশ জমির ওপর গড়ে ওঠে বিদ্যালয়টি। সে সময় বিদ্যালয়টির নামে এ জমি দান করেন ওই এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়। ১৯৯২ সালে নির্মিত হয় চার কক্ষের বর্তমান এই একতলা ভবন। এ ভবনেই চলছে বিদ্যালয়টির কার্যক্রম। বর্তমানে শতাধিক শিক্ষার্থী ও ৪ জন শিক্ষক রয়েছেন এ বিদ্যালয়ে।

আরও দেখা যায়, বিদ্যালয়ের মাঠে গরু ছাগল বাঁধা রয়েছে। বিদ্যালয়ের মাঠ খানাখন্দে ভরা, খেলাধুলার অনুপযোগী। জোয়ার এলেই ডুবতে থাকে স্কুলের মাঠ পূর্ণ জোয়ারে মাঠে পানি থাকে ২ ফুটের বেশি যা শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নিয়ে ভয়ের কারণ। তাদের সবসময় চোখে চোখে রাখতে হয় অন্যথায় যেকোনো সময় ঘটতে পারে অনাকাক্সিক্ষত দুর্ঘটনা শঙ্কায় থাকেন শিক্ষক ও অভিভাবকরা। এ ছাড়াও মাঠের দুই পাশই রাস্তার সাথে সংযুক্ত থাকায় রাস্তার অবস্থা আরও বেহাল।

বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী স্নিগ্ধা বলে, বৃষ্টি হলে ক্লাসরুমে পানি পড়ে। মাঝেমধ্যে পলেস্তারা খসে পড়ে। আমাদের আতঙ্কে থাকতে হয়। এ ছাড়া লেইজারে আমরা খেলাধুলা করতে পারি না। কারণ মাঠে তখন হাঁটুসমান পানি থাকে। তাই রাস্তায় ঘোরাফেরা করা ছাড়া উপায় নেই।

একই শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. আব্দুল্লাহ  হোসেন বলে, একটিমাত্র টয়লেট থাকায় টয়লেট ব্যবহার করতে সমস্যা হয়। নতুন টয়লেট হবে শুনেছি কিন্তু কাজ এক বছর ধরে পড়ে আছে।

একজন শিক্ষক বলেন, মাঠটি খেলাধুলা করার উপযুক্ত করা দরকার। বাউন্ডারি ওয়াল না থাকলে আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না। তা ছাড়া ওয়াসব্লকের কাজ পরে আছে দীর্ঘ এক বছরের বেশি সময় সেটিও জঙ্গলে ঘিরে আছে।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. কামরুল হাসান বলেন, আমাদের তিনটি বিষয়ে সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। প্রথমত, একটি ভবন দরকার, বাউন্ডারি ওয়াল দিয়ে শিক্ষার্থীদের তথা বিদ্যালয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, তৃতীয় জরুরি বিষয় হচ্ছে মাঠটি বালু দিয়ে ভরাট করা। এবং ওয়াসব্লকের কাজ সম্পন্ন করা। এ ছাড়া শিক্ষার অনুপযোগী হয়ে পড়বে বিদ্যালয়টি।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শিরিন আক্তার বিদ্যালয়টির সমস্যার কথা স্বীকার করে জানান, নতুন ভবন ও খেলার মাঠ ভরাটের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি এবং চিঠি দিয়েছি। এর বাইরে তো আমার করার কিছু নেই।