বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া উৎসব ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হতে আর মাত্র একদিন বাকি, ঠিক এমন মুহূর্তে টিকিটের ন্যায্য অধিকার নিয়ে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছে ইরান। ইরান ফুটবল ফেডারেশনের (এফএফআইআরআই) দাবি, টুর্নামেন্টে তাদের দেশের সমর্থকদের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে বরাদ্দ থাকা টিকিট হঠাৎ করেই বাতিল করা হয়েছে। ফেডারেশন এই আকস্মিক সিদ্ধান্তকে আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপে ইরানি সমর্থকদের উপস্থিতি প- করার একটি সুনির্দিষ্ট ও পরিকল্পিত চক্রান্ত হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে ইরানের ফুটবল অনুরাগীদের একটি বিশাল অংশ চরম ধাক্কা খেয়েছে, কারণ দেশের খেলা মাঠে বসে দেখার জন্য যারা ইতোমধ্যে ভ্রমণের সব প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা সম্পন্ন করেছিলেন, তারা এখন ম্যাচগুলো সরাসরি দেখা থেকে বঞ্চিত হতে যাচ্ছেন।
ফিফার সুনির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী, বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী প্রতিটি দেশ তাদের প্রতিটি ম্যাচের মোট টিকিটের আট শতাংশ করে বরাদ্দ পেয়ে থাকে, যা সংশ্লিষ্ট দেশের ফুটবল ফেডারেশনের মাধ্যমে সমর্থকদের মাঝে আনুষ্ঠানিকভাবে বিতরণ করা হয়। ইরানও এই আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী টিকিট পাওয়ার যোগ্য ছিল। কিন্তু এক বিবৃতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে এফএফআইআরআই জানিয়েছে, একটি অত্যন্ত অপ্রত্যাশিত ও একতরফা পদক্ষেপের মাধ্যমে ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সেই টিকিট বরাদ্দ পুরোপুরি বাতিল করা হয়েছে এবং বর্তমান জটিল পরিস্থিতিতে জাতীয় দলের সমর্থকদের জন্য একটি টিকিটও সরবরাহ করতে পারছে না দেশের ফেডারেশন। এই বৈষম্যমূলক পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার মূল চেতনা এবং অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে সমতার নীতির সম্পূর্ণ পরিপন্থি বলে দাবি করেছে ইরান।
চলতি বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে আগে থেকেই নানামুখী কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক টানাপোড়েন চলছিল। অনেক নাটকীয়তার পর নিজেদের প্রথম ম্যাচ শুরু হওয়ার মাত্র দশ দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পান ইরানের ফুটবলাররা, যদিও গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ীÑ দেশটির কয়েকজন ফুটবল কর্মকর্তা এখনো ভিসা পাননি।
উল্লেখ্য, এবারের বিশ্বকাপে ইরানের গ্রুপপর্বের তিনটি ম্যাচই অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্রে। তবে গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর দেশটিতে গিয়ে খেলতে তীব্র আপত্তি জানায় ইরান, যা তাদের বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া নিয়েই বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করেছিল। ১৯৩০ সালে বিশ্বকাপের যাত্রা শুরুর পর ফুটবল ইতিহাসে এই প্রথম এমন এক নজিরবিহীন আসর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যেখানে আয়োজক দেশ এমন একটি দেশকে আতিথেয়তা দিতে বাধ্য হচ্ছে, যাদের সঙ্গে তাদের সরাসরি যুদ্ধ চলছে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন