ফিফা বিশ্বকাপে প্রথম জয়ের জন্য নিউজিল্যান্ডের অপেক্ষা আরও কিছুটা দীর্ঘ হলো। চলমান ফুটবল বিশ্বকাপে ইরানের বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র করেছে তারা। তবে কাক্সিক্ষত জয় না পেলেও ম্যাচটি বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এবং নিউজিল্যান্ডের জন্য চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। কারণ এই ম্যাচের মধ্য দিয়েই ফিফা বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো মা-ছেলে জুটির খেলার অনন্য রেকর্ড তৈরি হলো।
ইরানের বিপক্ষে ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে ইনজুরি টাইমে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামেন নিউজিল্যান্ডের ২১ বছর বয়সি ডিফেন্ডার টাইলার বিনডন। তিনি যখন সবুজ ঘাসে পা রাখেন, সঙ্গে সঙ্গে ফুটবল বিশ্বে এক নতুন ইতিহাস রচিত হয়। টাইলার ও তার মা জেনি বিনডন যৌথভাবে ফিফা বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম মা-ছেলে জুটি হিসেবে নিজেদের নাম লেখান।
টাইলারের মা জেনি বিনডন নিউজিল্যান্ড নারী ফুটবল দলের সাবেক তারকা গোলরক্ষক। তিনি ২০০৭ ও ২০১১ সালের নারী বিশ্বকাপে দেশের হয়ে মাঠ মাতিয়েছেন। এ ছাড়া ২০০৮ সালের বেইজিং অলিম্পিক এবং ২০১২ সালের লন্ডন অলিম্পিকেও নিউজিল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করার গৌরব অর্জন করেন তিনি। ২০০৪ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ এক দশকের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে নিউজিল্যান্ডের জার্সিতে ৭৭টি ম্যাচ খেলেছেন জেনি।
বিশ্বকাপের মঞ্চে এমন গৌরবময় ইতিহাস গড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন এক বার্তা দিয়েছেন টাইলার বিনডন। তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্বকাপে তার এই অভিষেক ম্যাচ অনেক কারণেই বিশেষ একটি দিন। বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া মঞ্চে নিজের দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে তিনি যেমন গর্বিত, তেমনি মায়ের দেখানো পথে হেঁটে এই অনন্য মুহূর্তটি ভাগ করে নিতে পারা তার জীবনের অন্যতম বড় প্রাপ্তি।
টাইলারের পরিবারে ক্রীড়াচর্চা নতুন কিছু নয়, ফুটবল ও খেলাধুলা যেন তাদের রক্তে মিশে আছে। তার বাবা গ্রান্ট বিনডনও ছিলেন একজন প্রতিষ্ঠিত অ্যাথলেট। তিনি নিউজিল্যান্ড পুরুষ ভলিবল দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন। অকল্যান্ডে জন্ম নেওয়া টাইলার ১২ বছর বয়সে মায়ের সঙ্গে ক্যালিফোর্নিয়ায় চলে যান। সে সময় তার মা ইউসিএলএর নারী ফুটবল দলের সহকারী কোচ নিযুক্ত হন। এরপর লস অ্যাঞ্জেলেস এফসির একাডেমি, রিডিং এবং নটিংহাম ফরেস্টের মতো ক্লাবগুলো হয়ে অবশেষে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে জায়গা করে নেন এই উদীয়মান সেন্টার ব্যাক।
বিশ্বকাপের দীর্ঘ ইতিহাসে এর আগে একাধিক বাবা-ছেলে জুটির খেলার নজির দেখা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ক্লদিও রেইনা ও তার ছেলে জিওভানি রেইনা কিংবা নরওয়ের আলফ-ইঙ্গে হালান্ড ও তার ছেলে আর্লিং হালান্ডের নাম এই তালিকায় উল্লেখযোগ্য। তবে ফুটবলের সর্বোচ্চ আসরে মা ও ছেলের একসঙ্গে বিশ্বরেকর্ড গড়ার ঘটনা এটাই প্রথম। আর সে কারণেই ইরানের বিপক্ষে নিউজিল্যান্ডের ড্রয়ের রাতটি কেবল একটি ম্যাচের ফলাফল ছাড়িয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসের এক বিশেষ ও অবিস্মরণীয় অধ্যায় হয়ে রইল।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন