সর্বশেষ বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় গঠনতন্ত্র সংস্কারের বিষয়টি আলোচনা হয়েছে। তিন সদস্যের কমিটির দেওয়া খসড়া গঠনতন্ত্রে নতুনত্ব এসেছে। তবে গঠনতন্ত্রে মৌলিক কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। নতুন গঠনতন্ত্রে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হলোÑ কার্যনির্বাহী কমিটিতে একজন তিনবারের বেশি মেয়াদে থাকতে পারবেন না।
বর্তমান গঠনতন্ত্রে নির্বাহী কমিটির কোন পদে কতবার প্রতিনিধিত্ব করা যাবে, তার সুনির্দিষ্ট কোনো সীমা নেই। অবশ্য সভাপতি পদে কিছুটা শিথিলতা রয়েছে। কেউ দুই মেয়াদে সহসভাপতি বা সদস্য থাকলে পরবর্তীতে সভাপতি নির্বাচিত হলে তিনি আরও দুবার একই পদে নির্বাচন করতে পারবেন। খসড়া গঠনতন্ত্রের ৩৭ অনুচ্ছেদে এ ব্যাপারে বলা হয়েছে। বাফুফের কার্যনির্বাহী কমিটির আগামী মেয়াদ থেকে এ নিয়ম কার্যকর হবে। সে ক্ষেত্রে বাফুফের বর্তমান কমিটিতে থাকা অনেকেই তিন মেয়াদের বেশি দায়িত্ব পালন করছেন। তারাও নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। তাদের সামনে বাধা থাকছে না। নতুন গঠনতন্ত্র পাস হলেও তারা পুনরায় নির্বাচন করার সুযোগ পাবেন। গঠনতন্ত্রের ৯১ অনুচ্ছেদে ট্রানজিশনাল প্রভিশনের ৪ ধারায় বলা হয়েছে, নতুন গঠনতন্ত্র পাস হওয়ার পরবর্তী নির্বাচন থেকে মেয়াদ গণনা শুরু হবে।
অন্যদিকে, খসড়া গঠনতন্ত্রে ফিফা-এএফসি আদলে নির্বাচনব্যবস্থা কিছুটা জটিল করা হয়েছে। সভাপতি, সহসভাপতি পদে নির্বাচন করার জন্য দুজন সমর্থক কিংবা প্রস্তাবক হলেই চলে। কিন্তু খসড়া গঠনতন্ত্রে অন্তত পাঁচজনের সমর্থনের কথা বলা হয়েছে। আর সদস্য পদে দুজনই বহাল থাকছে। এ ছাড়া সভাপতি, সিনিয়র সহসভাপতি, সহসভাপতি পদে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হতেন। নতুন গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ওই পদগুলোতে নির্বাচিত হতে হলে কাস্টিং ভোটের ৫০ শতাংশ পেতে হবে। তা ছাড়া বিদ্যমান গঠনতন্ত্রে ২৫ বছরের কম এবং ৭২ বছরের বেশি হলে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া যাবে না বলা আছে। তবে খসড়া গঠনতন্ত্রে বয়সের কোনো নিষেধাজ্ঞা রাখা হয়নি।
যেকোনো বয়সে যে কেউ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন। অবশ্য খসড়া গঠনতন্ত্রে নির্বাহী কমিটির আকার ২১ সদস্যই থাকছে। বিন্যাসটাও বর্তমানের মতোই সভাপতি, সিনিয়র সহসভাপতি, চার সহসভাপতি ও ১৫ নির্বাহী সদস্য। তবে ১৫ নির্বাহী সদস্যের মধ্যে ন্যূনতম দুজন নারী সদস্যের বিধান রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, নির্বাহী কমিটির ৫০ শতাংশের কম শূন্য হলে সেটি উপনির্বাচনের মাধ্যমে পূরণ করা যাবে। উপনির্বাচনে কেউ জয়ী হলে সেটি পূর্ণ এক মেয়াদ হিসেবেই গণ্য হবে। নির্বাহী কমিটির ৫০ শতাংশ শূন্য বা পদত্যাগ করলে তখন অতিসত্বর জরুরি সাধারণ সভা ডেকে পূর্ণাঙ্গ নির্বাচনের আয়োজন করতে হবে। নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত দৈনন্দিন কাজ চলমান রাখবে বাফুফে সচিবালয়। খসড়ায় নির্বাহী কমিটির সভা বছরে তিনটি থেকে বাড়িয়ে চারটি করা হয়েছে। নির্বাহী কমিটির নির্বাচনের সময় প্রার্থীদের ফরম পূরণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে খসড়া গঠনতন্ত্রে।
সেখানে ফিফার আইনে কোনো সাজা, ফুটবল ছাড়াও ক্রীড়াঙ্গনে কোনো শাস্তি আছে কি নাÑ এ-সংক্রান্ত তথ্য প্রদান করতে হবে। আদালত কর্তৃক সাজাপ্রাপ্ত কেউ নির্বাচন করতে পারবে না, সেটা বর্তমানের মতো এই খসড়ায়ও রয়েছে। সিভিল ও ক্রিমিনাল কোনো মামলা আছে কি না, থাকলে সেটা কী সংক্রান্তÑ এ তথ্যও পূরণ করতে হবে। বাফুফের নতুন গঠনতন্ত্র পাস হলে বিদ্যমান কমিটির কারো এ ধরনের কোনো সমস্যা থাকলেও তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। পরবর্তী নির্বাচন থেকে তা কার্যকর হবে।
এদিকে, ডিসিপ্লিনারি ও আপিল কমিটিতে বাফুফের নির্বাহী কমিটির কেউ থাকতে পারবেন না। খসড়া গঠনতন্ত্রে ডিসিপ্লিনারি, আপিল, নির্বাচন কমিশন ও অডিট কমপ্ল্যায়েন্স কমিটিকে সম্পূর্ণ স্বাধীন ও নির্বাচিত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া খসড়া গঠনতন্ত্রে বাফুফের অংশীদার কিংবা ডেলিগেট কোথাও বিভাগীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন নেই। যদিও জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন রয়েছে। বর্তমান গঠনতন্ত্রের মতোই খসড়ায়ও ১৮টি স্ট্যান্ডিং কমিটি রয়েছে।