ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার ৮নং নন্দুয়া ইউনিয়নে ২৫ বছর ধরে ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব ভবন না থাকায় প্রায় ৪০ হাজার মানুষ আধুনিক নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছেন।
জানা গেছে, ২০০০ সালের ৩০ মে মো. এলাহী বক্স ৩৯৮৭ নং দানপত্র দলিলের মাধ্যমে ৮নং নন্দুয়া ইউনিয়ন পরিষদের নামে জমি দান করেন। ওই জমিতে ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণকাজ শুরু হলেও তা বন্ধ হয়ে যায়। পরে স্থানান্তরের দাবিতে মো. তবিবর রহমান (বর্তমানে মৃত) রাণীশংকৈল সহকারী জজ আদালতে মামলা করেন।
পরবর্তীতে সহকারী জজ আদালতে মামলাটি খারিজ হলে বাদীপক্ষ যুগ্ম জেলা জজ আদালতে আপিল করেন, যেখানে আপিল মঞ্জুর হয়। সর্বশেষ আপিল রায়ের বিরুদ্ধে সরকার পক্ষ হাইকোর্টে রিভিশন করলে দীর্ঘদিন ধরে মামলা চলমান থাকায় ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণ কার্যক্রম স্থবির হয়ে যায়।
ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব ভবন না থাকায় বর্তমানে পরিষদের কার্যক্রম বাজারের একটি ভবনের মাত্র দুটি কক্ষে পরিচালিত হচ্ছে। এতে জনপ্রতিনিধি ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সেবা দিতে গিয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংরক্ষণ, প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা ও জনসেবা প্রদানে মারাত্মক সমস্যা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু জনপ্রতিনিধির কর্তৃত্বমূলক আচরণ ও মামলা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে এই সংকট আরও দীর্ঘায়িত হয়েছে। এতে সাধারণ জনগণ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
ইউনিয়ন পরিষদের সচিব দবিরুল ইসলাম বলেন, ‘মাত্র দুটি কক্ষ নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের সব কার্যক্রম পরিচালনা করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। উদ্যোক্তাদের জন্য কোনো নির্দিষ্ট কক্ষ না থাকায় তাদের বাইরে বসে সেবা দিতে হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘চাল বিতরণ ও টিসিবি কার্যক্রমের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবাগুলোও বাইরে ঘর ভাড়া নিয়ে পরিচালনা করতে হচ্ছে। আধুনিক ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মিত হলে জনগণের সেবার মান অনেক উন্নত হবে।’
ইউনিয়নবাসীর দাবি, দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি করে ৮নং নন্দুয়া ইউনিয়নের যেকোনো সুবিধাজনক স্থানে একটি স্থায়ী ও আধুনিক ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণ করা হোক। তারা মনে করেন, এতে নাগরিক সেবার মান বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে এবং দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে।
ইউনিয়নবাসী আশা করছেন, দ্রুত একটি ইতিবাচক ও টেকসই সমাধান বের করা হবে।



সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন