মিয়ানমারের সামরিক জান্তা সরকারের হাতে বন্দি দেশটির গণতন্ত্রপন্থি নেত্রী অং সান সু চির দীর্ঘদিন ধরে কোনো খোঁজ মিলছে না। পাঁচ বছর আগে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তার সরকারকে উৎখাত করার পর থেকেই তিনি কার্যত জনসম্মুখের বাইরে। বর্তমানে ৮১ বছর বয়সী এই নেত্রী আদৌ জীবিত আছেন কি না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগ ও জল্পনা তৈরি হয়েছে।
ছেলের দাবি: ‘বেঁচে থাকার প্রমাণ দিন’
অং সান সু চির ছেলে কিম আরিস বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতাদের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন, মিয়ানমারের সামরিক সরকার যেন সু চির ‘প্রুফ অব লাইফ’ বা বেঁচে থাকার প্রমাণ প্রকাশ করে। তার অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সদস্যরা তো বটেই, এমনকি আইনজীবীদেরও সু চির সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না।
২০২২ সালের শেষ দিকে সু চিকে সর্বশেষ আনুষ্ঠানিকভাবে দেখা গিয়েছিল। এরপর থেকে তার অবস্থান ও শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে কোনো স্বাধীন তথ্য পাওয়া যায়নি।
নোবেলজয়ী থেকে রাজনৈতিক বন্দি
অং সান সু চি দীর্ঘদিন ধরে মিয়ানমারের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে অহিংস আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছেন। ১৯৯১ সালে তিনি নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন। ২০১৫ সালে তার দল নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করলেও রোহিঙ্গা সংকটে সেনাবাহিনীর ভূমিকার পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় আন্তর্জাতিক মহলে তার ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তার সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে জান্তা বাহিনী এবং তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
জান্তার দাবি, ‘তিনি ভালো আছেন’
চলতি বছরের এপ্রিলে মিয়ানমারের জান্তা সরকার দাবি করে, সু চিকে কারাগার থেকে গৃহবন্দি করা হয়েছে। তবে কূটনীতিকদের তার সঙ্গে সাক্ষাতের অনুরোধ বারবার প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। সরকার কেবল জানিয়ে আসছে, তিনি ভালো আছেন, কিন্তু এর কোনো স্বাধীন প্রমাণ প্রকাশ করেনি।
বেঁচে থাকা নিয়ে উদ্বেগ
সাম্প্রতিক সময়ে কূটনীতিক ও পর্যবেক্ষকদের একাংশের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, সু চি হয়তো গুরুতর অসুস্থ অথবা তার অবস্থা সংকটাপন্ন। তবে তার মৃত্যুর বিষয়ে কোনো নিশ্চিত তথ্য বা আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নেই।
অন্যদিকে, লন্ডনের ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের মিয়ানমার বিশেষজ্ঞ মরগান মাইকেলসের মতে, অং সান সু চির মতো একজন বিশ্বখ্যাত নেত্রীর মৃত্যু দীর্ঘদিন গোপন রাখা বাস্তবে খুবই কঠিন। তার ধারণা, রাজনৈতিক কারণেই জান্তা সরকার সু চিকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রেখেছে।
কেন এত গোপনীয়তা?
মিয়ানমারের মানবাধিকার সংগঠন অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনার্স (এএপিপি) জানিয়েছে, দেশটিতে বর্তমানে হাজার হাজার রাজনৈতিক বন্দি রয়েছেন। অনেকেই চিকিৎসার অভাবে কারাগারে মারা গেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক জান্তা আশঙ্কা করে যে অং সান সু চি জনসম্মুখে এলে বা মুক্তি পেলে দেশজুড়ে গণআন্দোলন নতুন করে জোরদার হতে পারে। এ কারণেই তাকে দীর্ঘদিন ধরে জনদৃষ্টির আড়ালে রাখা হয়েছে।
তথ্যসূত্র : দ্য ইকোনমিস্ট

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন