× UCB Sticker Card
শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

সাইফ উদ্দিন বাবলু

প্রকাশিত: জুলাই ১০, ২০২৬, ১২:২৮ এএম

অস্বস্তিতে পুলিশ কর্মকর্তারা

সাইফ উদ্দিন বাবলু

প্রকাশিত: জুলাই ১০, ২০২৬, ১২:২৮ এএম

ছবি- রূপালী বাংলাদেশ গ্রাফিক্স

ছবি- রূপালী বাংলাদেশ গ্রাফিক্স

পুলিশের ২৪ ব্যাচের কর্মকর্তা রায়হান উদ্দিন খান। ২০০৫ সালে নিয়োগ পাওয়া ২০১ পুলিশ ক্যাডার কর্মকর্তার মেধাতালিকায় ৩১তম। শিক্ষাজীবনে বিএনপির ছাত্র সংগঠন ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে আওয়ামী লীগের ১৫ বছরে পদোন্নতি দেওয়া হয়নি। নানা প্রতিকূলতার মধ্যে থেকেও পেশাদারিত্ব থেকে বিচ্যুত হননি এ পুলিশ কর্মকর্তা।

৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ন্যায্য পদোন্নতি পান। বর্তমানে পুলিশ সদর দপ্তরের পিএমএস-১ শাখায় কর্মরত। হঠাৎ করে এ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এমন পোস্টে রায়হান উদ্দিনের সহকর্মীরা রীতিমতো তাজ্জব বনে যান। এমন একজন পেশাদার পুলিশ কর্মকর্তাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপতথ্য ভাইরাল হওয়ায় মাঠপর্যায়ের অন্যান্য পেশাদার এবং সৎ কর্মকর্তাদের মধ্যেও অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।

শুধু রায়হান উদ্দিন খানই নন, ৫ আগস্টের পর টার্গেট করে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বৈষ্যমের শিকার পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের ‘অপতথ্য’ পোস্ট করা হচ্ছে।

সম্প্রতি ঝালকাঠিতে এসপি হিসেবে পদায়নের পর পুলিশের ২৮ ব্যাচের কর্মকর্তা বদরুল আলম মোল্লার পদায়ন পেতে আর্থিক লেনদেনের একটি অডিও ফাঁস হলে তাকে নতুন কর্মস্থলে যোগদান না করে পুলিশ সদর দপ্তরে রিপোর্ট করতে বলা হয়। ওই কর্মকর্তা আগের কর্মস্থল থেকে বিদায় নিয়ে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করতে গিয়েও ফেরত আসেন।

রায়হান উদ্দিন খান ও বদরুল আলম মোল্লার ঘটনার আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুলিশ কর্মকর্তাদের নিয়ে ফেসবুকে অপতথ্য ছড়ানোর ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন বিবৃতি  দেয়। তবে পুলিশ কর্মকর্তাদের নিয়ে ফেসবুকে যেসব তথ্য ভাইরাল হচ্ছে তা তদন্ত করা হচ্ছে কিনা, এমন কোনো তথ্য পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পাওয়া যায়নি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক সমাজ ও অপরাধ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল ইসলাম রূপালী বাংলাদেশকে জানান, সম্প্রতি পুলিশ কর্মকর্তাদের নিয়ে প্রতিনিয়ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন তথ্য আসতে শুরু করেছে। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করে যে কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তথ্য ছড়ানো হচ্ছে তার সত্যতা থাকলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। কিন্তু ঢালাওভাবে সব কর্মকর্তাকে টার্গেট করে যেভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপতথ্য ছড়ানো হচ্ছে তা পুরো বাহিনীকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

সম্প্রতি দেখা গেছে, কিছু সৎ ও পেশাদার পুলিশ কর্মকর্তাকে নিয়েও অপতথ্য ছড়ানো হচ্ছে। এটি পুলিশকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে অথবা এসব কর্মকর্তা যাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক পর্যায়ে আনতে কাজ করতে না পারেন সে টার্গেট নিয়ে করা হচ্ছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা দরকার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্যের ওপর ভর করে কোনো কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া অথবা পদায়ন করার পর নতুন কর্মস্থলে যোগদান করতে না দেওয়া সঠিক সিদ্ধান্ত নয়। অনেক সময় অভ্যন্তরীণ বিরোধ এবং কর্মকর্তাদের মধ্যে আদর্শগত বিরোধের কারণে এক কর্মকর্তা তার অপর সহকর্মীর বিরুদ্ধে এসব তথ্য ছড়াতে সহযোগিতা করেন বলেও শোনা গেছে।  এটি বন্ধ না হলে বাহিনী ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

মাঠ পুলিশের অভিযোগ, সম্প্রতি পুলিশ কর্মকর্তাদের টার্গেট করে ঢালাওভাবে সাইবার বুলিং করে অপতথ্য ছড়ানো হচ্ছে। সাইবার বুলিংয়ের শিকার এসব পুলিশ কর্মকর্তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া ‘অপতথ্যে’ সামাজিকভাবে হেয়পতিপন্ন হচ্ছেন। ৫ আগস্টের পর একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী এবং কিছু  ফেসবুক এক্টিভিস্ট আওয়ামী লীগ সময়ে বঞ্চনার শিকার, দক্ষ, সৎ এবং পেশাদার পুলিশ কর্মকর্তাদের টার্গেট করে আওয়ামী লীগের দোসর, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের ঘনিষ্ঠ, আওয়ামী লীগের ওমুক সাবেক মন্ত্রীর আত্মীয়, পরিবার আওয়ামী লীগ করে অথবা দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-এমন ট্যাগ দিয়ে তথ্য ছড়াচ্ছে।

সবচেয়ে আতঙ্কের বিষয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কর্মকর্তাদের ছবি ও ভিডিও অথবা কথাবার্তার অডিও রেকর্ড এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে বিকৃত করে ভাইরাল করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে মাঠ পর্যায়ে চরম অস্বস্তি তৈরি হয়েছে পুলিশের মধ্যে। ফলে পেশাদার কর্মকর্তাদের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

এডিশনাল ডিআইজি রায়হান উদ্দিন খানের ব্যাচমেট একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, ২০০৫ সালে বিএনপি সরকারের সময় ২৪তম বিবিএসের ২০১ জন পুলিশ ক্যাডার নিয়োগ পান। মেধাতালিকায় রায়হান উদ্দিন খান ৩১তম। শিক্ষাজীবনে ছাত্রদলের রাজনীতি করতেন। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে। ওই সরকারের সময়ে ২৪ ব্যাচের সিংহভাগ কর্মকর্তা দুই দফায় পদোন্নতি পেয়ে অতিরিক্ত ডিআইজি হন। কিন্তু রায়হান উদ্দিন খানসহ কয়েকজন কর্মকর্তাকে পদোন্নতি বঞ্চিত রাখা হয়। পদোন্নতিবঞ্চিত হলেও র‌্যাব এবং সিআইডিতে তিনি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে সততার সঙ্গে কাজ করেছেন। সিআইডিতে থাকা অবস্থায় বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির মামলা তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় তাকে। তিনি রিজার্ভ চুরির মামলা তদন্ত করতে গিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কিছু কর্মকর্তা এবং বিদেশি চক্রের সম্পৃক্ততার তথ্য পান। এ মামলায় তাকে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের নাম বাদ দিয়ে ফরমায়েশি প্রতিবেদন আদালতে জমা দিতে বলা হয়। তাতে তিনি রাজি হননি। একপর্যায়ে মামলার তদন্তের দায়িত্ব থেকে তাকে সরিয়ে অন্যত্র বদলি করা হয়। তিনি সিআইডিতে সততার সঙ্গে চাকরি করেছেন। ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি পদোন্নতি পান অন্য বঞ্চিত কর্মকর্তাদের মতোই। পরে তাকে পদায়ন করা হয় পুলিশ সদর দপ্তরের পিএমএস-১এ। এখানে যোগদানের পর তিনি এ শাখার কাজে শতভাগ স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনেন। হঠাৎ করেই তাকে নিয়ে নানা অপপ্রচার শুরু করেছে একটি মহল।

মাঠ পুলিশের কর্মকর্তারা বলছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দলবাজ কিছু পুলিশ কর্মকর্তার নানা অপকর্মের দায় পড়ে পুরো পুলিশ বাহিনীর ওপর। থানা লুট, পুলিশ কর্মকর্তাদের হত্যার মতো ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে মব তৈরি করে পুলিশের ওপর হামলার পাশাপাশি নানাভাবে নাজেহালও করা হয়। পাশাপাশি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে গণহত্যায় অংশ নেওয়া পুলিশ কর্মকর্তাদের পাশাপাশি আওয়ামী লীগের সময়ে বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতন, মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার করে বন্দুকযুদ্ধের মাধ্যমে হত্যা করা, গুম করাসহ নানা অভিযোগে অনেক পুলিশ কর্মকর্তা গ্রেপ্তার হন। ফলে মাঠে থাকা পুলিশ কর্মকর্তাদের অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তারা অনেকেই চাকরিতে ফিরতে অস্বীকৃতি জানান। এ অবস্থায় অন্তর্বর্তী সরকারের দুই বছর দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি চরম অবনতি ঘটে।

ওই পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগের সময়ে বৈষ্যমের শিকার পুলিশ কর্মকর্তারা এগিয়ে এসে পুলিশকে গোছানোর চেষ্টা করেন। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরিয়ে আনতে কাজ শুরু করেন। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর বঞ্চনার শিকার কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দিয়ে পদায়ন করা শুরু হয়। আর তখন থেকেই টার্গেট করে দক্ষ ও পেশাদার পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা অপপ্রচার শুরু হয়।

পুলিশ কর্মকর্তাদের নিয়ে অপতথ্য দুষ্টচক্রের কারসাজি

পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা জানান, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর পুলিশের মধ্যে একটি চক্র তৈরি হয়। গোপালগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, মাদারীপুর, ফরিদপুরকেন্দ্রিক বাড়ি এমন পুলিশ কর্মকর্তাদের মধ্যে একাধিক গ্রুপ তৈরি হয় পুলিশের পদোন্নতি-পদায়ন নিয়ন্ত্রণ নিতে। সে সময় বিএনপি বা জামায়াত পরিবার থেকে পুলিশে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তাদের পুরোপুরি কোণঠাসা করে রাখা হয়। ওই সব কর্মকর্তাকে পদোন্নতিবঞ্চিত করে শাস্তিমূলক বিভিন্ন ইউনিটে পদায়ন করা হতো। তবে কিছু পুলিশ কর্মকর্তা তখন রাতারাতি আওয়ামী লীগের অনুসারী হয়ে ওঠেন। ওই সব কর্মকর্তা আওয়ামী লীগের অনুসারী কর্মকর্তাদের সঙ্গে গা মিলিয়ে পদোন্নতি নেওয়ার পাশাপাশি পছন্দ অনুযায়ী জায়গায় পদায়ন পেয়েছেন। তারা ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের বিতর্কিত ভোটে আওয়ামী লীগের হয়ে কাজ করেছেন।

পুলিশ কর্মকর্তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সরকারকে টিকিয়ে রাখতে আন্দোলন দমনে অতি উৎসাহী হয়ে কেউ কেউ ভূমিকা রেখেছেন। ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর রাজনৈতিকভাবে শেখ হাসিনা বা আওয়ামী লীগ সরকারের বিশ্বস্ত এবং আস্থাভাজন কর্মকর্তাদের অনেকেই দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেলেও বড় অংশ এখনো পুলিশের মধ্যে রয়ে গেছে। এসব কর্মকর্তা অনেকেই অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জামায়াত ক্ষমতায় আসতে পারে এমন চিন্তায় জামায়াতের অনুসারী হয়ে ওঠেন। কিন্তু ২০২৬ সালের নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠন করলে তারা রাতারাতি বিএনপির অনুসারী হয়ে ওঠেন। এসব কর্মকর্তার মধ্যে একটি চক্র গড়ে উঠেছে। আওয়ামী লীগের সরকারের সময়ে যেভাবে পুলিশের পদোন্নতি ও পদায়ন নিয়ন্ত্রণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বসতে গিয়ে পেশাদার পুলিশ কর্মকর্তাদের নানা ট্যাগ দিয়ে সরিয়ে রাখা হতো, একইভাবে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বৈষম্যের শিকার কর্মকর্তাদের সরিয়ে নিজেদের অধিপত্য বিস্তার করতে চাইছে। আর এ চক্রটি ৫ আগস্টের পর বিভিন্ন কর্মকর্তার বিষয়ে কিছু ফেসবুক এক্টিভিস্টের সহযোগিতায় অপতথ্য ছড়াচ্ছে।

পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, বিতর্কিত এবং দুর্নীতি করেছেন এমন পুলিশ কর্মকর্তারা চিহ্নিত। তাদের সংখ্যা খুব একটা বেশি নয়। বর্তমানে সেসব পুলিশ কর্মকর্তার অধিকাংশ চাকরিচ্যুত অথবা সংযুক্ত হয়ে আছেন। এসব কর্মকর্তার অতীত কর্মকাণ্ডের তথ্য বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। কিন্তু ঢালাওভাবে সব পুলিশকে আওয়ামী লীগের দোসর বা দুর্নীতিবাজ পুলিশ কর্মকর্তাদের সহযোগী বলা ঠিক হবে না।

নানা তথ্য ভাইরালে বিব্রত মাঠ পুলিশের কর্মকর্তারা

পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি পদমর্যাদার এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে রূপালী বাংলাদেশকে জানান, যা শুরু হয়েছে তাতে এখন চাকরি করতে ভয় লাগছে। দেখা গেছে আমার বিরুদ্ধেই কাল কেউ ফেসবুকে ছবিযুক্ত করে পোস্ট দিবে আমি দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা, আওয়ামী লীগ আমলে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের মামলা দিয়ে হয়রানি করেছি অথবা বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছি। অথবা লিখে দিল আমি সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের ক্যাশিয়ার ছিলাম। অথচ চাকরি জীবনে পেশাদারিত্বের সঙ্গে চাকরি করেছি। আওয়ামী লীগের সময় পদোন্নতিবঞ্চিত ছিলাম।

ঝালকাঠিতে এসপি পদায়ন পাওয়া দুই কর্মকর্তাকে যোগ দিতে দেওয়া হয়নি

সম্প্রতি ঝালকাঠিতে পদায়ন করা হয় পুলিশের ২৮ ব্যাচের কর্মকর্তা বদরুল আলম মোল্লাকে। একই প্রজ্ঞাপনে ডিআইজি এবং ১ জন এসপিসহ আরও কয়েক কর্মকর্তার পদায়নের আদেশ হয়। ওই পদায়নে অন্য কোনো কর্মকর্তার বিষয়ে কোনো কথা না উঠলেও একটি অডিও ফাঁস করা হয়। তাতে বলা হয়, ঝালকাঠি পুলিশ সুপার পদে পদায়ন পেতে আড়াই কোটি টাকা খরচ করেছেন বদরুল মোল্লা। পদায়নের পর তিনি টাকা দিতে অস্বীকার করেছেন। তিনি ২০১৮ সালে মাদারীপুরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার থাকাকালীন রাতের ভোটে এসপির সহযোগী ছিলেন। আরেকটি জেলায় বিএনপির নেতাকর্মীদের মামলা দিয়ে হয়রানি করেছেন। ওই অডিও ফাঁস হওয়ার পর বদরুল আলম মোল্লাকে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে নিষেধ করা হয় পুলিশ সদর দপ্তর থেকে।

বদরুল মোল্লার সহকর্মীরা জানান, ২৮ ব্যাচের এ কর্মকর্তা চাকরিতে পেশাদার এবং দক্ষ পুলিশ কর্মকর্তা। যে অডিওটি ভাইরাল করা হয়েছে সেটি এআই দিয়ে তৈরি করে কিছু বক্তব্য যুক্ত করা হয়েছে। ঝালকাঠি পুলিশ সুপার হিসেবে পদায়নের পর এমন অডিও প্রকাশের পর তাকে যোগদান করতে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত হতাশাজনক। আর অডিওতে অর্থ লেনদেনের বিনিময়ে তিনি ঝালকাঠিতে এসপি হিসেবে পদায়ন পেয়েছেন, এমন কোনো কিছু প্রমাণও করে না। এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করে তার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা থাকলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া যৌক্তিক ছিল।

গত ৫ জুলাই বদরুল আলম মোল্লাকে ঝালকাঠি জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে নিয়োগ দেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এর ঠিক দুই মাস আগে, ৫ মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদারকে ঝালকাঠি জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছিল। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রত্যুষ ঝালকাঠি জেলার সিআইডি কর্মকর্তা হিসেবে বিএনপি নেতাকর্মী ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতন, মামলা, গ্রেপ্তার ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগে যুক্ত ছিলেন- এমন তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যুষ কুমার মজুমদার ঝালকাঠিতে যোগদানের উদ্দেশ্যে সিআইডি থেকে বিদায় নিলেও পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশনায় আর যোগদান করতে পারেননি। প্রত্যুষ কুমার মজুমদারকে ফেনী জেলার পুলিশ সুপার পদে পদায়ন করা হয়েছে। একই অবস্থা হয়েছে বদরুল আলম মোল্লার ক্ষেত্রেও। এখন বদরুল আলমের পোস্টিং কোথায় দেওয়া হয় তা দেখার বিষয়।

Link copied!