× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জানুয়ারি ২, ২০২৬, ০৬:৫১ পিএম

মানিকগঞ্জে ১২৫৩ টাকার গ্যাস বিক্রি হচ্ছে ১৮০০ টাকায়

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জানুয়ারি ২, ২০২৬, ০৬:৫১ পিএম

ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

মানিকগঞ্জে এলপিজি গ্যাসের সংকটের সুযোগ নিয়ে সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে গ্যাস বিক্রি করা হচ্ছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রকারভেদে ১৬৫০ থেকে ১৮০০ টাকায় এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে, যেখানে সরকারি নির্ধারিত মূল্য ১২৫৩ টাকা।

শুক্রবার (২ জানুয়ারি) মানিকগঞ্জ শহরের দুধবাজার, গঙ্গাধরপট্টি, বেউথা ও বাসস্ট্যান্ড এলাকায় খোঁজ নেওয়া হলে অতিরিক্ত দামে এলপিজি বিক্রির সত্যতা পাওয়া গেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, বর্তমানে বাজারে এলপিজি গ্যাসের ব্যাপক সংকট দেখা দিয়েছে। টোটাল, বসুন্ধরা, ওমেরা ও বেক্সিমকোসহ কয়েকটি বড় কোম্পানির গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। তবে ফ্রেশ, ডেল্টা, পেট্রোম্যাক্স ও আইগ্যাস কিছু এলাকায় মিললেও সেগুলো ১৬৫০ থেকে ১৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সর্বশেষ গত বছরের ডিসেম্বর মাসে সরকারি ঘোষণায় ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের মূল্য ১২৫৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। চলতি মাসে এখন পর্যন্ত দাম পুনঃনির্ধারণ করা হয়নি।

অতিরিক্ত দামে গ্যাস বিক্রির ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভোক্তারা। তাদের অভিযোগ, একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে গ্যাসের দাম বাড়াচ্ছে। তারা দ্রুত বাজার তদারকি জোরদার এবং কার্যকর প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ভোক্তা মো. শাকুর বলেন, ‘বাসায় বসুন্ধরা কোম্পানির গ্যাস সিলিন্ডার রয়েছে, কিন্তু বাজারে এই কোম্পানির গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে অন্য কোম্পানির গ্যাস কিনতে হচ্ছে, যার দাম অনেক বেশি। গ্যাসের অভাবে বাসায় রান্না প্রায় বন্ধ। প্রশাসনের উচিত দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে গ্যাসের দাম নিয়ন্ত্রণে আনা।’

আরেক ভোক্তা বাবুল সাহা বলেন, ‘বাজারে ১৬৫০ থেকে ১৮০০ টাকায় গ্যাস বিক্রি হচ্ছে। এত বেশি দামে গ্যাস কিনতে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।’

খুচরা এলপিজি বিক্রেতা মো. খবির হোসেন বাবু বলেন, ‘অধিকাংশ কোম্পানির গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। যেগুলো পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলোও ডিলারদের কাছ থেকে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। আমরা সর্বোচ্চ ৫০ থেকে ১০০ টাকা লাভে বিক্রি করছি, কিন্তু ডিলাররা ক্যাশমেমো দিচ্ছে না।’

একাধিক খুচরা বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ডিলারদের কাছ থেকে তারা অতিরিক্ত দামে গ্যাস কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। মেমো চাইলে ডিলাররা গ্যাস দিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে। ডিলারদের বক্তব্য, ‘মেমো ছাড়া নিলে নেন, না নিলে গ্যাস দেওয়া হবে না।’

কিছু ডিলারও গ্যাসের সংকট স্বীকার করেছেন এবং অতিরিক্ত দামে বিক্রির বিষয়টি মেনে নিয়েছেন।

মেসার্স রাইয়্যান ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী আরিফুর রহমান শিবলু বলেন, ‘গ্যাসের সাপ্লাই না থাকায় গোডাউন বন্ধ ছিল। আগের কিছু মজুত আজ ডেলিভারি দেওয়া হয়েছে। সাড়ে ১৩০০ থেকে ১৪০০ টাকায় বিক্রি করেছি, তবে মেমো দেওয়া হয়নি।’

মেসার্স ভাই ভাই এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. ইব্রাহিম বলেন, ‘আমি বেক্সিমকোর ডিলার। বেশ কিছুদিন ধরে কোম্পানি গ্যাস দিচ্ছে না। তাই অন্য ডিলারদের কাছ থেকে বেশি দামে কিনে বিক্রি করতে হচ্ছে। ১৬০০ টাকায় কিনে ২০–৩০ টাকা লাভে বিক্রি করছি। তবে মেমো পাচ্ছি না।’

মেসার্স মিলেনিয়াম ট্রেডার্সের সেলসম্যান রোমান মোল্লা বলেন, ‘বর্তমানে গোডাউনে শুধু টোটাল গ্যাস রয়েছে। ১৫৫০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। খুচরা বিক্রেতারা ক্যাশমেমো চাইলে দেওয়া হয়, না চাইলে দেওয়া হয় না।’

জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আসাদুজ্জামান রুমেল বলেন, ‘ক্যাশমেমো ছাড়া পণ্য বিক্রির কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। অতিরিক্ত দামে এলপিজি বিক্রির প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Link copied!