ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

‘তিন দলের শাসন দেখেছে, এবার দাঁড়িপাল্লা চায় মানুষ’

‎ফরিদগঞ্জ (চাঁদপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জানুয়ারি ৩১, ২০২৬, ০৩:৪০ পিএম
ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, গত ৫৪ বছরে আমরা নৌকা, ধানের শীষ ও লাঙ্গলের দেশ শাসন দেখেছি। তারা দেশ শাসনের নামে হানাহানি লুটপাট, দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন, স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদে পরিণত হয়েছে। ন্যায় ও ইনসাফের স্থানে নিরীহ জনসাধারণের ক্ষতি সাধন করেছেন। তাই এবার সাধারণ মানুষ পরিবর্তন চায়। এই পরিবর্তনে সামনে ১১ দলীয় জোট তথা জামায়েত ইসলামী নেতৃত্ব দিচ্ছে। সারা দেশে দাঁড়িপাল্লার জোয়ার দেখে একটি দল বেসামাল হয়ে গেছে। তারাও ফ্যাসিবাদী চরিত্রে রূপ নিয়েছে। তাই তারা বিভিন্ন জায়গায় সহিংসতা করছে। কুরআনের হাফেজকে তারা ফ্যাসিবাদী কায়দায় পিটিয়ে হত্যা করছে। নারীরা যখন দাঁড়িপাল্লার পক্ষে কাজ করতে মিটিং বা গণসংযোগে যাচ্ছেন তাদের ওপর হামলা করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, শেরপুরে জামায়েতে ইসলামীর উপজেলা সেক্রেটারিকে নিষ্ঠুরভাবে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। এই চরিত্রকে বদলাতে দাঁড়িপাল্লার সাথে সাথে গণভোটে 'হ্যাঁ'-তে ভোট দেবেন। মনে রাখতে হবে, পরিবর্তন মানে আর পেছনে ফিরে যাওয়া নয়। সকলকে নিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ার নতুন প্রত্যয়।

শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সকালে চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ও ১১ দলীয় জোটপ্রার্থী মাওলানা বিলাল হোসেন মিয়াজীর নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, চব্বিশের ৫ আগস্টের পরে যারা দেশে দোকানপাট, হাট-ঘাটসহ বাসস্ট্যান্ড ও টেম্পো স্ট্যান্ড চাঁদাবাজি করেছে। তারা এখন হুমকি দিচ্ছে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে কেন্দ্রে যেতে দেবে না, হিন্দু ভাইয়েরাসহ অন্য ধর্মাবলম্বীরা যেন দাঁড়িপাল্লায় ভোট না দেয়। ৫ আগস্টের পর এ দেশে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ছিল না, তাই কারা এসব চাঁদাবাজি ও হামলার সঙ্গে জড়িত তা সবাই জানে। এখন তারাই বলছে শান্তির বাংলাদেশ গড়বে। তাই আসন্ন নির্বাচনে ১১ দলীয় জোট সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে বিজয়ী হলে সুশাসনের এমন একটি সমাজ গঠন করা হবে যেখানে হিন্দু, মুসলিম, খ্রিষ্টান, বৌদ্ধসহ সকল ধর্মের মানুষ সমান ইনসাফপূর্ণ অধিকারের মাধ্যমে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধভাবে বসবাস করতে পারবে। ৫ আগস্টের পরে চাঁদা না পেয়ে আপনারা পাথর মেরে মানুষ হত্যা করেছেন, হিন্দুদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভয় দেখিয়েছেন। যারা ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য মানুষ হত্যা করতে পারে, তাদের হাতে জনগণের জান-মাল নিরাপদ নয়। আমাদের নির্বাচনি গণসংযোগে বিএনপির বন্ধুরা হামলা করছেন, মা-বোনদের লাঞ্ছিত করছেন। এমনকি তাদের পেটে লাথি মারা হয়েছে। ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমে এ সকল জুলুমের জবাব দিতে হবে।

চাঁদপুর-৪ আসনে জামায়েত মনোনীত প্রার্থী ও চাঁদপুর জেলা জামায়াতের আমির বিল্লাল হোসেন মিয়াজীর সভাপতিত্বে এবং ফরিদগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. সাখাওয়াত হোসেনের সঞ্চালনায় জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন: জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও নোয়াখালী-কুমিল্লা অঞ্চলের টিম সদস্য অধ্যাপক লিয়াকত আলী ভূঁইয়া, চাঁদপুর জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট মাসুদুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারি মো. আবুল হোসাইন, মো. হারুনুর রশীদ, ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের শুরা সদস্য ফয়সাল আহমেদ, জামায়াতের ব্যবসায়ী সংগঠনের জেলা সভাপতি শাহ আলম, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের ভিপি ও বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. রিয়াজুল ইসলাম, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের জিএস এবং বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মো. মাজহারুল ইসলাম, চাঁদপুর জেলা জামায়াতের শুরা সদস্য আব্দুল মান্নান খান, ফরিদগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমির মো. ইউনুছ হেলাল, সাবেক আমির হাবিবুর রহমান খান, হাজীগঞ্জ পৌর জামায়াতের আমির আবুল হাসনাত, ফরিদগঞ্জ পৌর জামায়াতের আমির মিজানুর রহমান, সেক্রেটারি ফখরুল ইসলাম, জেলা এনসিপির আহ্বায়ক মাহবুব আলম, ফরিদগঞ্জ উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক দেওয়ান শরীফুল ইসলাম, ছাত্রশিবিরের চাঁদপুর জেলা সভাপতি ইব্রাহিম খলিল, সেক্রেটারি মো. হাসিবুল হাসান, কারানির্যাতিত জুলাই যোদ্ধা ফাইয়াজ প্রমুখ।