× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২৬, ০৪:৪৮ পিএম

শহীদদের রক্ত থেকে ১১ দলীয় ঐক্য সৃষ্টি হয়েছে : মামুনুল হক

ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২৬, ০৪:৪৮ পিএম

ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

শহীদদের রক্ত থেকে ১১ দলীয় ঐক্য সৃষ্টি হয়েছে। বিগত সরকারের আমলে এ দেশের মানুষকে গুম ও খুন করা হয়েছে। এতে করে এ দেশের মানুষের পিঠ দেয়ালে ঠেকেছে। এ অবস্থা দেখে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এ দেশে দামাল ছেলে রাস্তায় নেমে আসল। সর্বস্তরের মানুষ ঐক্য তৈরি করে যুদ্ধে নেমেছিল। দেড় হাজার মানুষের শাহাদাত ও ৩০ হাজার মানুষের পঙ্গুত্ব বরণের মাধ্যমে দেশ স্বৈরাচার মুক্ত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (০৫ ফেব্রুয়ারি) কিশোরগঞ্জ থেকে নরসিংদী যাত্রাপথে রাত ৮টায় পৌর শহরের এমপি পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় (গার্লস স্কুল) মাঠে নির্বাচনি পথসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এসব কথা বলেন ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতা আল্লামা মামুনুল হক।

তিনি আরও বলেন, এ দেশের কৃষকরা সোনার ফসল ফলায়, শ্রমিক ভাই ও বোনেরা শিল্পপ্রতিষ্ঠানে উৎপাদন বৃদ্ধি করে, শ্রমিক ভাইয়ের বাংলাদেশের অর্থনীতি সমৃদ্ধি করে। প্রবাসীরা রাতদিন পরিশ্রম করে রেমিট্যান্স পাঠায়। কিন্তু বিগত দিনে এ দেশের উন্নয়ন না করে আমাদের শাসকরা নিজেদের দেশের সম্পদ নিয়ে বিদেশে বেগম পাড়া গড়েছেন। ৫৪ বছরের রাজনীতির বন্দোবস্তে এ দেশে দুইটি ভূত সাওয়ার হয়েছে। এক নম্বর ভূত হলো সন্ত্রাসবাদ ও গুন্ডামির তন্ত্র ও দুই নম্বর ভূত হলো লুটপাট ও দুর্নীতি তন্ত্র।

মামুনুল হক আরও বলেন, একবার হয়েছে বিনা ভোটের নির্বাচন, একবার রাতের ভোটে নির্বাচন, একবার হয়েছে ডামি নির্বাচন। এভাবে ব্যালটের অধিকার ছিনতাই হয়েছে। এ দেশের তরুণ প্রজন্ম ভোট দিতে পারেনি। এবার তারা অপেক্ষমাণ। এ দেশের মানুষ পরিবর্তন চায়। বাংলাদেশের রাজনীতি থেকে লুটপাট, দুর্নীতি, সন্ত্রাসবাদ ও গুন্ডামি বিতাড়িত করার নির্বাচন আসছে। এটা বাংলাদেশের নতুন বন্দোবস্তে আমূল সংস্কারের নির্বাচন। এবার মানুষ ভোটের অধিকার ফিরে পেয়েছে।

পথসভায় কিশোরগঞ্জ-৬ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন ভৈরবের সার্বিক উন্নয়নে রোড ম্যাপে নির্বাচনি ইশতাহার ঘোষণা করেন। ভৈরবের উন্নয়ন নিয়ে নির্বাচনি ইশতাহারে তিনি বলেন, ভৈরব জেলা বাস্তবায়ন ও কুলিয়ারচরের উন্নয়ন করা হবে। দুর্নীতিমুক্ত ও স্মার্ট নাগরিক সমাজ, নিরাপদ সমাজ, মাদক ছিনতাই ও সন্ত্রাস নির্মূল করা, আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা ভৈরব কুলিয়ারচরের মানুষের দ্বারে দ্বারে পৌঁছানো, শিক্ষার মান উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন করা, সংস্কৃতির বিকাশ ও কালচারাল সেন্টার নির্মাণ করা, কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করে কৃষকের অধিকার নিশ্চিত করা, লঞ্চঘাট ও বাস টার্মিনাল ইজারা মুক্ত করা, নদী ভাঙন রোধ ও ভৈরবে রক্ষা বাঁধ তৈরি করা, ভূমিদস্যুমুক্ত অঞ্চল ও জমির অধিকার আদায় করা, পাদুকা শিল্পের আধুনিকায়ন ও বিশ্বায়ন করা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ রক্ষা করা, আধুনিক বিনোদন ও দূষণমুক্ত পরিবেশ তৈরি করা, দক্ষ জনশক্তি ও স্মার্ট কর্মসংস্থান তৈরি করা, শিল্প ও ব্যবসা প্রসার ব্যবসায়ী বান্ধব পরিবেশ তৈরি করা, খেলাধুলার প্রসার ও মাদকমুক্ত তরুণ সমাজ গড়া, যানজট নিরসন ও উন্নয়ন ট্রাফিক ব্যবস্থা গড়ে তুলা।

তিনি আরও বলেন, ১৭টি ইশতেহার ঘোষণা হলেও আরও তিনটি ভৈরববাসীর সাথে আলোচনা করে তাদের চাহিদামতো তৈরি করা হবে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ভৈরব উপজেলা শাখার আমির মাওলানা কবির হোসাইন এর সভাপতিত্বে পথসভায় বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলাম যোগদানকৃত কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আক্তারুজ্জামান রঞ্জন, শিক্ষানুরাগী বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ রফিকুল ইসলাম, খেলাফত মজলিস ভৈরব উপজেলা শাখার সভাপতি মাওলানা সাইফুল ইসলাম সাহেল, কিশোরগঞ্জ জেলা এনসিপির সাংগঠনিক সম্পাদক শরিফুল হক জয়, কিশোরগঞ্জ জেলার গণঅধিকার পরিষদ যুগ্ম সম্পাদক ইমতিয়াজ আহমেদ কাজল, জনতার দল কেন্দ্রীয় কমিটি যুগ্ম মহাসচিব নুরুল কাদের সোহেল প্রমুখ৷

পথসভায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আক্তারুজ্জামান রঞ্জন বলেন, বাংলার মাটিতে আর কোনো আলেমকে রাজাকার বলা যাবে না। আমরা আলেমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করি নাই। আমরা পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছি। আমরা জুলাই আন্দোলন করেছি। আমরা নতুনভাবে বাংলাদেশ নির্মাণ করতে চাই। বিচারের নামে একটি দল বাণিজ্য করছে। পুলিশকে ব্যবহার করছে। পুলিশকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। ১১ দলীয় ঐক্যজোট ক্ষমতায় গেলে ১০০ দিনের মধ্যে ভৈরবকে জেলা করা হবে।

বিকাল থেকে পথসভা ঘিরে ভৈরব-কুলিয়ারচরের বিভিন্ন ইউনিয়ন ও উপজেলার মানুষ রিকশা মার্কার সমর্থনে মিছিল নিয়ে সভাস্থলে উপস্থিত হয়। জামায়াত ইসলামীর ভৈরব উপজেলা শাখার সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল মতিন এর সঞ্চালনায় ১১ দলীয় ঐক্য সমর্থিত নেতারা বক্তব্য রাখেন।

আলোচনা শেষে ভৈরবকে জেলা করার দাবি পূরণের আশ্বাস দিয়ে ভৈরব-কুলিয়ারচর আসনে মাওলানা আতাউল্লাহ আমীনকে বিপুল ভোটে জয়ী করতে ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান আল্লামা মামুনুল হক।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!