জামালপুর সদর উপজেলার কৈডোলা শাহবাজপুর এলাকায় অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠান সরকার ফুড ও বেভারেজ লিমিটেডকে ভেজাল সয়াবিন তেল বোতলজাত করে বাজারজাত করার অপরাধে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে কারখানায় সংরক্ষিত তেলভর্তি ড্রাম ও বোতল জব্দ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ ডিসেম্বর) বিকেলে সরকার ফুড ও বেভারেজ লিমিটেডে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানভীর হায়দার।
জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে সরকার ফুড ও বেভারেজ লিমিটেড অনুমোদনবিহীনভাবে পণ্যের মোড়কে বিএসটিআই’র মানচিহ্ন ও ভুয়া কিউআর কোড ব্যবহার করে পণ্য বিক্রি ও বাজারজাত করে আসছিল। কারখানায় কোনো ল্যাবরেটরি বা ল্যাব সহকারী না থাকায় উৎপাদিত পণ্যের গুণগত মান যাচাই ছাড়া বাজারজাত করা হচ্ছিল। এ ছাড়া সয়াবিনের বোতলে সয়াবিনের পরিবর্তে পাম অয়েল ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী রাহাত সরকারের বিরুদ্ধে।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানভীর হায়দার জানান, ‘জামালপুর সদর উপজেলার কৈডোলা শাহবাজপুর বাজার সংলগ্ন সরকার ফুড ও বেভারেজ লিমিটেড নামে একটি ভেজাল সয়াবিন তেলের কারখানার সন্ধান পাওয়া গেছে। এখানে দীর্ঘদিন ধরে সয়াবিন তেল বোতলজাত করে বাজারজাত করা হচ্ছিল। এমন প্যাকিং ও বাজারজাত করতে বেশ কিছু লাইসেন্সের প্রয়োজন, যা তাদের ছিল না। তারা বিএসটিআই লাইসেন্স ছাড়াই তেল প্রক্রিয়াজাত ও মোড়কজাত করে বিভিন্ন বাজারে পাঠাচ্ছিল।’
তিনি আরও জানান, ‘বিএসটিআই লাইসেন্স না থাকার কারণে সরকার ফুড ও বেভারেজ লিমিটেডকে বিএসটিআই আইন ২০১৮ এর ১৫ ও ২৭ ধারায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি কারখানায় মজুদ সয়াবিন তেল জব্দ করে জব্দকৃত তালিকা বিএসটিআই এবং স্যানিটারি ইন্সপেক্টরের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তারা পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের আগে এসব তেলের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবেন।’
এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী রাহাত সরকার সাংবাদিকদের বলেন, ‘দেশে কোনো প্রতিষ্ঠানই পরিপূর্ণ নয়। সবার মধ্যেই কিছু না কিছু ঘাটতি থাকে। বিএসটিআই লাইসেন্স ছাড়া মোড়কে বিএসটিআই মানচিহ্ন ব্যবহার করা কোনো বড় অপরাধ নয়। অনেকেই এই মানচিহ্ন ব্যবহার করছে, তাই আমি তিনিও করেছি।’



সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন