লালমনিরহাটে আলু চাষিরা আবারও লোকসান গুনছেন। আলু উৎপাদনের খরচ প্রতি কেজিতে প্রায় ২০ টাকা হলেও বাজারে আলুর দাম ৮-১০ টাকার মধ্যে থাকায় চাষিরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
জেলার কৃষি প্রধান চাষযোগ্য শক্তি হলেও আলু চাষ সম্প্রতি চাষিদের জন্য অপ্রস্তুত হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিস্তা, ধরলা ও সানিয়াজান নদীর তীরবর্তী বেলে দোঁয়াশ মাটি আলু চাষের জন্য উপযুক্ত। এ কারণে প্রতি বছর জেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় আলু চাষ হয়। আবহাওয়া ও মাটির গুণাগুণে ফলনও ভালো হয়, কিন্তু চাষিরা টানা তিন বছর ধরে লোকসান সহ্য করছেন।
চাষিরা জানিয়েছেন, চলতি বছর আলু চাষের শুরুতেই সার ও কীটনাশকের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। চড়া দামে সার কিনেও চাষিরা বাজারে নিম্নমূল্যের আলু বিক্রির কারণে উৎপাদন খরচের অর্ধেকও ফেরত পাননি। উৎপাদন ও হিমাগারে সংরক্ষণ খরচ মিলিয়ে প্রতি কেজির খরচ দাঁড়াচ্ছে ৩০-৩২ টাকা। ফলে ক্ষুদ্র চাষিরা বাধ্য হয়ে কম দামে আলু বিক্রি করছেন। এটি যেন ‘লাভের আশায় গুড়ে বালি’।
লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, জেলার ৫টি উপজেলায় আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬ হাজার ৫ শত হ্যাক্টর, কিন্তু চাষ হয়েছে ৭ হাজার ১৬০ হ্যাক্টর জমিতে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় উৎপাদনও ভালো হয়েছে।
কৃষকরা অভিযোগ করেছেন, সরকারের বাজার নিয়ন্ত্রণ, বীজ ও সার সরবরাহের সংকট চাষিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। কমলাবাড়ির আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘চড়া দামে সার কেনার পরও লোকসান, আর কতবার লোকসান গুনতে হবে, সরকারের নজর পাওয়া যায় না।’
লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. শাইখুল আরেফিন বলেন, ‘চাষিরা লক্ষ্যমাত্রার বেশি চাষ করেছেন। উৎপাদন খরচ ও বাজার দরে প্রতি কেজি আলুতে প্রায় ১০ টাকার লোকসান হচ্ছে। এই সমস্যা মোকাবিলায় আলুর বহুমুখী ব্যবহার ও শিল্পজাত কারখানা গড়ে তোলা জরুরি।’
চাষিরা মনে করছেন, আলুতে ধারাবাহিক লোকসান হলে তারা তামাক বা অন্যান্য ফসলের দিকে ঝুঁকে পড়তে পারেন, যা সরকারের কৃষি পরিকল্পনায় ব্যাঘাত ঘটাবে।



সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন