চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) ৩ হাজারের বেশি পরিচ্ছন্নতা কর্মীর মাঝে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ঈদ উপহার বিতরণ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) নগরের কাজীর দেউরি ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উপহার সামগ্রী হস্তান্তর করেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
চসিক সূত্রে জানা গেছে, এবার মোট ৩ হাজার ২৭০ জন পরিচ্ছন্নতা কর্মী প্রত্যেকে ৫ হাজার টাকা করে ঈদ উপহার পাচ্ছেন। এর আগে গত রোববার বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দেশের ১২টি সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থের চেক সংশ্লিষ্ট মেয়র ও প্রশাসকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
অনুষ্ঠানে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘পরিচ্ছন্নতা কর্মীরাই একটি শহরের সৌন্দর্য ও পরিচ্ছন্নতার মূল চালিকাশক্তি। তাদের নিরলস পরিশ্রমে নগরবাসী একটি বাসযোগ্য পরিবেশ পায়। এই ঈদ উপহার তাদের কাজের স্বীকৃতি এবং এটি তাদের মনোবল আরও বাড়াবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘চট্টগ্রামকে একটি ‘ক্লিন সিটি’ হিসেবে গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য। এ লক্ষ্য অর্জনে পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। শহরের পরিচ্ছন্নতা একটি সংবেদনশীল বিষয়, যার ওপর পুরো নগরের ভাবমূর্তি নির্ভর করে।’
মেয়র জানান, ‘দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে রাতের বেলায় ময়লা অপসারণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে, ফলে নগরের সার্বিক পরিচ্ছন্নতা উন্নত হয়েছে। তবে ময়লা পরিবহনের সময় রাস্তায় বর্জ্য পড়ে যাওয়া এবং দ্রুতগতির যানবাহনের কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে সংশ্লিষ্টদের আরও সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।’
তিনি পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের সুরক্ষার জন্য প্রদত্ত ইউনিফর্ম ও সুরক্ষা সামগ্রী নিয়মিত ব্যবহারের আহ্বান জানান।
নগরবাসীর উদ্দেশে মেয়র বলেন, ‘বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে চসিক বিভিন্ন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। বর্জ্য থেকে সম্পদ উৎপাদনের লক্ষ্যে রিসাইক্লিং, বায়োগ্যাস, গ্রিন ডিজেল ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের মতো প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে এখনো অনেকেই অনিয়মভাবে বর্জ্য ফেলছেন, যা জলাবদ্ধতা ও পরিবেশ দূষণের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।’
তিনি আরও জানান, ‘বাসা থেকে বর্জ্য সংগ্রহের একটি উদ্যোগ নাগরিকদের আপত্তির কারণে বন্ধ থাকলেও এখন থেকে চসিক নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বিনামূল্যে এই কার্যক্রম চালু করবে।’
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা ডা. কিসিঞ্জার চাকমা, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির চৌধুরী এবং প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. ইমাম হোসেন রানা।



সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন