ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

নবীনগরে কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও বিনামূল্যে সার বিতরণ

নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জানুয়ারি ১, ২০২৬, ০৩:৪৯ পিএম
ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় কৃষকদের প্রশিক্ষণ এবং সার ও বীজ বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট কুমিল্লা আঞ্চলিক কার্যালয়ের সহযোগিতায় অনুষ্ঠানে সমন্বয় করেন উপজেলা  কৃষি অফিস। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) উপজেলার কৃষি প্রশিক্ষণ কনফারেন্স রুমে ৭০ কৃষকদের মধ্যে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ শেষে উচ্চ ফলনশীল ধান বীজ এবং সার বিতরণ করা হয়।

উক্ত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করেন বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট, কুমিল্লা আঞ্চলিক কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক অফিসার ড. মামুনুর রশিদ, উপজেলা কৃষি অফিসার মো: জাহাঙ্গীর আলম লিটন, বৈজ্ঞানিক অফিসার তমালিকা সাহা ও ফার্ম ম্যানেজার শামীম আহমেদ।

উপজেলায় উৎপাদন বৃদ্ধি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কৃষকদের মাঝে গত তিন বছর ধরে ধানের উন্নত জাতের বীজ ও সার বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করেছে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)। 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে ব্রি উদ্ভাবিত উচ্চফলনশীল ও সহনশীল জাতের ধানের বীজের সঙ্গে প্রয়োজনীয় রাসায়নিক সার বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যে প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে উৎপাদন খরচ কমার পাশাপাশি ধানের ফলন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধনকালে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো: জাহাঙ্গীর আলম লিটন বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ব্রি উদ্ভাবিত জাতগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

তিনি বলেন, ‘নবীনগর উপজেলায় চলতি মৌসুমে ৭০ একর জমিতে ব্রিধান ১০১, ব্রিধান ১০২, ব্রিধান ১০৪, ব্রিধান ১০৫, ব্রিধান ১০৭, ব্রিধান ১০৮ এসব জাত খরা, লবণাক্ততা ও রোগবালাই সহনশীল হওয়ায় উৎপাদন বেশি হবে, ফলে কৃষকরা লাভবান হবেন।’

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট, কুমিল্লা আঞ্চলিক কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক অফিসার ড. মামুনুর রশিদ বলেন, ‘নতুন জাতগুলো দ্রুত কৃষক পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে পার্টনার প্রকল্পের আওতায় এই কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘নবীনগর উপজেলাসহ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা এবং নাসিরনগর উপজেলায় আমরা প্রশিক্ষণ এবং উপকরণ বিতরণ করব।’ 

কৃষকরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘সময়মতো মানসম্মত বীজ ও সার পাওয়ায় তারা চাষাবাদে আগ্রহী হচ্ছেন। এতে করে দেশের সামগ্রিক ধান উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং কৃষকের আর্থিক অবস্থার উন্নয়ন হবে।’