ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় লিচুর বাম্পার ফলন, কৃষকের মুখে হাসি

মো. বাবুল মিয়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
প্রকাশিত: মে ১৯, ২০২৬, ০৯:৫৯ পিএম
ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

অনুকূল আবহাওয়া, সময়মতো বৃষ্টি এবং রোগবালাই কম থাকায় এ বছর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় লিচুর বাম্পার ফলন হয়েছে। গাছে গাছে থোকায় থোকায় ঝুলছে রসালো লিচু। উৎপাদন ভালো হওয়ায় খুশি জেলার লিচুচাষিরা। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, চলতি মৌসুমে জেলায় প্রায় ৩০ কোটি টাকার লিচু বেচাকেনা হতে পারে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর, আখাউড়া ও কসবা উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে লিচুর চাষ হয়ে থাকে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আবাদ হয়েছে বিজয়নগর উপজেলায়। বর্তমানে জেলায় প্রায় ১ হাজার ২০০টি লিচুবাগান রয়েছে। ২০০২ সাল থেকে বিজয়নগরে বাণিজ্যিকভাবে লিচুর আবাদ শুরু হয়। কম খরচে অধিক লাভ হওয়ায় ধানি জমিতেও লিচুবাগান করছেন অনেক কৃষক।

এ বছর জেলায় ৫৫৫ হেক্টর জমিতে লিচুর আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে ২৫০ হেক্টর জমিতে দেশীয় পাটনাই, ১৫০ হেক্টর জমিতে বোম্বে এবং ৩০ হেক্টর জমিতে চায়না টু ও চায়না থ্রি জাতের লিচুর চাষ করা হয়েছে। এছাড়া নতুন জাতের বেদানা লিচুও চাষ হচ্ছে। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে জেলায় প্রায় ২ হাজার ৩৩১ মেট্রিক টন লিচু উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বিজয়নগর উপজেলার পাহাড়পুর ইউনিয়নের আউলিয়া বাজার, চানপুর, কালাছড়া, সেজামুড়া, কাশিমপুর, সিঙ্গারবিল, চম্পকনগর, মুকুন্দপুর, বিষ্ণুপুর, নূরপুর ও নোয়াগাঁওসহ বিভিন্ন এলাকায় বিস্তীর্ণ বাগানে থোকায় থোকায় ঝুলছে লিচু। অনেক বাড়ির আঙিনাতেও রয়েছে লিচুগাছ। লিচুর সৌন্দর্যে পুরো এলাকা যেন উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে।

জেলার সবচেয়ে বড় লিচুর বাজার বিজয়নগরের পাহাড়পুর ইউনিয়নের আউলিয়া বাজার। প্রতিদিন গভীর রাত থেকে সেখানে শুরু হয় লিচুর বেচাকেনা। ভোরের আলো ফুটতেই দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা পাইকারদের ভিড়ে জমে ওঠে বাজার। সকাল ৮টা থেকে ৯টার মধ্যেই শেষ হয়ে যায় কেনাবেচা। প্রতিদিন এই বাজারে প্রায় ৮০ থেকে ৯০ লাখ টাকার লিচু বিক্রি হয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, কিশোরগঞ্জ, নরসিংদী ও কুমিল্লার ব্যবসায়ীরা আউলিয়া বাজার থেকে পাইকারি দরে লিচু কিনে নিয়ে যান।

পাহাড়পুর ইউনিয়নের চানপুর গ্রামের লিচুচাষি মো. শাহিন বলেন, ‘এ বছর ৪ বিঘা জমিতে লিচু চাষ করেছি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন খুব ভালো হয়েছে। অন্য বছরের তুলনায় লিচু ঝরে পড়া কিংবা ফেটে যাওয়ার সমস্যা অনেক কম ছিল।’

বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের মহেশপুর গ্রামের কৃষক সাদেকুল ইসলাম বলেন, ‘৮০ শতক জমিতে ৫০টি গাছে লিচু চাষে প্রায় ৯০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এবার ১০ থেকে ১২ লাখ টাকার লিচু বিক্রির আশা করছি।’

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, ২০২৫ সালে বিজয়নগর, কসবা ও আখাউড়া এলাকায় প্রায় ২৮ কোটি টাকার লিচু বিক্রি হয়েছিল। এবার সেই পরিমাণ ৩০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। বর্তমানে প্রতি ১০০ পাটনাই লিচু ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, বোম্বে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা, চায়না টু ও চায়না থ্রি ৭০০ থেকে ৯০০ টাকা এবং বেদানা লিচু প্রায় ১ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোস্তফা এমরান হোসেন বলেন, ‘অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এ বছর লিচুর উৎপাদন ভালো হয়েছে। ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকরাও লাভবান হবেন বলে আশা করছি।’