ঢাকা বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬

স্কুলের পাশে ময়লার ভাগাড়, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে শিক্ষার্থীরা

সরাইল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুন ২৪, ২০২৬, ০২:০০ পিএম
ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলা সদরে অবস্থিত সরাইল অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশেই একটি ময়লার ভাগাড় রয়েছে। প্রতিদিন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রবেশ করতে হয় নাক চেপে। যেখান থেকে ছড়াচ্ছে উৎকট দুর্গন্ধ। এতে মশা-মাছির উপদ্রবসহ আশ-পাশের পরিবেশও দূষিত হচ্ছে। ফলে কোমলমতি শিক্ষার্থীরাও মাঝে মধ্যে এই দুর্গন্ধে অসুস্থ হয়ে পড়ছে। স্থানীয়দেরও অস্বস্থিতে দিন কাটছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, গত ৫-৬ বছর ধরে বিদ্যালয় সংলগ্ন ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়টিতে প্রতিদিনই স্থানীয় বাজারের নষ্ট হওয়া শাক-সবজি, হোটেলের পঁচা-বাসি খাবার, মুরগির নাড়ি-ভুঁড়ি এবং বাসা-বাড়ির ময়লাসহ সব ধরনের আবর্জনা ফেলা হচ্ছে এখানে। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই এগুলো পচে দুর্গন্ধের সৃষ্টি হচ্ছে এবং তা পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে। এ

অবস্থায় দিন যত যাচ্ছে, ময়লার ভাগাড়টিও তত বড় হচ্ছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষক হাদিছ মিয়া বলেন, ভাগাড়টি স্কুলের এতো কাছে অবস্থিত এতে প্রচন্ড দুর্গন্ধ হয় ভাগাড়ে। বিদ্যালয়টির শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রতিনিয়ত বিদ্যালয়ে ঢুকতে হচ্ছে নাক চেপে। তীব্র দুর্গন্ধের কারণে বিদ্যালয়ের ভেতরেও টিকতে পারছেন না তারা। তবুও দুর্গন্ধ সহ্য করেই বিদ্যালয়টির পাঠদান কার্যক্রম চলছে। শিক্ষার্থীরা প্রায়ই পেটের অসুখ ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। এ ময়লার ভাগাড় এখান থেকে দ্রুত সরানো দরকার।

স্থানীয় বাসিন্দা হোসেন আলী বলেন, সড়কের একপাশে বিদ্যালয় আর অন্যপাশে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ। স্থানীয় বাজার ও বাসা-বাড়ির যত ময়লা-আবর্জনা প্রতিদিনই এখানে এনে ফেলা হচ্ছে। ফলে এই স্তূপ থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে এলাকাজুড়ে। শুধু তাই নয়, ময়লার দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ সাধারণ পথচারীরাও।

শিক্ষার্থীরা বলেন, স্কুলে ক্লাস করাটা খুবই কষ্টকর। স্কুলের পুরো সময়টা দুর্গন্ধের মধ্যে কাটাতে হয়। এরকম অবস্থা অনেকদিন ধরেই চলে আসছে। আমরা এই দুর্গন্ধ থেকে মুক্তি চাই।

এ ব্যাপারে সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম জানান, বাজার পরিচালনা কমিটির সাথে আলোচনা করে ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।