ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

সরকারি ওষুধ পাচারকালে নাচোলে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাসহ আটক ৫

নাচোল (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৮, ২০২৬, ০৪:১৮ পিএম
ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. কাউসার আলী ও তার কর্মচারীদের যোগসাজসে হাসপাতালের গো-খাদ্য ও ওষুধ পাচারের সময় স্থানীয় জনতা তাদেরকে আটক করে রাখে। খবর পেয়ে পুলিশ রাতেই ঘটনাস্থলে গিয়ে হাসপাতাল থেকে তাদেরকে রক্ষা করে, তবে দুই জনকে থানায় নিয়ে যায়।

মঙ্গলবার গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটে। পাচারের ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে; অভিযুক্তদের নিকট থেকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

হাসপাতাল থেকে গো-খাদ্য ও ঔষধ পাচারের সঙ্গে জড়িতরা হলেন: উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. কাউসার আলী, কর্মচারী আশিক, নারায়ণ, বাবু ও আরও কয়েকজন।

প্রত্যক্ষদর্শী নাচোল রেলস্টেশন বাজারের নাইটগার্ড দোসমোহাম্মদ জানান, ডিউটি করার সময় রাত সাড়ে ১২টার দিকে ইউএলও ডা. কাউসার আলী এবং ৫-৬ জন কর্মচারী মিলে একটি স্টিয়ারিং গাড়িতে ফিডের বস্তা ও ওষুধ ভর্তি করছিলেন। বিষয়টি তিনি ইউএনও, ওসি ও লেবার সর্দার রিপনকে জানান। রিপন উপস্থিত হলে তারা দ্রুত গাড়ি থেকে মালামাল নামিয়ে ফেলে।

রাতে নাচোল থানার অফিসার ইনচার্জ আছলাম আলী ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের রেখে গোমস্তাপুর উপজেলার বোয়ালিয়া গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে ক্রেতা গাজু আলী (৪৮) ও একই উপজেলার বচনাটোলা গ্রামের আবুল কালামের ছেলে স্টিয়ারিং চালক ফারিকুলকে (৪৯) আটক করেন। ক্ষুব্ধ জনতা সকাল ১০টা পর্যন্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবরুদ্ধ করে রাখে।

পরবর্তীতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার গোলাম রব্বানী সরদার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুলতানা রাজিয়া ও নাচোল থানার ওসি আছলাম আলী বিক্ষুব্ধ জনতাকে আশ্বাস দেন, অপরাধীরা ছাড় পাবে না। পরে অভিযুক্তদের থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

ইউএলওর সহযোগিতায় মূল্যবান সরকারি মালামাল হাসপাতাল থেকে রাতের বেলায় পাচারের ঘটনায় অভিযোগ উঠেছে, অভিযুক্তদের মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে জেলা অতিরিক্ত ইউএলও ইনচার্জ কবির উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘ঘটনাটি আমি শুনেছি। তদন্তের জন্য নাচোল, থানা ও ইউএনওর সঙ্গে কথা বলছি। ঘটনার সত্যতা প্রমাণিত হলে অফিসিয়াল আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে এ ঘটনা ঘিরে সচেতন মহলে সমালোচনা শুরু হয়েছে।’