ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬

যে ৩ আর্জেন্টাইন ফুটবলারকে নিষিদ্ধের দাবি!

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: জুলাই ২১, ২০২৬, ০৫:০৩ পিএম
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারানোর পর ফকল্যান্ডস (আর্জেন্টিনার ভাষায় মালভিনাস) দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে ব্যানার প্রদর্শন করায় বিতর্কে জড়িয়েছেন আর্জেন্টিনার তিন ফুটবলার। এর জেরে তাদের যুক্তরাজ্যের ভিসা বাতিলের দাবিও উঠেছে।

আর্জেন্টিনার এই তিন ফুটবলার হলেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের লিসান্দ্রো মার্তিনেস, চেলসির এনজো ফার্নান্দেজ এবং টটেনহ্যাম হটস্পারের ক্রিস্টিয়ান রোমেরো। ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠার পর তাদের হাতে ‘Las Malvinas son Argentinas লেখা একটি ব্যানার দেখা যায়। যার অর্থ, ‘ফকল্যান্ড (মালভিনাস) দ্বীপপুঞ্জ আর্জেন্টিনার।’

ঘটনাটি যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। দেশটির কয়েকজন রাজনীতিকের অভিযোগ, খেলাধুলার মঞ্চে রাজনৈতিক বার্তা তুলে ধরা হয়েছে। তারা এ ঘটনায় আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

ফিফা জানিয়েছে, তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো শাস্তিমূলক সিদ্ধান্তের ঘোষণা দেয়নি।

এদিকে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিতর্কের জেরে প্রিমিয়ার লিগে খেলা আর্জেন্টাইন ফুটবলারদের যুক্তরাজ্যের ভিসা বাতিল করা সম্ভব কি না, তা নিয়ে আইনি আলোচনা শুরু হয়েছে।

ব্রিটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচারের সাবেক উপদেষ্টা নাইল গার্ডিনার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেছেন, এই ব্যানার প্রদর্শনে অংশ নেওয়া আর্জেন্টাইন ফুটবলারদের যুক্তরাজ্যের ভিসা বাতিল করা উচিত। তার ভাষায়, এ ধরনের ঘটনার ক্ষেত্রে ‘শূন্য সহনশীলতা’ দেখানো উচিত।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকজন ব্রিটিশ সমর্থকও একই ধরনের দাবি তুলেছেন। তাদের কেউ কেউ বলেছেন, সংশ্লিষ্ট ফুটবলারদের আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাওয়ার আগ পর্যন্ত তাদের ভিসা বাতিল করা উচিত।

তবে অভিবাসন আইন–সংশ্লিষ্ট এক বিশেষজ্ঞের মত ভিন্ন। তার মতে, শুধু বিশ্বকাপে ‘ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ আর্জেন্টিনার’ লেখা ব্যানার প্রদর্শনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোনো প্রিমিয়ার লিগ ফুটবলারের কর্মভিসা বাতিল করা আইনগতভাবে অত্যন্ত কঠিন হবে।

অর্থাৎ বিতর্কটি রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিলেও, শুধু এই ঘটনার ভিত্তিতে আর্জেন্টাইন ফুটবলারদের যুক্তরাজ্যে খেলার সুযোগ হারানোর সম্ভাবনা আপাতত খুবই কম বলেই মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।