ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬

বিয়ের দাবিতে তরুণীর অনশন, মা-বাবাসহ প্রেমিক পলাতক

পিরোজপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুলাই ২১, ২০২৬, ০৮:০৮ পিএম
ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলায় তিন বছরের প্রেমের সম্পর্কের পর বিয়ের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগে প্রেমিকের বাড়িতে গিয়ে বিয়ের দাবিতে অনশনে বসেছেন এক তরুণী। ঘটনার দিন থেকে কথিত প্রেমিক আব্দুল্লাহ আল ইমন পলাতক রয়েছেন।

সোমবার (২১ জুলাই) দুপুরে অনশনের ৪ দিন পর এ ঘটনায় প্রেমিক ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ওই তরুণী।

ভুক্তভোগী মারজিয়া (১৮) বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার মরিচবুনিয়া গ্রামের সাইদুর রহমানের মেয়ে। অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ আল ইমন (২২) নেছারাবাদ উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পঞ্চবেকী গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয় ব্যবসায়ী তাইজুল ইসলামের ছেলে। অভিযোগে ইমনের বাবা তাইজুল ইসলাম ও মা মুরশিদা বেগমকেও বিবাদী করা হয়েছে।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন বছর আগে ইমনের ছোট বোনের মাধ্যমে মারজিয়ার সঙ্গে ইমনের পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি উভয় পরিবারের সদস্যরাও জানতেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। সম্পর্ক চলাকালে ইমন একাধিকবার মারজিয়াকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ১৭ জুলাই দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ইমনের কথামতো মারজিয়া মরিচবুনিয়া বাজারে গেলে ইমন তাকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে পৌঁছানোর পর ইমনের বাবা-মা তাকে গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানান। একপর্যায়ে ইমনও তাকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান বলে অভিযোগ করেন মারজিয়া। এ সময় স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি ঘটনাটির সাক্ষী ছিলেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরে বিষয়টি আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে আলোচনা করে মারজিয়া নেছারাবাদ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

মারজিয়া বলেন, ইমনের সঙ্গে আমার দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক। সে আমাকে তার নিজ বাড়িতে নিয়ে গিয়ে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে আমার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করে। বিষয়টি তার বাবা-মাও জানতেন। আমাকে বাড়িতে নিয়ে আসার সময় তারাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু এখন ইমন আমাকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে। তাই আমি তাদের বাড়িতে এসেছি। আমি আসার পর তারা সবাই বাড়ি ছেড়ে চলে যায়। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।

অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ আল ইমনের কাছে ঘটনার বিষয়ে জানতে কল করলেও তাকে পাওয়া যায়নি। 

এ বিষয়ে নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান বলেন, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।