ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

র‍্যাব সদস্য হত্যা: নেপথ্যে শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াছিন

রূপালী ডেস্ক
প্রকাশিত: জানুয়ারি ২০, ২০২৬, ০৪:১৬ এএম
শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াসিন। ছবি : সংগৃহীত

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার গহীন পাহাড়ি এলাকা জঙ্গল ছলিমপুরে র‍্যাব–৭ এর ডিএডি (উপ-সহকারী পরিচালক) আব্দুল মোতালেব হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াছিন ও তার অনুসারীরা জড়িত বলে দাবি র‍্যাব ও স্থানীয় সূত্র। পরিকল্পিত হামলার মাধ্যমে সন্ত্রাসীরা র‍্যাবের ওপর অতর্কিত আক্রমণ চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে।

র‍্যাব ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিকাল প্রায় ৪টার দিকে অস্ত্রধারী এক গুরুত্বপূর্ণ আসামিকে গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে র‍্যাবের একটি বিশেষ টিম জঙ্গল ছলিমপুর এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানের খবর পেয়ে শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াছিনের নেতৃত্বে তার অনুসারীরা মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে ৪০০ থেকে ৫০০ জনের একটি দল জড়ো করে।

একপর্যায়ে ওই সন্ত্রাসী দল চারদিক থেকে র‍্যাব সদস্যদের ঘিরে ফেলে। শুরু হয় বেধড়ক মারধর ও হামলা। হামলাকারীরা র‍্যাবের একটি মাইক্রোবাস ভাঙচুর করে এবং ডিএডি আব্দুল মোতালেবকে গুলি করে হত্যা করে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ঘটনায় র‍্যাবের এক সোর্সসহ আরও তিনজন গুরুতর আহত হন। হামলার পর সন্ত্রাসীরা আহতদের আলীনগরের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় তুলে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন চালায়। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাদের উদ্ধার করে এবং চট্টগ্রাম সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করে।

র‍্যাব–৭ থেকে দেওয়া সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, হামলায় ডিএডি আব্দুল মোতালেব ঘটনাস্থলেই নিহত হন। আহত তিনজন বর্তমানে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। র‍্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হামলাটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত এবং সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের অংশ।

স্থানীয় এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এদিন বিকেলে এলাকায় একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি চলছিল। ওই সময় র‍্যাব সদস্যরা সন্দেহভাজন আসামি খুঁজতে গেলে ইয়াছিন বাহিনীর সদস্যরা সংগঠিতভাবে হামলা চালায়।

স্থানীয়দের তথ্যমতে, জঙ্গল ছলিমপুর ও আলীনগর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াছিনের প্রভাব রয়েছে। সরকারি খাস পাহাড় কেটে প্লট বাণিজ্য, চাঁদাবাজি ও অবৈধ অস্ত্র কারবারের মাধ্যমে তিনি এলাকাটিতে অঘোষিত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেন। পানি, বিদ্যুৎ, পরিবহন ও দোকানপাট থেকে নিয়মিত বিপুল অঙ্কের চাঁদা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

২০২৪ সালের পর থেকে ইয়াছিন ও প্রতিদ্বন্দ্বী বাহিনীগুলোর মধ্যে একাধিকবার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়েছে, যাতে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের পরও ইয়াছিন বাহিনী পুনরায় এলাকায় সক্রিয় হয়ে ওঠে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

র‍্যাব সদস্য হত্যার ঘটনার পর ছিন্নমূল, আলীনগর ও লিংক রোড এলাকায় বিপুল সংখ্যক র‍্যাব, পুলিশ, বিজিবি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। জঙ্গল ছলিমপুরে সাঁড়াশি অভিযান চলছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াছিন ও তার সহযোগীদের গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত অভিযান চলবে।