চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক মাঠে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। আওয়ামী লীগের শাসনামলে আলোচিত সন্ত্রাসী ও শীর্ষ মাদক কারবারি হিসেবে পরিচিত আখতার হোসেন এখন প্রকাশ্যে বিএনপির নির্বাচনি প্রচারে সক্রিয়—এমন অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিএনপির এক প্রার্থীর ছেলের সঙ্গে আখতার হোসেনের ঘনিষ্ঠ ছবি ছড়িয়ে পড়লে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দেয়। রাজনৈতিক মঞ্চে একজন তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসীর প্রকাশ্য উপস্থিতিকে অনেকেই সন্ত্রাসের পুনর্বাসনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।
স্থানীয় ও প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, আখতার হোসেন (৪০) চট্টগ্রাম জেলার সরকারি সন্ত্রাসী তালিকায় ৪২ নম্বরে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে একাধিক মাদক ও সন্ত্রাস-সংক্রান্ত মামলা রয়েছে বলেও জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তার প্রকাশ্য রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, আনোয়ারা উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মরিয়ম বেগম বদনীর ছেলে আখতার হোসেন দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবার, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ। বর্তমানে তিনি বিএনপির ব্যানারে প্রচারে অংশ নিচ্ছেন বলে দাবি করা হচ্ছে।
বিএনপির ত্যাগী ও মাঠ পর্যায়ের কয়েকজন নেতাকর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, দলের কিছু সুবিধাভোগী ও তথাকথিত ‘হাইব্রিড’ নেতার আশ্রয়ে একজন চিহ্নিত ব্যক্তি সামনে চলে আসছেন। এতে দলের দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে তাদের অভিযোগ।
তারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এ ধরনের ব্যক্তিরা প্রভাব বিস্তার করলে এলাকায় পুনরায় মাদক, অস্ত্র ও চাঁদাবাজির দৌরাত্ম্য বাড়তে পারে।
এদিকে প্রশাসনের নীরবতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তাদের মতে, একজন তালিকাভুক্ত আসামি যদি প্রকাশ্যে রাজনৈতিক প্রচারে অংশ নেন, তাহলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অবস্থান স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
সব মিলিয়ে আনোয়ারার রাজনীতিতে এখন বড় প্রশ্ন—তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা যদি প্রকাশ্যে রাজনীতিতে সক্রিয় থাকেন, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু নির্বাচন কতটা নিশ্চিত হবে?
কর্ণফুলী থানার ওসি মো. শাহীনুর আলম বলেন, তিনি প্রচার চালাচ্ছেন, তা জানা নেই। তবে কেউ যদি কোনো সন্ত্রাসী কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগ দেন, তাহলে পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা নেবে। এ সময় সন্ত্রাসীদের তালিকায় মোহাম্মদ আক্তার ৪২ নম্বরে আছেন—এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান।

