× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

চট্টগ্রাম ব্যুরো

প্রকাশিত: মার্চ ১৮, ২০২৬, ০৮:১৫ পিএম

যন্ত্রপাতি বিক্রি করে শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধ

চট্টগ্রাম ব্যুরো

প্রকাশিত: মার্চ ১৮, ২০২৬, ০৮:১৫ পিএম

ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

চট্টগ্রামের বায়েজিদ এলাকায় একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের বকেয়া বেতন অবশেষে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কঠোর হস্তক্ষেপে পরিশোধ করা হয়েছে। কারখানার যন্ত্রপাতি বিক্রি করে প্রায় ১৬ লাখ টাকা শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করা হয়। বুধবার (১৮ মার্চ) ভোরে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে জে.পি. সনেট লিমিটেড নামের একটি কারখানার মালিকপক্ষ যন্ত্রপাতি বিক্রি করে এই অর্থ পরিশোধে বাধ্য হয়।

কারখানার মালিকপক্ষের প্রতিনিধি সজিব দাস জানান, বিভিন্নভাবে অর্থ সংগ্রহের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়ে শেষ পর্যন্ত যন্ত্রপাতি বিক্রির সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। জেলা প্রশাসনের উপস্থিতিতে শ্রমিক ও মালিকপক্ষের মধ্যে সমঝোতা হওয়ায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ভুক্তভোগী শ্রমিকদের একজন, সিনিয়র অপারেটর মো. মনির হোসেন বলেন, জেলা প্রশাসক সরাসরি হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি সার্বক্ষণিকভাবে তদারকি করেছেন। তিনি মালিকপক্ষকে সতর্ক করে দেন প্রয়োজনে যন্ত্রপাতি বিক্রি করেও বকেয়া পরিশোধ করতে হবে, অন্যথায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর পরই মালিকপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা নেয়।

শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের বায়েজিদ থানার সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, শ্রমিক অসন্তোষের খবর পেয়ে প্রশাসনকে অবহিত করা হয়। তিনি দাবি করেন, জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ না হলে ঈদের আগে শ্রমিকরা তাদের পাওনা পেতেন না।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্লাবন কুমার বিশ্বাস জানান, প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সক্ষমতা না থাকায় যন্ত্রপাতি ও স্টক বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়। প্রথমে ক্রেতা গড়িমসি করলেও জেলা প্রশাসকের কঠোর অবস্থানের কারণে শেষ পর্যন্ত বিক্রি সম্পন্ন হয়। রাত ১২টার দিকে সমঝোতা হয় এবং ভোর ৬টার দিকে পুরো অর্থ পরিশোধ করা হয়।

এদিকে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপমহাপরিদর্শক মোহাম্মদ মাহবুবুল হাসান বলেন, প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকার কারণেই মালিকপক্ষ বকেয়া পরিশোধে বাধ্য হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা জানান, বিষয়টি জানার পরপরই একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে কারখানায় সার্বক্ষণিকভাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। ঈদের আগে তিন মাসের বকেয়া বেতন এবং শ্রমিকদের দুর্দশার কথা বিবেচনা করে যন্ত্রপাতি বিক্রির মতো কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

গত ১৪ মার্চ প্রায় ১৩০ জন শ্রমিক তিন মাসের বকেয়া বেতন-ভাতার দাবিতে কারখানার ভেতরে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে ১৬ মার্চ জেলা প্রশাসন, মালিকপক্ষ, শ্রমিক প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্টদের উপস্থিতিতে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে মালিকপক্ষ যন্ত্রপাতি বিক্রির মাধ্যমে বকেয়া পরিশোধের লিখিত অঙ্গীকার করে।

তবে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে তা বাস্তবায়ন না হওয়ায় ১৭ মার্চ রাত পর্যন্ত শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়তে থাকে। পরে জেলা প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপে ১৮ মার্চ ভোরে যন্ত্রপাতি বিক্রি করে প্রায় ১৬ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়। এর আগে মোট পাওনার মধ্যে ১ লাখ টাকা আংশিক পরিশোধ করা হয়েছিল।

জেলা প্রশাসন জানায়, পুরো প্রক্রিয়ায় মালিকপক্ষ, ক্রেতা ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হয় এবং প্রশাসনের উপস্থিতিতেই অর্থ বিতরণ সম্পন্ন হয়। চার দিনের টানা শ্রম অসন্তোষের অবসান হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট শ্রমিকরা।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!