ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

চকরিয়া হাসপাতালে টিকিট বাণিজ্য, কোয়ার্টারেও অনিয়ম

চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: এপ্রিল ১১, ২০২৬, ০৯:০৫ পিএম
ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ জায়নুল আবেদীনের বিরুদ্ধে বহির্বিভাগে এন্ট্রি ছাড়াই টিকিট বিক্রি এবং সরকারি কোয়ার্টার বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি নির্ধারিত ৩ টাকার টিকিট রোগীদের কাছ থেকে ১০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। প্রতিবাদ করলে সেবাগ্রহীতাদের হেনস্তারও অভিযোগ রয়েছে।

সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিন দুই হাজারের বেশি রোগী টিকিট কেটে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। প্রতি টিকিটে ৭ টাকা বেশি নেওয়া হলে মাসে প্রায় ৪ লাখ টাকা অতিরিক্ত আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ ছাড়াও অভিযোগ রয়েছে, সরকারি কোয়ার্টার নিয়ম অনুযায়ী কর্মচারীদের বরাদ্দ না দিয়ে পছন্দের ব্যক্তিদের থাকতে দেওয়া হচ্ছে। এমনকি বহিরাগতদের কাছেও কোয়ার্টার ভাড়া দিয়ে মাসে বিপুল অর্থ আদায় করা হচ্ছে।

পরিচয় গোপন রেখে অনুসন্ধানে দেখা যায়, কোনো ধরনের এন্ট্রি ছাড়াই টিকিট দেওয়া হচ্ছে এবং এর জন্য ১০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারী রবিউল ইসলাম রিমন ও মোসাম্মৎ রাব্বির কাছে জানতে চাইলে তারা জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার নির্দেশেই এ কাজ করা হচ্ছে। কথা বলার একপর্যায়ে কর্মচারী রিমন কাউন্টার ছেড়ে চলে যান।

এ ছাড়া অনেক রোগী অভিযোগ করেছেন, টিকিট নেওয়ার পরও তারা চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন না। ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, অসুস্থ শরীর নিয়ে সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেও অনেক সময় চিকিৎসকের দেখা না পেয়ে বাড়ি ফিরে যেতে হয়।

এ বিষয়ে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ জায়নুল আবেদীনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মোবাইল ফোনে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি এবং সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

এ ব্যাপারে কক্সবাজারের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মহিউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, ‘এ ধরনের অনিয়মের বিষয়ে আমি অবগত ছিলাম না। এখন জেনেছি। তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এদিকে ভুক্তভোগীরা এসব অনিয়মের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।